রূপশ্রী ডেস্ক
৩ জুলাই, ঢাকা: শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, করোনা ভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বর্তমান শিক্ষাবর্ষ আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত বাড়তে পারে। এজন্য শ্রেণি ঘণ্টার সঙ্গে সমন্বয় করে কমানো হতে পারে মাধ্যমিক স্তরের বিভিন্ন শ্রেণির সিলেবাস। এই পদক্ষেপের কারণে আগামী শিক্ষা বছরের সব ঐচ্ছিক ছুটি কমিয়ে আনা হতে পারে। এছাড়া যেসব পরীক্ষা এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি সেগুলোর সংখ্যা কমিয়ে আনা যায় কি না তাও ভাবছি। তবে কারিগরি শিক্ষায় যতটুকু শিখন ও দক্ষতা কাম্য সেটুকু যদি শিক্ষার্থীরা অর্জন করতে না পারে তাহলে তাদেরকে সার্টিফিকেট দেওয়া হবে না।
সম্প্রতি এডুকেশন রিপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত অনলাইন ভার্চ্যুয়াল সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ‘করোনাকালে শিক্ষার চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক এ ভার্চুয়াল সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন, শিক্ষা সচিব (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা) মো. মাহবুব হোসেন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ, ভিকারুন্নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. ফারহানা খানম। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মুসতাক আহমদ।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে আমরা কোটি কোটি শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারি না। তাদের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্কুল-কলেজ খোলা হবে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় যে ক্ষতি হবে তা পুষিয়ে নিতে আমরা কিছু পরিকল্পনা তৈরি করেছি। তিনি বলেন, একটি শিক্ষাবর্ষে আমরা ১৪০-১৪২ দিন পড়িয়ে থাকি। বাকিটা ছুটি থাকে। তাই এবছর শিক্ষাবর্ষ বাড়াতে হলে আগামী বছরের ছুটি কমিয়ে হলেও তা করা হবে। তবে সিলেবাস কমানো হলেও জ্ঞানার্জন ও দক্ষতা অর্জনের ব্যাপারে কোনো আপোষ করা হবে না।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ট্র্যাডিশনাল প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসরুম বা ল্যাবরেটরি কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ ছাড়া শিক্ষার্থীরা শিখতে পারবে না, প্রযুক্তির এই যুগে এটা বলা ঠিক হবে না। যেহেতু ভার্চুয়াল ল্যাবরেটরির সুবিধাটি রয়েছে, আমরা চেষ্টা করবো সে সুযোগটি কাজে লাগানোর জন্য। দেশের সংসদ টিভির মাধ্যমে চলমান ভার্চ্যুয়াল ক্লাসগুলোর সাফল্যের কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাঠ পর্যায়ের জরিপে আমরা জানতে পেরেছি, সংসদ টিভির ক্লাসগুলো মোবাইল ফোনসহ প্রযুক্তির বিভিন্ন মাধ্যমে প্রায় ৯০ ভাগ শিক্ষার্থী কাছে পৌঁছেছে। তবে এখনো ১০ ভাগ শিক্ষার্থীর কাছে সংসদ টিভির ক্লাসগুলো পৌঁছায়নি। কিন্তু এই দশভাগকে পিছনে ফেলে আমরা সামনে এগিয়ে যাব না। তাই আমরা টোল ফ্রি মোবাইল সুবিধা দেব, ইতিমধ্যেই উদ্যোগ নিয়েছি। যা খুবই দ্রুত চালু করতে যাচ্ছি, যার মাধ্যমে সেই ১০ ভাগ শিক্ষার্থীও শিক্ষকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার মাধ্যমে পাঠের সুযোগ পাবে। আবার যেখানে এই ডিজিটাল সেবা পৌঁছাতে পারবে না, সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিভাবে পাঠ দান করতে পারে সেই বিষয়ে আমরা ভাবছি।
শিক্ষা সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও আগের মতো এক বেঞ্চে ৪ জন না বসিয়ে দুই অথবা তিন জন বসতে দেওয়া হবে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হবে। অনির্ধারিত ছুটি পুষিয়ে নিতে আমরা সিলেবাস, বার্ষিক ছুটি কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ইন্টারনেট মানুষের হাতের নাগালে রাখতে হবে এজন্য সরকারকে এ খাতে প্রণোদনা দিতে হবে। মনে রাখতে হবে শিক্ষার একটি প্রজন্ম হারিয়ে গেলে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।
#
রূপ্রশ্রী/এসটি







