করোনায় বাড়ছে অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার, উদ্বেগ কমাতে খান সঠিক খাবার

914

রূপশ্রী ডেস্ক

১৩ই জুলাই, ঢাকাঃ

মহামারী করোনা আমাদের উপর চতুর্মুখী প্রভাব ফেলছে। এসময় সকলের মধ্যে বাড়ছে মানসিক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। কোভিড হবে কিনা, হলে কী হবে, চাকরি থাকবে কিনা, ব্যবসা চলবে কিনা, প্রিয়জন সুরক্ষিত কিনা, করোনা আবহে ইত্যাদি নানা চিন্তায় সবারই রাতের ঘুম চলে গিয়েছে। চিন্তা করে সমাধান হবে না জানার পরও উদ্বেগের শেষ নেই। এসময় মানসিক বিশেষজ্ঞরা ইয়োগা, মেডিটেশন করতে বলছেন। বলছেন করোনা নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ করলে মাস ছয়েকের মধ্যে জিএডি বা জেনারেলাইজড অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার হতে পারে। যা সারাতে পরবর্তীতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে। কিন্তু এসব জানার পরেও উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে ।

উদ্বেগ-দুশ্চিন্তার বিপদ হল, দিনে দিনে মানুষ এত নেগেটিভ হয়ে যান যে বিশ্বাস করতে শুরু করেন, তাঁর যা হবে, সব খারাপই হবে। ভাল’র মধ্যেও খারাপ খুঁজে বের করেন। চিন্তার বাইরে কিছু হলে আর মানতে পারেন না।  রিল্যাক্স করতে পারেন না।  ভুল সিদ্ধান্ত নেন। খিটখিট করেন, খুঁতখুঁত করেন। পরের পর্যায়ে গ্রাস করে চরম অস্থিরতা, অমনোযোগ, দুঃখ, আতঙ্ক, অনিদ্রা। ফলে এক সময় আর মাথা কাজ করে না।

অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার-এর লক্ষণঃ

অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার হলো উদ্বেগ জনিত ব্যাধি। অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার’এর সময় কিছু শারীরিক লক্ষণ দেখা দেয়। যেমন, মাথা ঘুরান, গা গোলানো, বমি বমি ভাব, মাথাব্যথা, হাত-পা কাঁপা, বুক ধড়ফড়, বুকে চাপ, ঘাম হওয়া, দম বন্ধ লাগা। এতে করে শুধু আক্রান্ত ব্যক্তির নয়, তাঁর সঙ্গে পরিবারের অন্যদেরও জীবন বিপর্যস্ত হয়ে যায়৷ কাজেই নিজের বা অন্য কারও মধ্যে বাড়াবাড়ি উদ্বেগ-দুশ্চিন্তা দেখলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিন।

এই উদ্বেগ-দুশ্চিন্তা ডিসঅর্ডারের পর্যায়ে পৌঁছে গেলে তখন চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। সাইক্রিয়াটিস্ট কন্সাল্টেশন নিতে হয়, বিশেষ করে কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি লাগে, ঔষূধ খাওয়া লাগে। জীবনযাপনে পরিবর্তন আনতে হয়। শিখতে হয় রিল্যাক্স করা ও পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার নিয়ম।

তবে প্রথম থেকে সতর্ক হলে কিন্তু সব সহজেই সমস্যা সমাধান সম্ভব ৷ সচেতন বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে কথা বলে ও ইয়োগা-মেডিটেশন-ব্যায়াম ইত্যাদি করতে পারলে মন হালকা হয়। উদ্বেগ কমাতে বেশ কিছু খাবারেরও ভূমিকা রয়েছে৷ খাদ্য তালিকায় সেসব খাবার যোগ করে সুষম ডায়েট তৈরী করতে হবে।

উদ্বেগ-দুশ্চিন্তা কমাতে সঠিক খাবারঃ

বাদামঃ ভিটামিন ই-র অভাব হলে উদ্বেগ ও মন খারাপ বাড়তে পারে৷ সে অভাব মেটাতে নিয়মিত বাদাম খান৷ বিশেষ করে ব্রাজিল নাট ও কাঠবাদাম বা আমন্ড৷ ব্রাজিল নাটে আছে সেলেনিয়াম নামের খনিজ। লাগাতার উদ্বেগে শরীরে যে প্রদাহ বাড়ে তা কমাতে পারে৷ তবে দিনে ৩-৪টের বেশি না।

ওমেগা থ্রি, ফ্যাটি অ্যাসিডঃ গবেষণায় দেখা গেছে যাঁরা ওমেগা থ্রি, ফ্যাটি অ্যাসিড কম খান, তাঁদের মুড ডিজঅর্ডার বেশি হয়। কাজেই সপ্তাহে অন্তত দু-বার তৈলাক্ত মাছ খান। সয়াবিন, আখরোট, তিষির বীজ, শিয়া বীজ খান। কড লিভার অয়েলও খেতে পারেন।

ভিটামিন ডিঃ জার্নাল অফ আফেকটিভ ডিসঅর্ডারে প্রকাশিত প্রবন্ধে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ভিটামিন ডি-এর অভাব হলে অবসাদের আশঙ্কা বাড়ে। কাজেই দিনে ২০-৩০ মিনিট গায়ে রোদ লাগানো জরুরি। তার পাশাপাশি খান তৈলাক্ত মাছ, ডিমের কুসুম, মাশরুম, কড লিভার অয়েল। প্রয়োজনে সাপলিমেন্ট খেতে হতে পারে।

পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবারঃ ট্রিপ্টোফানের উপস্থিতিতে শরীরে সেরেটোনিন নামে মন ভাল করার হরমোন বেশি বেরোয়। ব্রেনের কার্যকারিতা বাড়িয়ে উদ্বেগ, অনিদ্রা কমাতে সে সিদ্ধহস্ত। কাজেই ডিম, চিকেন, চিজ, মাছ, চিনেবাদাম, কুমড়ো বীজ, তিল, দুধ, কলা ইত্যাদি খান মাত্রা রেখে। কুমড়োর বীজে পটাসিয়াম ও জিঙ্ক আছে। দুই-ই মুড ডিজঅর্ডারের মহৌষধ। কলার পটাসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম রিল্যাক্স করতে সহায়তা করে।

ডার্ক চকলেটঃ দিনে ৪০ গ্রাম ডার্ক চকলেট খেলে ফ্ল্যাভেনয়েড, ট্রিপ্টোফান, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদির প্রভাবে মন ভাল থাকে। তবে তাতে কোকোয়ার পরিমাণ যেন ৭০ শতাংশের বেশি থাকে।

হলুদঃ হলুদের কারকিউমিন প্রদাহের প্রবণতা কমায়৷ ফলে মনও শান্ত হয়। পাশাপাশি এটা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, যা এই মুহূর্তে খুবই দরকার।

ক্যামোমিলে চাঃ ক্যামোলিন চা মন হালকা করে। এর রয়েছে জীবাণুনাশক গুণ। আছে প্রদাহ কম রাখার ক্ষমতা। কাজেই করোনা ঠেকাতেও এর ভূমিকা আছে। এর স্বাদ-গন্ধ ভাল না লাগলে গ্রিন টি-ও খেতে পারেন। কাজ একই হবে।

টক দইঃ ঘরোয়া টক দই বা দোকানের ইয়োগার্টে আছে উপকারি জীবাণু, ল্যাক্টোব্যাসিলাস ও বাইফিডোব্যাকটেরিয়া। এরা পেট যেমন ভাল রাখে, ব্রেনের সুস্থতার মূলেও এদের হাত আছে। প্রদাহ কমায় বলে মনও ভাল থাকে।

সূত্রঃ আনন্দবাজার

রূপশ্রী/টিআর