দায়িত্বে ফিরেছেন পুলিশ

459

রূপশ্রী প্রতিবেদন, ঢাকা:
কোটা আন্দোলনের সহিংসতার জেরে এক সপ্তাহ অচলাবস্থার পর রাজধানীর সড়কে আবার কাজে ফিরেছেন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। দেশের থানাগুলোতেও শুরু হয়েছে কার্যক্রম। অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নির্দেশের পর ধীরে ধীরে কাজে ফিরতে শুরু করেছেন পুলিশ সদস্যরা৷ এরমধ্যে দেশের মোট ৬৩৯টি থানার মধ্যে ৬২৮টি থানায় শুরু হয়েছে কার্যক্রম।
সোমবার (১২ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বাংলা মোটর, কারওয়ান বাজার, বিজয় সরণি, জাহাঙ্গীর গেইট এবং মহাখালীসহ বিভিন্ন জায়গায় ট্রাফিক পুলিশকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। এসব জায়গায় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা এখনও আছেন। তবে গত কয়েকদিনের তুলনায় তাদের সংখ্যা কম।

এর আগে, রবিবার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বৈঠক হয় আন্দোলনরত পুলিশ সদস্যদের। এসময় পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতাসহ বিভিন্ন দাবি দাওয়া তুলে ধরেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তাদের সার্বিক বিষয়ে আশ্বস্থ করেন। বৈঠকে পুলিশের ইউনিফর্ম ও লোগো বদলের সিদ্ধান্তও হয়। বৈঠকের পর আন্দোলনরত পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ক পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম ও কনস্টেবল শোয়াইব হাসান তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেন।
তারা বলেন, ‘সরকারের কাছে যেসব দাবি জানিয়েছিলাম তার বেশিরভাগই মেনে নেয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তাই আমরা কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিচ্ছি। আশা করি সবাই সুন্দরভাবে নিজেদের দায়িত্বে ফিরবেন।’
বৈঠকে বাংলাদেশেরস্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব মশিউর রহমান, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. ময়নুল ইসলাম, বিজিবির মহাপরিচালক, পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক-সহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

থানায় ফিরেছেন পুলিশ, শুরু হয়েছে কার্যক্রম

সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশ কর্মীদের বলা হয়, কিছু দাবি খুব কম সময়ের মধ্যে মানা হবে। কিছু দাবি দীর্ঘকালীন ভিত্তিতে মানা হবে। পুলিশের উপর হামলা বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা পুলিশের ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের জানাতে হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) এম সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ”পুলিশ কর্মীরা যে দাবিদাওয়া পেশ করেছে, সেগুলো যৌক্তিক। তাই আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে আমরা স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে তাদের দাবিগুলো মেনে নেব। কিছু দাবি আমরা এখনই মেনে নেব।”

আন্দোলনরত পুলিশ সদস্যদের দাবি ছিল, পুলিশ কর্মী ও পুলিশি স্থাপনায় ধ্বংসযজ্ঞ চালানো ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে, নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারকে এককালীন আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, পুলিশের নিয়োগ বিধিমালা বিশেষত সাব-ইন্সপেক্টর এবং সার্জেন্ট নিয়োগ পিএসসির অধীনে এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টারের অধীনে কনস্টেবল নিয়োগে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে ইত্যাদি।