রাত পোহালেই ঈদ

772

স্বাস্থ্যবিধি মানতে ১৩ নির্দেশনা

রূপশ্রী প্রতিবেদন

ঢাকা: বন্যা ও করোনা মহামারীর মধ্যে বাঙালী মুসলমানের জীবনে এসেছে মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম ঈদ উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। রাত পোহালেই কাল শনিবার সারা দেশে উদযাপিত হবে ঈদ। সকাল বেলা সবাই ছুটবেণ ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য। তবে করোনা মহামারি বিস্তার রোধে এবার রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহসহ দেশের কোনো ঈদগাহ ও খোলা মাঠে ঈদ জামাত হবে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবারের ঈদ ও কোরবানি সম্পন্ন করার জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় ১৩ দফা নির্দেশনা জারি করেছে। এবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের মসজিদগুলিতে অনুষ্ঠিত হবে ঈদের জামাত। ঈদ জামাত থেকে ফিরে সামর্থ্যবানরা মেতে উঠবেন পশু কোরবানী করে গোস্ত ভাগ-বাটোয়ার কাজে। কোরবানীর গোস্ত তিনভাগ করে নিজেদের জন্য একভাগ রেখে আত্মীয়-পরিজন ও গরীব দুস্থদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া সুন্নাত। নিজের টাকায় কেনা গোস্ত সবার মাঝে বিলিয়ে দেয়ার মাধ্যমেই কোরবানী দাতারা মহান রব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য চেষ্টা করে থাকেন। এজন্য এই ঈদকে কোরবানির ঈদও বলা হয়।

পবিত্র কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর আত্মত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এই ঈদুল আজহা। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তিনি নিজ পুত্র ঈমাইলকে (আ:) কোরবানী করতে উদ্যত হয়েছিলেন। তাঁর আন্তরিকতায় সন্তুষ্ট হয়ে মহান রাব্বুল আলামীন বেহেস্ত থেকে ফেরশতার মাধ্যমে দুম্বা পাঠিয়ে ইব্রাহীম (আ:) -এর কোরবানী বা আত্মত্যাগের ইচ্ছাকে কবুল করে নেন। এজন্য তিনি পেয়েছেন মুসলিম বিশ্বের জাতির পিতার মর্যাদা। হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নাত অনুসারেই এদিন পশু কোরবানি করা হয়ে থাকে।

চলমান করোনা ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে এবারের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে পড়েছে। তারপরও পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের উৎসবে শামিল হতে অনেকে ছুটে গেছেন গ্রামের বাড়ি। এরমধ্যে অনেকেই কোরবানির পশু কিনে ফেলেছেন। রাজধানীসহ দেশে এবার স্বাস্থ্যবিধি  মেনে সীমিত সংখ্যক কোরবানীর হাট বসেছে। অনেক ক্রেতা-বিক্রেতা অনলাইন প্লাটফরম ব্যবহার করেও কোরবানীর পশু কেনা-বেচা করেছেন।

এবার রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের ছয়টি জামাত হবে। এখানে প্রথম জামাত সকাল ৭টায়, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে, তৃতীয় জামাত সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে, চতুর্থ জামাত সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে, পঞ্চম জামাত সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে এবং ষষ্ঠ ও সর্বশেষ জামাত বেলা ১১টা ১০ মিনিটে হবে।  স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে ঈদ জামাতে অংশ নেওয়ার জন্য মুসল্লিদের নিজ নিজ জায়নামাজ সঙ্গে করে আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশের শহর-বন্দ-গ্রামের মসজিদগুলিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজস্ব বেধে দেওয়া সময় অনুযায়ী ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইলাল্লাহু, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ’- তকবির বলতে বলতে ঈদ জামাতে হাজির হওয়া সুন্নাত। এছাড়া ঈদের আগের থেকে ১৩ জিলহজ পর্যন্ত প্রতিদিন প্রতিওয়াক্তের ফরজ নামাজ শেষে এই তালবিয়া পাঠ করাও সুন্নাত।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ১৩ নির্দেশনা

পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজের জামাত আদায় প্রসঙ্গে ১৩ দফা নির্দেশনা জারি করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এতে সরকারের জারিকৃত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ কর নিম্নবর্ণিত শর্তসাপেক্ষে মসজিদে মসজিদে ঈদের নামাজের জামাত আদায়ের আহ্বান জানানো হয়। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে,

মুসল্লীদের নিকটস্থ মসজিদে নামাজ আদায় করতে হবে।

প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামাত আয়োজন করতে হবে।

নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে।

এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে অর্থাৎ দুই কাতারের মাঝে এক কাতার খালি রাখতে হবে।

শিশু, বৃদ্ধ, যে কোনো ধরনের অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ঈদের নামাজের জামাতে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে।

মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না।

নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে।

মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন।

সবাইকে বাসা থেকে অজু করে মসজিদে আসতে হবে এবং অজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ নিশ্চিতকল্পে মসজিদে অজুর স্থানে সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার/হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে।

মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে।

মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধকল্পে মসজিদে জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করতে হবে।

এছাড়া পবিত্র ঈদের নামাজ শেষে করোনাভাইরাস মহামারী থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া করার জন্য খতিব ও ইমামদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

রূপশ্রী/এইচবি/ধর্ম/ইসলাম/ঈদ