ঢাকা, রূপশ্রী ডেস্ক:
ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের রাশিয়া সফরে সংক্ষুব্ধ ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনেকদেশ। এজন্য ইউরোপীয় কমিশনের নির্বাহী প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন নিজে এবং তার সহকর্মীরা হাঙ্গেরির সভাপতিত্বে ইউরোপীয় কমিশনের কোন বৈঠকে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তবে বৈঠকে কেবলমাত্র আমলাদের পাঠানো হবে। উরসুলা ভন ডার লিয়েনএই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
জানাযায়, ইউরোপীয় কাউন্সিলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাঙ্গেরি। ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে এই প্রেসিডেন্সি পদ পাওয়া যায়।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান। ছয় মাস পর পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশের প্রধানরা ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি ছয়মাসের জন্য এ পদটি পেয়েছে হাঙ্গেরি।
পদ পাওয়ার পরই লম্বা সফর বেরিয়ে পড়েন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান। পুতিন ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত আরবান একক সিদ্ধান্তেই রাশিয়া সফর করেন।

সেখানে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে একান্ত বৈঠক ও যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন। ইউক্রেনের শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলেন। এতেই উরসুলা ভন ডার লিয়েন বৈঠক বর্জনের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সফরের শুরুতে প্রথমে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ যান আরবান। সেখানে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনেস্কির সাথে একান্ত বৈঠক করেন। তারপর রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে গিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করেন।

সেখান থেকে চীনে গিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এরপর আমেরিকার ওয়াশিংটনে ন্যাটো সামরিক জোটের সভায় যোগ দেন অরবান। তিনি তার এই সফরের নাম দিয়েছেন পিস মিশন (শান্তি সফর)।
ইউরোপীয় কাউন্সিলের অভিযোগ, কাউন্সিলের সঙ্গে আলোচনা না করেই এই সফরসূচি তৈরি করেছিলেন অরবান এবং কাউন্সিল এই সফর সমর্থন করে না। বিশেষ করে যেভাবে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন অরবান, ইউরোপীয় কাউন্সিল তা কোনওভাবেই সমর্থন করে না।

আর সে কারণেই ব্রাসেলস সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অরবানের এই ছয়মাসের প্রেসিডেন্সি আংশিকভাবে বয়কট করা হবে। স্থির হয়েছে, হাঙ্গেরি যে কয়টি বৈঠকে সভাপতিত্ব করবে, সেখানে কোনও কমিশনার পাঠানো হবে না, প্রতিনিধি হিসেবে সরকারি আমলাদের পাঠানো হবে।
সাধারণত যে দেশ প্রেসিডেন্সি পায়, কমিশনের ২৭ জন কমিশনার সেই দেশের রাজধানীতে গিয়ে একটি বৈঠক করেন এবং আগামী কয়েকমাসের রোডম্যাপ স্থির করা হয়। কিন্তু হাঙ্গেরির ক্ষেত্রে সেই সফরও হবে না বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, আমেরিকায় ন্যাটোর বৈঠকে যোগ দিতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও বৈঠক করেন অরবান। ইউরোপীয় ইউনিয়নে হাঙ্গেরি একমাত্র দেশ, যার সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক ভালো। যেকোনও সময় পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন অরবান। শুধু তা-ই নয়, ইউক্রেন যুদ্ধেও রাশিয়াকে অঘোষিত সাহায্য করেছে হাঙ্গেরি।
সূত্র: পলিটিকো, ডয়েচে ভেলে, বাংলাদেশ প্রতিদিন







