নারীকে ‘সম নাগরিক’ হিসেবে ভাবার সহায়ক পরিবেশ নেই

858

রূপশ্রী প্রতিবেদন:

নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা রোকেয়া কবীর বলেছেন, যত উন্নতির বড়াই আমরা করি না কেন, নারীর প্রতি অবমাননা আর পর্বত প্রমাণ বৈষম্যের সংস্কৃতি পরিবার, সমাজ থেকে রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছে। আমরা যে স্বপ্ন নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি অর্থাৎ মানুষ কর্তৃক সৃষ্ট বিভিন্ন পরিচয়ের মানুষের বিরুদ্ধে যে বৈষম্য তা থেকে মানুষকে মুক্ত করা। কিন্তু সে জন্য আজও আমাদের লড়াই করতে হচ্ছে। এর জন্য দায়ী আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি। দেশে এখনো নারীকে ‘সম নাগরিক’ হিসেবে ভাবার সহায়ক পরিবেশ নেই। সে জন্য সবার আগে প্রয়োজন আমাদের মন মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তন। এজন্য সবাই নারীকে ‘সম নাগরিক’ হিসেবে ভাবার সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ আয়োজিত পাঁচদিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী দিনে তিনি এসব কথা বলেন। ‘আমাদের জীবন, আমাদের স্বাস্থ্য, আমাদের ভবিষ্যৎ’ কর্মসূচির অধীনে ‘যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার, জেন্ডার সমতা এবং জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা’ নিয়ে ‘বিএনপিএস সম্মেলন কক্ষে’ গত ২৩ জানুয়ারি থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন তিন পার্বত্য জেলায় নারী অধিকার বাস্তবায়নে কর্মরত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। এই প্রশিক্ষণের সমন্বয়ে ছিলেন বিএনপিএস’র ক্যাপাসিটি বিল্ডিং কো-অর্ডিনেটর নাসরিন বেগম।

প্রশিক্ষণের প্রজেক্ট ম্যানেজার সঞ্জয় মজুমদার বলেন, আমরা যে পরিবর্তনের লক্ষে কাজ করছি, সেটি সমাজে বিদ্যমান নানা বৈষম্য আর অসঙ্গতির বিরুদ্ধে। আর এজন্য প্রয়োজন প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞানকে আমাদের প্রকল্পের কাজের মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দেওয়া ও মানুষের মনোজগতে পরিবর্তন আনা। আমাদের একার পক্ষে হয়তো সেই কাঙ্খিত পরিবর্তন আনা সম্ভব না। তবে এই প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় ১২ হাজার কিশোরী ও নারীদের অধিকার সচেতন ও জীবন দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারলে, একটি স্থায়িত্বশীল ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।


প্রশিক্ষণার্থীদের পক্ষ থেকে সাচিং ইউ মার্মা বলেন, আমরা এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যে বিষয়গুলো শিখেছি, সেগুলো আমাদের প্রকল্প এলাকার কিশোরী ও নারীদের জীবন দক্ষতা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পটি বাংলাদেশের ৩ পার্বত্য জেলার যে সকল এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীদের নিয়ে কাজ করছে, সে সকল এলাকার নারীর সার্বিক বিকাশের ক্ষেত্রে সামাজিক ও পারিবারিক নেতিবাচক রীতিনীতিগুলোর পাশাপাশি পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার পরিবর্তন ঘটানো একটা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আমরা বিশ্বাস করি, আমরা কাঙ্খিত লক্ষ্য পূরণের পথে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এগিয়ে যেতে পারবো।

তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে অনন্যা কল্যাণ সংগঠন (একেএস), গ্রাউস, খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতি (কেএমকেএস), প্রগ্রেসিভ, তংগ্যা, তহজিংডং, তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা, উইমেন এডুকেশন ফর এডভান্সমেন্ট অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট (উইভ), হিল ফ্লাওয়ার, জাবারাং কল্যাণ সমিতির প্রোগ্রাম অফিসার কাম ট্রেইনার, তিন পার্বত্য জেলায় বিএনপিএসের মাস্টার ট্রেইনার এবং অ্যাডভোকেসি অফিসার।

রূপশ্রী/নগর/এইচবি