ইউএন উইমেন জরিপঃ ঘরে কাজ বেড়েছে নারীর

1157

রূপশ্রী ডেস্কঃ

সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের ফলে নারীদের কাজের হার পুরুষদের তুলনায় অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। নারীদের বেতন ছাড়াই ঘরের অতিরিক্ত কাজ ও পরিবারের সকলের বাড়তি যত্ন করতে হচ্ছে । করোনায় গৃহস্থালির অতিরিক্ত কাজের চাপ, আয় কমে যাওয়া, চাকরি হারানো এবং পারিবারিক নির্যাতনের কারনে নারীদের মধ্যে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ আশঙ্কাজনক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ইউএন উইমেন’এর এপ্রিলের শেষে প্রকাশ করা একটি জরিপে বলা হয়েছে, গৃহস্থালি পরিষ্কার করার কাজ, রান্নার কাজ সব দেশেই নারীরা একচেটিয়াভাবে করছেন। পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য দেখভালসহ শিশুদের যত্ন নেওয়ার কাজটি বেতন ছাড়াই করছেন নারীরা। সব দেশেই এই ভাইরাস সংক্রমণের পর থেকে অবৈতনিক গৃহস্থালির কাজের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিশুর সুরক্ষা, বয়স্কদের সুরক্ষা ও গৃহস্থালির কাজ। অন্যদিকে পুরুষরা বাজার করা, ঘর সংস্কার ও শিশুদের সঙ্গে খেলছেন। তারা সাধারণত শিক্ষাদান ও প্রশাসনিক কাজের দায়িত্ব পালন করছেন।

এই সময়ে দেশে দেশে ক্ষেত্রবিশেষে গৃহস্থালির পণ্যগুলোর সরবরাহও কমে এসেছে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে যাদের পারিবারিক ব্যবসা, নিজস্ব ফার্ম ও বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থে সংসার চলত তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ ছাড়া নারীরা জানান, পারিবারিক সঞ্চয় এবং পরিবারের সদস্যদের থেকে প্রাপ্ত আর্থিক সহায়তায়ও টান পড়েছে।

করোনাকালে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সবচেয়ে বেশি কঠিন। গবেষণায় বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণকারী নারীদের অর্ধেকই জানান, প্রয়োজনের সময় তারা চিকিৎসকের কাছ থেকে কোনো সেবা পাচ্ছেন না। নারীদের বেশির ভাগেরই স্বাস্থ্যবীমা নেই।

আবার বাংলাদেশের নারীদের চিকিৎসকের সেবা পেতে পুরুষের তুলনায় বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করতে হয়। এ ছাড়া নারী-পুরুষ উভয়ের চিকিৎসা সরঞ্জামাদি, সুরক্ষা পণ্য ও খাবার পেতে কষ্ট হচ্ছে।

এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে নারীরা পুরুষের তুলনায় কভিড-১৯ সম্পর্কিত তথ্য নিয়ে খুব একটা আগ্রহী নন। নিজস্ব মোবাইল ফোন না থাকা, ইন্টারনেট সংযোগ না থাকা এবং শিক্ষার অভাবে নারীরা  গুরুত্বপূর্ণ এই তথ্য থেকে  দূরে আছে। কিন্তু বাড়ি জীবাণুমুক্ত রাখা এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ রাখার দায়িত্ব যেহেতু একজন নারীর, এ জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো তাদের জেনে রাখা প্রয়োজন।

তবে গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৩৫ থেকে ৮০ শতাংশ উল্লেখ করেছেন যে, তাদের ছেলেসন্তানরা আগের চেয়ে তাদেরকে বেশি কাজে সাহায্য করছে।

নারীদের তুলনায় কম হলেও বাংলাদেশের পুরুষরাও করোনার কারণে মানসিক চাপে আছেন বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়।

ইউএন উইমেনের এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক শাখা এপ্রিলে এ অঞ্চলের নারী-পুরুষদের ওপর এই জরিপ করে। এতে বাংলাদেশের ২ হাজার ৩৫০ জন, কম্বোডিয়ার ১ হাজার ১৬৪ জন, মালদ্বীপের ৪ হাজার ৭৫৪ জন, পাকিস্তানের ২ হাজার ৬৬৮ জন, ফিলিপাইনের ১ হাজার ৮৮৭ জন এবং থাইল্যান্ডের ৫ হাজার ৩১ জন নারী-পুরুষ অংশ নেন।

সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

রূপশ্রী / টিআর