মাসিকের ব্যথা কমাতে করণীয়

845

রূপশ্রী ডেস্কঃ

মাসিক প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নারীর জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিয়মিত মাসিক সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ।
তবে মাসিক শুরু হওয়ার পর প্রথম কয়েক বছর পর্যন্ত চক্র নিয়মিত হয় না। এর ফলে কারো কারো মাসিকের সময় অসহনীয় ব্যথাবোধ হতে পারে। বিশেষত কিশোরী মেয়েদের প্রায়ই মাসিকের ব্যথায় ভুগতে হয়। এই ব্যথার কারণে প্রায়ই অল্পবয়সী মেয়েরা স্কুলে যেতে পারে না, খেলাধুলা করতে পারে না, তাদের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা ব্যহত হয়।

কারও কারও তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথা ও অস্বস্তি হয়, যা কোমর, ঊরু ও পা পর্যন্ত ছড়াতে পারে। একে বলা হয় ডিসমেনোরিয়া। এই ব্যথা সাধারণত মৃদু থেকে তীব্র পর্যন্ত হতে পারে এবং মাসিক শুরুর এক দিন আগে থেকে অথবা মাসিক শুরুর দিন থেকে শুরু হতে পারে এ ব্যথা। ১২-৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। সাধারণত ৩০ বছর বয়সের পর থেকে এ সমস্যা ধীরে ধীরে কমে যায়।

মাসিকের ব্যথা সহ্যের সীমা অতিক্রম করে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা যেতে পারে। কিন্তু এ ছাড়াও কিছু কিছু নিয়ম কানুন ও খাদ্যাভ্যাস এই ব্যথার উপশমে ভালো ফল দেয়।

খাদ্যাভ্যাস

মাসিকের সময় ব্যথা কমাতে পারে বেশ কিছু খাবার। যেমন-
• আদাপানি
আদা দিয়ে পানি ফুটিয়ে সেই পানি কুসুম গরম করে পান করলে মাসিকের ব্যথা অনেকাংশে কমে আসে।

• গরম দুধ
গরম বা কুসুম গরম দুধ মাসিকের ব্যথায় ফল দেয়। এতে শুধু ব্যথাই কমে না, মাসিকের রক্তপাতে দুর্বল হয়ে আসা শরীরে বাড়তি পুষ্টিও যোগ করে দুধ।

• কলা
মাসিকের সময় প্রচুর রক্তপাত হয় বলে শরীরে আয়রনের অভাব ঘটে। কলায় প্রচুর আয়রন থাকায় তা আয়রনের অভাব পূরণ করে ও ব্যথার উপশম করতে পারে।

• আনারস
অনেকের মনেই এমন ধারণা রয়েছে যে মাসিকের সময় টক ফল খাওয়া ক্ষতিকর। এই ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়। অনেক ফলই মাসিকের সময় খাওয়া যায়। বিশেষত আনারস মাসিকের ব্যথা কমাতে পারে।

বাসায় করণীয়

  • দৈনিক কমপক্ষে সাত-আট ঘণ্টা ঘুমানো।
  • কম চর্বিযুক্ত এবং বেশি আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া।
  • বেশি বেশি ফল এবং শাকসবজি খাওয়া।
  • পর্যাপ্ত পানি পান করা। বিভিন্ন ধরনের শরবত, ফলের রস, আদা-লেবু-পুদিনা পাতাযুক্ত চা পান করা।
  • মানসিক চাপমুক্ত থাকা।
  • পুষ্টিকর খাবার খাওয়া।
  • অতিরিক্ত চিনি-লবণযুক্ত খাবার, ক্যাফেইন, অ্যালকোহল, তামাক ইত্যাদি পরিহার করা।
  • প্রতিদিন রোদের আলোর সরাসরি সংস্পর্শে ১৫-২০ মিনিট কাটানো।
  •  তলপেটে হট ওয়াটার ব্যাগ দিয়ে গরম পানির সেঁক নেওয়া।
  •  কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করলেও আরাম পাওয়া যায়।
  • হাঁটাহাঁটি করা। হাটার ফলে তলপেট ও উরুর মাংসপেশীর সংকোচন প্রসারণ হয়। এর ফলে মাসিকের রক্তপাত সহজ হয় ও যন্ত্রণা কমে আসে।

কিছু স্ট্রেচিং ব্যায়াম

* মেঝেতে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে কোমর থেকে শরীরের ওপরের অংশ এমনভাবে ভাঁজ করুন, যাতে হাতসহ শরীরের ওপরের অংশ মেঝের সমান্তরালে থাকে। হাঁটু যাতে ভাঁজ না হয়। এ অবস্থায় পাঁচ সেকেন্ড থাকুন।

* পায়ের আঙুলের ওপর ভর করে সোজা হয়ে দাঁড়ান। এবার হাত দুটো সামনে টান টান করে প্রসারিত করুন। এ অবস্থায় পাঁচ সেকেন্ড থাকুন।

* হাফ স্কোয়াটিং পজিশনে বসে হাত দুটো সামনে টান টান করে প্রসারিত করুন। এ অবস্থায় পাঁচ সেকেন্ড থাকুন।

* মেঝেতে দুই পা ফাঁক করে দাঁড়ান। এবার ডান হাত দিয়ে বাঁ পায়ের গোড়ালি ধরার চেষ্টা করুন। এই সময় বাঁ হাত উঁচু করে বাঁ দিকে তাকানোর চেষ্টা করুন। এ অবস্থায় পাঁচ সেকেন্ড থাকুন। একইভাবে অপর হাত দিয়েও ব্যায়াম করুন।

কোর শক্তিশালীকরণ ব্যায়াম

* ম্যাটের ওপর দুই পা ভাঁজ করে চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন। হাত দুটো শরীরের সমান্তরালে রাখুন। এবার পায়ের ওপর ভর করে কোমর ওপরে ওঠান। এ অবস্থায় পাঁচ সেকেন্ড থাকুন।

* ম্যাটের ওপর উপুড় হয়ে কনুই ও পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে শরীর মেঝের সমান্তরালে ওপরে ওঠান। এ অবস্থায় পাঁচ সেকেন্ড থাকুন।

* ম্যাটের ওপর দুই পা ভাঁজ করে চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন। এবার দুই হাত মাথার পেছনে রেখে ঘাড়সহ মাথা সামনে প্রসারিত করুন। এ অবস্থায় পাঁচ সেকেন্ড থাকুন। এই ব্যায়ামসহ ওপরের সব ব্যায়াম ১০ বার করে করতে পারেন।

রূপশ্রী/এম