সেনাপ্রধান, জামায়াত, বিএনপি ও সুশীল সমাজের সাথে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক

484
  1. রূপশ্রী প্রতিবেদন, ঢাকা: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস আইনশৃঙ্খলাসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও মেরামত করতে দিনভর আজ সোমবার (১২ আগস্ট) বৈঠক ও মতবিময় করেছেন দেশের স্টেক হোল্ডারদের সাথে। এরমধ্যে ছিলেন দেশের সেনাবাহিনী প্রধান, সরকারের সচিববৃন্দ, জামায়াত, বিএনপি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ।
    সেনাবাহিনী প্রধানের সাথে বৈঠকে দেশের আইনশৃঙ্খলার উল্লেখযোগ্য উন্নতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা।
    রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস জানায়, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, আজ সোমবার (১২ আগস্ট) সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ জামান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠককালে পরিস্থিতির উন্নতিতে সাহায্য করার জন্য সেনাবাহিনীর সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
    বৈঠকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
    সচিবদের সঙ্গে বৈঠক
    প্রধান উপদেষ্টা এদিন অন্তর্বর্তী সরকারে তার নিয়ন্ত্রণাধীন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দুই ডজনের বেশি সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসময় তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্প সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেনঅ উপস্থিত ছিলেন। খবর বাসস।
বৈঠক শেষে ব্রিফ করছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি তানভীর/প্রথম আলো

বিএনপির সঙ্গে বৈঠক
এদিন বিকেলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বিকাল পৌনে ৪ টায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় যান প্রবেশ করেন। প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার পর কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে এটাই তাঁর প্রথম বৈঠক।
বিএনপি’র মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বার্তা সংস্থা বাসস’কে জানান, প্রধান উপদেষ্টা বিএনপির মহাসচিবকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তাঁর আমন্ত্রণে
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে এই বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও সালাহ উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা বলিনি। আগেও বলেছি, এটার জন্য কিছু সময় লাগবে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে। আমরা তাদের অবশ্যই সেই সময় দিচ্ছি। আমরা তাদের সব বিষয়কে সমর্থন দিচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটা কথা খুব পরিষ্কারভাবে বলেছি, বর্তমানে দেশে যে অস্থিরতার চেষ্টা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা, সাম্প্রদায়িকতার ধোঁয়া তোলা হচ্ছে, এগুলোতে জনগণ যাতে বিভ্রান্ত না হন। জনগণ যাতে আগের মতো ধর্মীয় সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রেখে, জনগণের নিরাপত্তাকে অক্ষুণ্ন রেখে সরকারকে সহায়তা করেন। আমরা পুরোপুরিভাবে সেভাবে সহায়তা করছি।’ খবর বাসস ও প্রথম আলো।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ বৈঠক করেন। এসময় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টগণ উপস্থিত ছিলেন। ছবি: পিআইডি

জামায়াতের সঙ্গে বৈঠক
একইদিন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ। এসময় অন্তর্বর্তী সরকারের সব উপদেষ্টগণও উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও শামছুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ ও এহসান মাহবুব যোবায়ের, মহানগর দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম ও উত্তরের আমীর সেলিম উদ্দিন।
বৈঠক শেষে জামায়াতের আমীর বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা হয়নি। ওনারা কেবল বসলেন। মাত্র চারটা দিন হলো। আমরা ওনাদের দেখতে চাই যে ওনারা কীভাবে জাতিকে নিয়ে এগোতে চাচ্ছেন। সমস্যাগুলোর আশু সমাধান কীভাবে করেন। এগুলো যৌক্তিক সময়ে সমাধান হবে বলে আমরা আশাবাদী। দেশ আমাদের সবার। দেশ বেঁচে থাকলে, ভালো থাকলে, আমরা সবাই বেঁচে থাকব এবং ভালো থাকব।’ খবর প্রথম আলো।
সুশীল সমাজের সঙ্গে বৈঠক
পরে বিকেলে সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন।
সুশীল সমাজের নেতাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের বিশিষ্ট ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। খবর বাসস।