প্রিন্সেস ডায়ানার ভূমিকায় এবার বেলা খ্যাত ক্রিস্টেন

992

রূপশ্রী ডেস্ক

শুক্রবার (২৭ জুন) ঢাকাঃ

‘টোয়াইলাইট’ খ্যাত আমেরিকান অভিনেত্রী ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট এবার পর্দায় আসছে প্রিন্সেস ডায়ানার জীবনের সবচেয়ে অভূতপূর্ব সময়টি চিত্রিত করতে। রূপকথার রাজকন্যা ডায়নার জীবন রূপকথা কেও হার মানায়। লেডি ডায়ানা থেকে প্রিন্সেস হয়ে ওঠা আবার বিশ্বের ক্ষমতাশীল দেশের রানি হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ, রাজপ্রাসাদের বিত্ত-বৈভব ছেড়ে সাধারন জীবন যাপনে ফিরে আসা সবকিছুই যেন শুধুমাত্র প্রিন্সেস ডায়নার জীবনেই সম্ভব। তাই কোটি মানুষের হৃদয়ে প্রিন্সেস ডায়ানা আজো বেঁচে আছে প্রিয় রাজকন্যা হয়ে।

প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে প্রয়াত রাজবধূর বিয়েবিচ্ছেদের ঘটনা নিয়ে নব্বই দশকের প্রেক্ষাপটে তৈরি হবে ‘স্পেন্সার’ ছবিটি। সব মিলিয়ে তিন দিনের একটু বেশি সময়ের গল্প বলা হবে। ২০২১ সালে ছবিটির শুটিং শুরু হওয়ার কথা। তবে চার্লস চরিত্রে কে অভিনয় করবেন তা এখনো জানানো হয়নি।
গল্পের শুরু হবে ইংল্যান্ডের নরফোকে অবস্থিত সান্ড্রিংহামে হাউজ অব উইন্ডসরে কাটানো প্রিন্সেসের শেষ বড়দিনের মধ্যে দিয়ে। কাহিনিতে দেখা যাবে, স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ার বিষয়টি বড়দিনের ছুটিতে উপলব্ধি করেন ডায়ানা।

১৯৮১ সালে প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে বিয়েবন্ধনে জড়ান প্রিন্সেস ডায়ানা। এরপর ‘প্রিন্সেস অব ওয়েলস’ খেতাব যোগ হয় তার নামের পাশে। ১৯৯২ সালে স্বামীর সংসার থেকে বেরিয়ে যান ডায়ানা এবং ১৯৯৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়েবিচ্ছেদ হয় তাদের। এর পরের বছর ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত হন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৩৬ বছর।

 

ডেডলাইনকে ছবিটির পরিচালক চিলির পাবলো লারেন বলেন, ‘একজন নারী যখন রানি হওয়ার পরিবর্তে সাধারণ জীবনযাপন চান তখন তা বিশাল এক সিদ্ধান্তই বটে। ব্যাপারটা রূপকথার মতোই। আমরা সেই সত্যি গল্পের ভেতর ঢোকার চেষ্টা করবো। চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাতের আগে জীবনটা যেমন ছিল, তিনি সেটি ফিরে পেতে চেয়েছিলেন। তার জীবনের গল্প কোটি কোটি মানুষের মন ছুঁয়ে গেছে। তাই আমরা ছবিটি বানাচ্ছি।’
বুধবার (১৭ জুন) হলিউডভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেডলাইন জানিয়েছে, ‘স্পেন্সার’-এর চিত্রনাট্য তৈরি করছেন ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স’ টিভি সিরিজের স্রষ্টা স্টিভেন নাইট। ছবির এই নাম বেছে নেওয়ার কারণ ডায়ানার প্রকৃত নাম ‘লেডি ডায়ানা স্পেন্সার’।

তবে রাজ পরিবারের বিশেষজ্ঞরা ফক্স নিউজকে জানান অন্য কথা। ব্রিটিশ রাজ পরিবারের এমন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির চরিত্রে একজন আমেরিকান অভিনেত্রীর অভিনয়ের ব্যাপারে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

অনেকে মনে করছেন ‘টোয়াইলাইট’ ছবির খ্যাতির কারণে ক্রিস্টেনের একটি বড় ফ্যান গ্রুপ তৈরি হয়েছে, সেই দর্শকদের কথা মাথায় রেখে কমার্শিয়াল লাভের আশায় ক্রিস্টেনকে বাছাই করা হয়েছে। ব্রিটিশ জনগণের মতে  একজন ব্রিটিশ অভিনেত্রীই এই আইকনিক চরিত্রে বেশি মানানসই হত। প্রিন্সেস ডায়ানার ফ্যানরা এই কাস্টিং’য়ে আরো ক্ষুদ্ধ হওয়ার কারণ ক্রিস্টেনের সাথে প্রিন্সেস ডায়ানার চেহারার কোন সামঞ্জস্যই নেই।

এর উত্তরে পরিচালক পাবলো লারেন বলেন, গত কয়েক বছর ধরে অভিনেত্রী হিসেবে দক্ষতার প্রমাণ রেখেছেন ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট। পরিচালক পাবলো লারেন মনে করেন, ‘ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট তার সময়ের সেরা অভিনেত্রীদের একজন। তার ছবিগুলো দেখেছি, নানান রঙের চরিত্র রূপায়ণ করতে সক্ষম। অভিনেত্রী হিসেবে তার বৈচিত্র্য ও দক্ষতা অন্যরকম। তার অভিব্যক্তি বেশ রহস্যময়। কখনও মনে হবে তিনি ভেঙে পড়বেন, কখনও খুব শক্তিশালী। ডায়ানা চরিত্রের জন্য এটাই আমাদের প্রয়োজন। এসব উপাদানের সংমিশ্রণ আছে বলেই তাকে ভেবেছি। শুধু দৃষ্টি দিয়েই সবকিছু ধারণ করে ফেলতে পারে এমন একজনকে পেলে বোঝা যায়, তিনি কাঙ্ক্ষিত সেরাটা দিতে পারবেন। আমার তো মনে হচ্ছে, তিনি একইসঙ্গে বিমুগ্ধ ও কৌতূহলী করবেন দর্শকদের।’

২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত হলিউডের ব্যবসাসফল ‘টোয়াইলাইট’ সিরিজের ছবিতে বেলা সোয়ান চরিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি পান ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট। সবশেষ গত বছর “চার্লি’স অ্যাঞ্জেলস” রিমেকে দেখা গেছে তাকে। ৩০ বছর বয়সী এই তারকার আরেক বিখ্যাত ছবি ‘স্নো হোয়াইট অ্যান্ড দ্য হান্টসম্যান’ (২০১২)।

এছাড়া ২০১৩ সালে ‘ডায়ানা’ ছবিতে প্রিন্সেস ডায়ানা চরিত্রে অভিনয় করেন ব্রিটিশ তারকা অভিনেত্রী নাওমি ওয়াটস। জার্মান পরিচালক অলিভার হার্শবিগেল তুলে ধরেন ডায়ানার জীবনের শেষ দুই বছর। সামনে নেটফ্লিক্সের ‘দ্য ক্রাউন’ সিরিজের চতুর্থ মৌসুমে থাকবে ডায়ানার কথা। এতে অভিনয় করবেন নবীন তারকা এমা করিন।

তথ্যসূত্র: বিবিসি, ফক্স নিউজ

রূপশ্রী/এম