দলমত নির্বিশেষে আহতদের চিকিৎসা ও রোজগারের ব্যবস্থা করবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

304

রূপশ্রী প্রতিবেদন, ঢাকা:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‌’সাম্প্রতিক সহিংসতায় দলমত নির্বিশেষে আহত সবার চিকিৎসা ও আয়-রোজগারের ব্যবস্থা করবে সরকার’।
শুক্রবার (২৬ জুলাই) বিকেলে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) চিকিৎসাধীন আহতদের দেখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ আশ্বাস দেন। এসময় তিনি আহতদের চিকিসার খোঁজ খবর নেন এবং তাদের স্বজনদের সাথে কথা বলেন ও সান্তনা দেন। তিনি চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে কথা বলেন। আহতদের সব ধরনের চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

সহিংসতায় আহতদের দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সহিংসতায় আহতদের চিকিৎসার জন্য যা যা দরকার সবই করবে সরকার। আহতরা যেই দলেরই হোক চিকিৎসার দায়িত্ব নেবে সরকার।’ তিনি আবেগ তাড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এটি একটি খুব বেদনাদায়ক পরিস্থিতি। অনেক মানুষ হতাহত হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, “এমন ‘মৃত্যুর মিছিল’ হবে আমি কখনোই চাইনি। কিন্তু আজ বাংলাদেশে এমন ঘটনা ঘটেছে। আমি কখনো চাইনি এদেশে কেউ তাদের প্রিয়জনকে হারাবে।”

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের খোঁজ খবর নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কোটা আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে জামায়াত-শিবির, বিএনপি ও ছাত্রদল এসব নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে এই ধরনের বর্বরতা ও জঘন্য ঘটনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “আমরা (ছাত্রদের) সব দাবি মেনে নিয়েছি তাহলে আবার (আন্দোলন) কেন? এটা আমার প্রশ্ন। এটা কি জঙ্গিবাদের সুযোগ তৈরি করার জন্য?”
তিনি আরো বলেন, “আমার প্রশ্ন হল তারা এটা থেকে কী অর্জন করেছে। অথচ কত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে! কত পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে!”

তিনি আরো বলেন, “ধ্বংসযজ্ঞ ও নৃশংসতাকারী অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া উচিত যাতে দেশের মানুষের জীবন নিয়ে কেউ আর ছিনিমিনি খেলতে না পারে।”
প্রধানমন্ত্রী নিহতদের আত্মার চির শান্তি এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ সামন্ত লাল সেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডাঃ রোকেয়া সুলতানা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম উপস্থিত ছিলেন।


এর আগে, সকালে রাজধানীর রামপুরায় নাশকতকারীদের হামলা ও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবন পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় বিটিভি’র সদর দপ্তর ও রামপুরা টিভি ভবনে ভাঙচুরের একটি ভিডিও চিত্রও প্রধানমন্ত্রীকে দেখানো হয়।
বিটিভি’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী তান্ডবলীলায় বিটিভি’র বিভিন্ন অবকাঠামো, সম্প্রচার সরঞ্জাম, নকশা বিভাগ, অফিস ভবন এবং বিভিন্ন কক্ষ ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়।
সন্ত্রাসীদের তান্ডবলীলায় ১৯৬৪ সাল থেকে সংরক্ষিত অমূল্য প্রাচীন জিনিস দিয়ে সজ্জিত টেলিভিশন জাদুঘর এবং মুজিব কর্নার, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক, প্রায় ৪০টি কম্পিউটার, ১শ’ টি টেলিভিশন সেট এবং কম্পিউটার ল্যাবের আসবাবপত্র, প্রশিক্ষণ কক্ষ ও প্রিভিউ রুম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনটি তলায় আগুন দিয়ে পোড়ানো এবং যন্ত্রাংশ লুটপাট, একটি সম্প্রচার ওবি ভ্যান. ১৭টি গাড়ি ও ২১টি মোটর সাইকেলে আগুন এবং ৯টি গাড়ি ভাঙচুর করাসহ সম্পূর্ণ স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষতি সাধন করা হয়েছে।
পরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশ থেকে বিএনপি-জামায়াত বিশেষকরে শিবির কোটাবিরোধী আন্দোলকারীদের ওপর নির্ভর করে এই ধ্বংসলীলা চালিয়েছে।
এসময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন, মুখ্য সচিব মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খন্দকার এবং প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এম. নজরুল ইসলাম, বিটিভি’র মহাপরিচালক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম, মহাব্যবস্থাপক মাহফুজা আক্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিএনপি-জামায়াতের দূর্বৃত্তদের তান্ডবলীলায় ক্ষতিগ্রস্ত মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশন পরিদর্শনের একদিন পর প্রধানমন্ত্রী বিটিভি ভবন পরিদর্শন করলেন।