চারিদিকে করোনার প্রকোপ আবার গরমে অস্থির অবস্থা। তাই বলে কোন কিছু তো থেমে থাকলে চলবে না। এই গরমেও সুস্থ থাকার জন্য আমাদের এক্সারসাইজ করতে হবে। কিভাবে ব্যস্ত দিন যাপনের মধ্যে দিয়েও আমরা সুস্থ ও ফিট থাকতে পারি তা আমাদের জানিয়েছেন জিম গার্ল নেহা রিজওয়ান। চলুন জেনেই নেহা কি বলেন-
গরমে একে তো অসহ্য হাঁসফাঁস অবস্থা। এর মধ্যে আবার নাকি এক্সারসাইজ। ধুর, ফিট থাকা যায় নাকি গরমে? যারা এসব ভাবেন তাদের জন্য আজকের এই লেখা।
গরমে নিজেকে ফিট রাখতে আর সুস্থ থাকতে এক্সারসাইজ করতে হবে। এর সাথে নো কম্প্রোমাইজ! বছরের যেকোনো সময় সুস্থ্য থাকতে চাইলে নিয়মিত এক্সারসাইজ করতেই হবে। গরম পড়েছে বলে যে ওজন বাড়বে না তা কিন্তু নয়; বরং তীব্র গরমে শারীরিকভাবে দুর্বল হওয়া থেকে আমাদের কিন্তু এক্সারসাইজই বাঁচায়।
আরও একটা কথা, সামার স্পেশ্যাল এক্সারসাইজ বলে কিছু নেই। নরম্যাল যেসব এক্সারসাইজ করেন, সেগুলোই করতে পারেন। তবে অতিরিক্ত গরমের সময় এয়ার সার্কুলেশন কম এমন জায়গায় বা জিমে দুপুরে এক্সারসাইজ করা ঠিক নয়। এক্সপার্টরা বলে থাকেন তাতে হিট স্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন ইত্যাদির সমস্যা দেখা দেয়, তাই যাই করবেন এক্সপার্ট বা নিজের ট্রেইনারের সাথে পরামর্শ করে নেবেন। এসময় এক্সারসাইজে ঘাম বেশি হয়, তাই হালকা ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ করতে পারেন। যারা ওয়ার্কিং ওম্যান লম্বা অফিস টাইমের পর এক্সারসাইজের সময় পান না, কিংবা অনেকের বাচ্চা আছে একারণে জিমে যেতে পারেন না বাসায় এক্সারসাইজ করছেন, তাদের জন্য রইল জরুরি কিছু পয়েন্ট-
।। অফিস থেকে ফেরার পথে বা আশেপাশে যেকোনো জায়গায় যাওয়ার সময় রিকশা না নিয়ে হেঁটে যান অথবা দিনের যেকোনো সময়ে কিছুক্ষণ অযথা হাঁটাহাঁটি করুন।
।। এক্সারসাইজের জন্য হাঁটাহাঁটি করতে ইচ্ছা না হলে কোনো শপিং সেন্টারে বা মার্কেটে ঘুরতে যেতে পারেন। সেখানে কিছু পছন্দের বা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও কেনা হবে আবার আপনার একরকম এক্সারসাইজ হয়ে যাবে। করোনা কালীন স্বাস্থ্যবিধি মেনে অবশ্যই।
।। ইয়োগাও করতে পারেন। এটি কোনো ঘাম না ঝরালেও শরীর সুস্থ রাখতে এবং আপনাকে ফিট রাখতে অনেক সাহায্য করবে।
।। বাসায় বা অফিসে বা অন্য কোথাও ওপরে উঠতে লিফট ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। হার্টের সমস্যা না থাকলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন। আপনার সারা দিনের অন্যতম এক্সারসাইজ মাধ্যম হতে পারে সিঁড়ি দিয়ে কয়েকবার ওঠানামা করা।
।। দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে কমপক্ষে ১০ মিনিট দড়ি-লাফ দিন। দিনে দিনে সময় আরও বাড়িয়ে দিন। কম সময়ে সহজ ব্যায়াম এটি।
।। দুপুরে ও রাতে খাওয়ার পর ছাদে বা বাড়ির সামনের ফাঁকা জায়গায় বা সামনের রাস্তায় একটু হেঁটে আসুন। এই ছোট ব্যায়াম আপনার খাবার হজম করতে এবং শরীর ফিট রাখতে সহায়তা করবে।
।। গরমে সবচেয়ে ভালো এক্সারসাইজের একটা হলো সুইমিং। এতে গরম লাগার ভয় তো নেই-ই উল্টো এটা হোলবডি এক্সারসাইজের জন্য বেষ্ট। তবে সুইমিংয়ে সময় বেশি পানি পান করতে হবে।
।। নিজের শরীরকে গরম আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় দিন। প্রথম কয়েক দিন একটু কম সময় লাগবে, কম কষ্ট হবে এ রকম কিছু ব্যায়াম করুন। এরপর ধীরে ধীরে সময় বাড়িয়ে নিন।
।। রাতের বেলা ভালো করে ধুয়েমুছে শুয়ে পড়ুন মেঝের ওপর। মেঝের শীতলতা আপনাকে গরম থেকে মুক্তি দেবে। আর আপনার কোমরে কিংবা পিঠে ব্যথা থাকলে তা সারিয়ে দেবে।
।। বিভিন্ন ধরনের স্ট্রেচিং ব্যায়াম, যেমন—আর্ম স্ট্রেচিং বা লেগ লিফটিং করতে পারেন। এতে খুব একটা ঘাম হয় না কিন্তু রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় এবং বিভিন্ন অংশের চর্বি ঝরে যায়।
।। দিনের কিছু সময় ধরে সাইকেল চালানোর অভ্যাস করতে পারেন। সাইকেল চালানোতে একদিকে যেমন ব্যায়াম হয়ে যাবে, অন্যদিকে গরমের প্রকোপ আপনাকে স্পর্শ করবে না।
আশা করি সবার জন্য পয়েন্টগুলো বেশ হেল্পফুল হবে। মনে রাখবেন আনহেলদি লাইফ থেকে একটা হেলদি লাইফস্টাইল বেছে নেয়াটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জে শরীরের অতিরিক্ত ক্যালোরি বার্ন করে নিজেকে পারফেক্ট ওয়েটে নিজেকে নিয়ে আসাটাই জীবনের বড় লক্ষ্য। ফিটনেস অর্থ নিজেকে ফিট রেখে সুস্থ্য থাকা। ডায়েট, জিম বা এক্সারসাইজের বাহানা দিয়ে নিজের শরীরকে “জিরো ফিগার” নামের ভবিষ্যৎ ভয়াবহতা উপহার দেয়া নয়।
নেহা রেজওয়ান
সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার, জিম গার্ল, ফিটনেস এন্থুসিয়াস্ট, পারসোনাল লাইফস্টাইল ব্লগার
রূপশ্রী/এসএম







