করোনায় বাড়ছে বাল্যবিবাহের ঝুঁকি

1022

রূপশ্রী প্রতিবেদন

১৮ অক্টোবর, ঢাকাঃ

সারা বিশ্বে করোনা মহামারির কারণে মারাত্মকভাবে বাড়ছে বাল্যবিবাহ ৷ শিশু অধিকার সুরক্ষা সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, শুধু এ বছরই জোর করে পাঁচ লাখ মেয়েকে বিয়ে দেয়া হবে ৷

করোনা মহামারি বিশ্বব্যাপী বহু পরিবারকে দারিদ্রের মুখে ঠেলে দিচ্ছে ৷ ফলে মেয়েদের মা-বাবারা মনে করছেন, মেয়েকে জোর করে বিয়ে দেওয়া ছাড়া এই মুহূর্তে তাদের আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই ৷ এক্ষেত্রে নাবালিকার হবু স্বামীর বয়স নিয়ে তারা ভাবছেন না ৷ এ কথা বলেন সেভ দ্য চিলড্রেনের পরিচালক ইঙ্গার অ্যাশিং৷  তিনি মনে করেন বর্তমান পরিস্থিতি বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে দীর্ঘ কয়েক দশকের সংগ্রামের অগ্রগতিকে রোধ করে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়ার হুমকি তৈরি করছে ৷

লন্ডনে সেভ দ্য চিলড্রেনের লিঙ্গসমতা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ গাব্রিয়েলে সাজাবো বলেন, দুঃখজনক বিষয় হল, মহামারি লিঙ্গ বৈষম্যকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে ৷ করোনায় স্কুল বন্ধ, মা-বাবারা চাকরি হারাচ্ছেন, লকডাউনে বাড়ছে সহিংসতা আর ধর্ষণ ৷ এসব কারণে কন্যার নিরাপত্তার কথা ভেবে মা-বাবারা তাদের নাবালক মেয়েদের জোর করে বিয়ে দিচ্ছেন ৷ তাদের ধারণা বিয়ে হলে মেয়ে অন্তত ক্ষুধা আর বঞ্চনা থেকে রক্ষা পাবে ৷

এ বছর আগের তুলনায় আরো দশ লাখ বেশি কিশোরী গর্ভবতী হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে ৷ মেয়েদের জোর করে বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা বেশি রয়েছে দক্ষিণ এশিয়া, পশ্চিম আফ্রিকা ও ল্যাটিন অ্যামেরিকার দেশগুলিতে ৷ আফগানিস্তান, সিরিয়া ও ইয়েমেনের মতো সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি ৷

এদিকে সেভ দ্য চিলড্রেনের গ্লোবাল গার্ল হুড প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, করোনার কারণে ২০২০ সালে কমপক্ষে আরো পাঁচ লাখ মেয়েকে জোর করে বিয়ে দেয়া হতে পারে ৷ ২০২৫ সালের মধ্যে বাল্য বিবাহের শিকার হতে পারে আরো অতিরিক্ত ২৫ লাখ মেয়ে ৷ গত ২৫ বছরের মধ্যে এবারই বাল্যবিবাহের হার সবচেয়ে বেশি ৷ ২০২৫ সালে বাল্যবিবাহের সংখ্যা বেড়ে মোট ছয় কোটি দশ লাখ হতে পারে বলে সংস্থাটি আশঙ্কা করছে ৷

সূত্রঃ ইপিডি,কেএনএ,সেভ দ্য চিলড্রেন,ডিডব্লিউ

রূপশ্রী/এম এস