ব্যস্ততম সফর শেষে দেশে ফিরেছেন শেখ হাসিনা

313

রূপশ্রী প্রতিবেদন, ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে ব্যস্ততম সফর শেষে দেশে আজ সোমবার (১০ জুন)সন্ধ্যায় নয়াদিল্লি থেকে ঢাকায় ফিরেছেন । টানা তৃতীয় মেয়াদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির শপথ অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে তিনি শনিবার দিল্লি সফরে যান।
প্রধানমন্ত্রী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরন করে। এসময় আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী বিমান বন্দরে স্বাগত জানান।
এরআগে ভারতে ব্যস্ততম দিন অতিবাহিত করেন তিনি।

রবিবার রাতে শপথ গ্রহণের পর ভারতের টানা তৃতীয়বারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অনুষ্ঠানে আগত বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিদেশি রাষ্ট্রপরিধানদের মঞ্চে ডেকে নেন। তিনি সবার সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ও গ্রুপ ছবি তোলেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট রণিল বিকরমসিংঘে, মলদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ডঃ মোহাম্মদ ইজ্জু, নেপালের প্রধানমন্ত্রীপুষ্পকুমার দহেল, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শরিং টোবগে, সেশেলসের উপরাষ্ট্রপতি আহমেদ আফিফ, মরিশাস প্রধানমন্ত্রী প্রবীণ কুমার জগনাউথ।

এরপর রাষ্ট্রপতি ভবনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে একান্তে বৈঠক করেন।


বাসস জানায়, বৈঠকে শেখ হাসিনা টানা তৃতীয় মেয়াদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য তার ভারতীয় সমকক্ষকে অভিনন্দন জানান এবং তাকে তার সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকে দুই নেতা বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আগামী দিনগুলোতে আরো দৃঢ় করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরে রাষ্ট্রপতি ভবনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু আয়োজিত ভোজসভায় যোগ দেন।


আজ সোমবার সকালে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে তাঁর আবাসস্থলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।

এছাড়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সাক্ষাত ও দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে মতবিনিময় করেন।


এর আগে রবিবার সকালে শেখ হাসিনা বিজেপির সিনিয়র নেতা এল কে আদভানির সঙ্গে তার নয়াদিল্লির বাসভবনে দেখা করেন এবং কুশল বিনিময় করেন।

একইদিন বিকেলে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

Screenshot

দেশে ফেরার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের কংগ্রেস পার্টির নেত্রী ও রাজ্যসভা সদস্য সোনিয়া গান্ধী, তার পুত্র ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সোমবার দিল্লির আইটিসি মৌর্য হোটেলে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দিল্লির আইটিসি মৌর্য হোটেলে সোমবার সকালে এই সাক্ষাতের পরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বৈঠক হয়।

বৈঠক দুটির বিষয়ে পরে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি জানান, শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতে দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ হয়েছে। সে দেশের চরম অর্থনৈতিক ক্রান্তিকালে বাংলাদেশের সহায়তার জন্য রনিল বিক্রমাসিংহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ দিয়েছেন। কৃষি খাতে বাংলাদেশের প্রযুক্তি এবং পর্যটন খাতে শ্রীলঙ্কার দক্ষতা ও বিনিয়োগ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার কথাও জানান হাছান।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বৈঠকটিও হৃদ্যতাপূর্ণ ছিল বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে এস জয়শঙ্করের আন্তরিকতার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে পুনরায় মন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং একসঙ্গে কাজের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।

শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি রনিল বিক্রমাসিংহে এবং ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
এর আগে রবিবার শিকলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জ্যেষ্ঠ নেতা লাল কৃষ্ণ আদভানির সঙ্গে তার বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় ৯৬ বছর বয়সী এল কে আদভানির সঙ্গে স্মৃতিচারণ ও ব্যক্তিগত আলাপ করেন।

এদিন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার আবাসস্থলে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে শেখ হাসিনা ভারতের মধ্য দিয়ে ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি এ জন্য প্রয়োজনীয় ত্রিপক্ষীয় চুক্তি নিয়ে ইতোমধ্যে ভারতের সঙ্গে আলোচনার কথাও জানান।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়ে তার দেশে বার্ন ইউনিট নির্মাণ এবং এক বছরের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দেন।