গাজায় ক্ষুধাকে অস্ত্র বানাচ্ছে ইসরায়েল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

347

রূপশ্রী ডেস্ক
১৯ ডিসেম্বর ২০২৩,ঢাকা: ফিলিস্তিনের গাজায় তীব্র খাদ্যসংকট চলছে বলে জানিয়েছে ফ্রান্সের বার্তা সংস্থা এএফপি। জেরুজালেম থেকে পাঠানোএক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের নির্বিচার হামলার মুখে ফিলিস্তিনের গাজায় চলছে তীব্র খাদ্যসংকট। ত্রাণের জন্য চলছে হাহাকার। খাবারের দোকানগুলোর সামনে ক্ষুধার্ত মানুষের ভিড়। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বলেছে, গাজার বেসামরিক মানুষকে ইচ্ছা করেই ক্ষুধার মুখে ঠেলে দিচ্ছে ইসরায়েল। একে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে দেশটি।


গত সোমবার নিউইয়র্কভিত্তিক সংস্থা এইচআরডব্লিউর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দখল করা গাজায় বেসামরিক মানুষকে ক্ষুধার মুখে ঠেলে দেওয়াকে যুদ্ধের একটি কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় খাবার, পানি ও জ্বালানি সরবরাহে বাধা দিচ্ছে। ইচ্ছা করে উপত্যকাটিতে মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। কৃষিজমিগুলো তছনছ করে দিচ্ছে। বেঁচে থাকার জন্য যেগুলো জরুরি, তা থেকে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করছে।
তবে এইচআরডব্লিউর এই প্রতিবেদনের কড়া সমালোচনা করেছে ইসরায়েল সরকার। তারা সংস্থাটিকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী ও ইসরায়েলবিরোধী’ আখ্যা দিয়েছে।দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিওর হায়াত বলেছেন, ইসরায়েলি নাগরিকদের ওপর হামাসের হামলা ও ৭ অক্টোবরের হত্যাযজ্ঞের নিন্দা জানায়নি হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। ইসরায়েলিদের মানবাধিকার ও দুর্দশার দিকে নজর না দিয়ে শুধু গাজা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার কোনো নৈতিক ভিত্তি নেই।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলায় নিহত হন ১ হাজার ১৩৯ জন। সেদিন প্রায় ২৪০ জনকে ধরে এনে গাজায় জিম্মি করেন হামাস যোদ্ধারা। সেদিন থেকেই গাজায় হামলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। সেখানে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না মানবিক ত্রাণসহায়তা। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, গাজাবাসী যে সহায়তা পাচ্ছেন, তা ‘মহাসাগরে এক ফোঁটা পানির মতো’। এরই মধ্যে গত শুক্রবার ইসরায়েলের কেরেম শালোম ক্রসিং দিয়ে গাজায় জরুরি সহায়তা সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর আগে শুধু মিসরের রাফাহ ক্রসিং দিয়ে সেখানে ত্রাণ পৌঁছানো হচ্ছিল।
সৌজন্যে: প্রথম আলো ছবি: এএফপি/রয়েটার্স