রূপশ্রী ডেস্ক
১৩ই জুলাই, ঢাকাঃ
কোভিড ১৯ -এর করাল গ্রাস মানুষের জীবনের সব কিছুতেই ছাপ ফেলছে, বদলে দিচ্ছে সমাজ, সংস্কার, অর্থনীতির রূপ। প্রভাব ফেলছে আমাদের শরীরে ও মননে। তবে শত নেতিবাচকতার মাঝেও মানুষ খুঁজে নিচ্ছে এক টুকরো শান্তির উৎস। পরিবারের একাত্ততা। করোনাকালে একরকম ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দাম্পত্য জীবনে। সাধারণত কর্মব্যস্ততায় পরিবারের স্বামী-স্ত্রী একসাথে বেশি সময় কাটাতে পারেনা, এই করোনাকালে স্বামী-স্ত্রী-সন্তান আগের চেয়ে বেশি সময় একসঙ্গে কাটাচ্ছে। এতে পরিবারের ছোট-খাটো বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য বা ভুল বুঝাবুঝি কমে আসছে। উভয়পক্ষে সহনশীলতা ও আন্তরিকতা বাড়ছে। আর কমে এসেছে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা। রাজধানী ঢাকাতে দাম্পত্য জীবনের এমন একটা ইতিবাচক চিত্র ফুটে উঠেছে।
সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, রাজধানীতে ২০১৯ সাল পর্যন্ত গড়ে প্রতি ঘণ্টায় একটি তালাকের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু করোনাকালে পুরো এপ্রিল মাসজুড়ে রাজধানীতে একটি বিবাহ-বিচ্ছেদের ঘটনাও ঘটেনি।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাহফুজা খানম বলেছেন, রাজধানীতে কর্মব্যস্ততার কারণে স্বামী-স্ত্রী নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনারও খুব একটা সুযোগ পায় না।
করোনার এমন সময়ে একসঙ্গে বাসায় থাকা, কাজ ভাগ করে নেওয়া, সন্তানদের সাথে একত্রে থাকা – এসব স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঘনিষ্ঠতা ও আন্তরিকতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এমনকি গৃহস্থালি কাজেও স্বামী তার স্ত্রীকে সহায়তা করছেন। এসব কাজও যে পরিশ্রমের, এরও যে একটি মর্যাদা রয়েছে- এটি স্বামীরাও বুঝতে পারছেন। পরিবারের বন্ধনটা এতে শক্তিশালী হচ্ছে। ফলে বিবাহবিচ্ছেদের প্রবণতাও কমছে।
সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, করোনাকালে ঘরে থাকার কারণে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই দীর্ঘদিন পর বেশি সময় নিয়ে নিজেদের বিষয়ে মনোনিবেশ করতে পারছেন। এতে করে মনের দূরত্ব বা ভুল বুঝাবুঝি কমে আসছে। নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। এসব কারণে বিচ্ছেদও কমে আসছে। আর পরিবারে শান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে যেটা সন্তানদের মধ্যেও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠতে সাহায্য করছে।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, সমাজে শান্তি বৃদ্ধির জন্য পরিবারে সুস্থ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিবাহ-বিচ্ছেদ হয়েছে ৬১৮টি। ফেব্রুয়ারিতে ৪৪১ এবং মার্চে ৪৪৫টি বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটলেও এপ্রিলে এই সংখ্যা শূন্য। মে মাসে মাত্র ৫৪টি এমন ঘটনা ঘটেছে। একইভাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে জানুয়ারিতে বিচ্ছেদ হয়েছে ৫২৮টি। ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৪৪১ ও ৪৪৫টি। উত্তরের মতো দক্ষিণেও এপ্রিলে একটি বিচ্ছেদের ঘটনাও ঘটেনি। এরপর মে মাসে দক্ষিণ সিটিতে বিচ্ছেদ হয়েছে ১১৩টি।
তবে তালাকের ক্ষেত্রে নারী বা পুরুষের কে আগে উদ্যোগ নিয়েছেন সে তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারীরাই তালাক দিচ্ছেন। জানুয়ারি মাসে পুরুষের পক্ষ থেকে তালাকের ঘটনা ঘটেছে ১৮৬টি, নারীর পক্ষ থেকে ৪৩২টি। ফেব্রুয়ারিতে পুরুষ ১৩৪, নারী ৩০৭টি। মার্চে পুরুষ ১৪৫, নারী ৩১০টি। মে মাসে পুরুষ ১৫ ও নারী ৩৯টি তালাক দিয়েছেন। জুনে পুরুষ ২৩৫, নারী ৩৯৭টি তালাক দিয়েছেন।
বাংলাদেশ মুসলিম বিবাহ ও নিকাহ রেজিস্টার কল্যাণ সমিতির মহাসচিব সাগর আহমেদ শাহীন বলেছেন, করোনাকালে বিয়ের পরিমাণ যেমন কমে গেছে, তেমনি তালাকের সংখ্যাও কমে গেছে।
ছবিঃ ওয়েডিং পেজেস বাংলাদেশ
রূপশ্রী/টিআর







