রূপশ্রী ডেষ্ক
৫ জুলাই, ঢাকা: করোনা পরিস্থিতিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সবচেয়ে বড় সঙ্কটকাল উল্লেখ করে এসময় মানুষের মানসিক চাপ কমাতে হলে এই মুহূর্তে ‘সাইকোলজিক্যাল ফার্স্ট এইড’ চালু করার আহবান জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকিয়াট্রি অ্যান্ড সাইকোথেরাপি বিভাগের অধ্যাপক ডা. ঝুনু শামসুন নাহার। তিনি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে এখনই সাইকোলজিক্যাল ফার্স্ট এইড চালু করতে হবে। আমরা এখন স্ট্রেস ডিসঅর্ডারের মধ্যে আছি। ছয় মাস পার হয়ে গেলে পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারের মধ্যে অনেকে চলে আসবে। এই মুহূর্তে ফার্স্ট এইড চালু করতে পারলে পোস্ট ট্রমাটিক ষ্ট্রেস ডিসঅর্ডার হ্র্রাস করা সম্ভব হবে।’
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এক ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে সাপ্তাহিক এ আলাপচারিতার আয়োজন করে উন্নয়ন ফোরাম। আলোচনায় আরও অংশ নেন, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ ও জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির মেন্টাল হেলথ বিভাগের প্রকল্প পরিচালক ডা. এম তাসদিক হাসান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ব ব্যাংকের সিনিয়র হেলথ স্পেশালিস্ট ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার।
অধ্যাপক ডা. শামসুন নাহার আরো বলেন, ‘এটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সবচেয়ে বড় সঙ্কটকাল, এটা সাধারণ ষ্ট্রেস না। অনেকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কাছাকাছি যাচ্ছেন। কেউ কাছের মানুষকে হারাচ্ছেন। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার কারণে হতাশা-উদ্বেগ বেড়ে যাচ্ছে। অনেকে দারিদ্র সীমার নিচে চলে যাচ্ছে। এসব কিছুই আমাদের মানসিক অবস্থার ওপর প্রভাবে ফেলছে।’
স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিশুদের বিষয়ে এই মনো চিকিৎসক আরো বলেন, ‘শিশুরা বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে পারছে না। যারা একটু বড়, যাদের আবেগ কাজ করে, তারা প্রিয়জনদের সঙ্গে মিশতে পারছে না। সেই কারণে তাদের হতাশা-উদ্বিগ্নতা বাড়তে পারে। অন্যদিকে সন্তান কোভিড আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকলে মা-বাবাকে সেপারেশন অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডারে ভুগতে হচ্ছে।’
ডা. নাহার চিকিৎসা শিক্ষা কারিকুলামে মেন্টাল হেলথের দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বাংলাদেশে আন্ডারগ্রাজুয়েট লেভেলে চিকিৎসা শিক্ষা কারিকুলামে মেন্টাল হেলথ নেই বললেই চলে। এজন্য আমাদের উন্নত শিক্ষা কারিকুলাম দরকার’।
ডা. এম তাসদিক এই করোনাকালে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে, নারী চিকিৎসকদের চাপ অনেক বেশি। এটার পেছনে সোশ্যাল, ইকোনমিক্যাল ও পলিটিক্যাল ফ্যাক্টর আছে। তাদের সামজিক সুরক্ষাও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। স্যোশাল স্টিগমাগুলো দেখা যাচ্ছে, ডাক্তারদের বাসা থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। সেখানেও প্রশ্ন আছে, রাষ্ট্র কেন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে না?’
জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির মেন্টাল হেলথ বিভাগের প্রকল্প পরিচালক আরো বলেন, ‘সব ধরনের ডিসঅ্যাবিলিটি বিবেচনায় নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। অনেক তথ্য যা এখনো বিজ্ঞানসম্মত না, সেগুলো আমরা বিশ্বাস করছি। যা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাবে ফেলছে। তাই এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে, এভিডেন্স যেন একটা সোর্স থেকে আসে’ ।
ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘শিশু-কিশোরদের মানসিক চাপটা বেশি। কারণ বাবা-মায়ের মানসিক চাপ তাদের ভেতরে সংক্রমিত হচ্ছে। যারা সরাসরি সেবা দিচ্ছেন, তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর ঘাটতি আছে। কষ্টকর পোশাক পরে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার কাজ করছেন। তারপরও সামাজিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।পরিবারের কেউ সংক্রমিত হলে তারা নিজেদের দায়ী করছেন। তাদের মেন্টাল হেলথ ঠিক রাখার দায়িত্ব টিম লিডারদের। মনে রাখতে হবে, কোভিড-১৯ মোটেই হানড্রেড মিটার রেস না, এটা ম্যারথন। এর জন্য প্রশাসনকে সচেতন হতে হবে।’
#
রূপশ্রী/এইচআর







