আবু সাঈদের পরিবারের পাশে দাঁড়াল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

493

রূপশ্রী প্রতিবেদন, ঢাকা:
কোটা সংস্কারের আন্দোলনে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের পরিবারের পাশে দাঁড়াল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধিদল আবু সাঈদের মা-বাবার সাথে দেখা করে সব সময় তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। একইসঙ্গে তাদের হাতে তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সাড়ে সাত লাখ টাকা আর্থিক সহায়তার চেক।
শুক্রবার (২৬ জুলাই) প্রক্টর শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধিদল রংপুরের পীরগঞ্জে আবু সাঈদের বাড়িতে গিয়ে তাঁর মা–বাবার হাতে সাড়ে সাত লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা চেকটি তুলে দেয়া হয়।
এ বিষয়ে প্রক্টর শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘উপাচার্যের (ভিসি) নির্দেশে সাঈদের মা–বাবার সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রাখছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ভিসি স্যার নিজেও সাঈদের পরিবারের খোঁজ রাখছেন, পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে আজ সাড়ে সাত লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এ সহযোগিতার ধারা অব্যাহত থাকবে।’
প্রক্টরের পাশপাশি সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান তুহিন ওয়াদুদ, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মণ্ডল, কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফিরোজুল ইসলাম প্রমুখ।

উল্লেখ্য, দশদিন আগে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে মঙ্গলবার বাংলাদেশে যে ছয়জন নিহত হয়েছেন, তাদেরই অন্যতম হচ্ছেন আবু সাঈদ। তিনি ছিলেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক।
বিবিসি জানায়, নিহত অন্য পাঁচজনকে ছাপিয়ে আবু সাঈদকে নিয়ে বিভিন্ন মহলে বেশ আলোচনা হতে দেখা যাচ্ছে, যার মূলে রয়েছে ঘটনার সময় ধারণ করা কিছু ভিডিও।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওইসব ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে, পুলিশের তাক করা অস্ত্রের বিপরীতে মি. সাঈদ বুক পেতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।
এক্ষেত্রে পুলিশের অবস্থান ছিল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের সামনে। আর মি. সাঈদ দাঁড়িয়ে ছিলেন ফটক থেকে সামান্য দূরে রাস্তার মাঝখানে।
এমন সময় পুলিশের সদস্যরা হঠাৎ রাবার বুলেট ছুড়তে শুরু করেন। তখন মি. সাঈদের হাতে একটি লাঠি ছিল। এ ঘটনার পর বেশ কয়েক পা পিছিয়ে তিনি সড়কের বিভাজক পার হন এবং হঠাৎ মাটিতে বসে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে মি. সাঈদের মৃত্যু হয় এবং তার শরীরে রাবার বুলেটের একাধিক ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: প্রথম আলো ও বিবিসি