সেঁজুতি সাহা নিয়োগ পেলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায়

1179

রূপশ্রী প্রতিবেদন

ঢাকা: বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স উদঘাটন করে সেঁজুতি সাহা প্রথম আলোচনায় এসেছিলেন। সেবার ডাক্তার বাবা ও মেয়ে নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি গবেষক দল জিনোম সিকোয়েন্সের ম্যাপিংয়ে সফলতা অর্জন করেন। এর ফলে যা দেশের জনগণের জন্য প্রতিষেধক তৈরির সম্ভাবনাকে উম্মুক্ত করে দেয়।

সেই সূত্র ধরে আরেকটি সাফল্য ধরা দিয়েছে সিঁজুতি সাহার জীবনে। বাংলাদেশের এই অণুজীববিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রকল্প ‘পোলিও ট্রানজিশন ইনডিপেনডেন্ট মনিটরিং বোর্ডে’র (টিআইএমবি) অন্যতম সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এই প্রথম কোনো বাংলাদেশি এই বোর্ডের সদস্য হিসেবে নিজের স্থান করে নিতে সক্ষম হলেন। সেঁজুতির সঙ্গে বোর্ডে নিয়োগ পাওয়া অপর দু’জন সদস্য হলেন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ বিভাগের অধ্যাপক শেইলা লেথারম্যান ও নাইজেরিয়ার চিকিৎসক লোলা ডেয়ার ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রকল্প ‘টিআইএমবি’ বিশ্বব্যাপী পোলিও রোগের বিস্তার রোধ নিয়ে কাজ করে। এই প্রকল্পটি ২০১৮ সালের মে মাসে অনুমোদনের পর থেকে পোলিও সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করছে। বোর্ডের অপর দুই সদস্যের সঙ্গে সেঁজুতি সাহা মূলত ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক পর্যায়ে পোলিও সংক্রমণ প্রক্রিয়াটির অগ্রগতি সম্পর্কে পরামর্শ দেবেন।

বাংলাদেশের বেসরকারি সংস্থা চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (সিএইচআরএফ) বিজ্ঞানী সেঁজুতি। এই প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে ১০ জুলাই সেঁজুতির এই অর্জনের কথা জানানো হয়। শুক্রবার সিএইচআরএফের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সেঁজুতির টিআইএমবির সদস্য হওয়ার এ খবর জানানো হয়।

সেঁজুতির বাবা অধ্যাপক সমীর সাহাও একজন অণুজীববিজ্ঞানী এবং ঢাকা শিশু হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান। স্বল্প আয়ের দেশগুলোতে শিশুমৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে এই বাবা ও মেয়ের ভূমিকার প্রশংসা করে গত জানুয়ারিতে একটি ব্লগ প্রকাশ করেন বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস।

 

রূপশ্রী/এইচআর