বঙ্গবন্ধু নারীর সামগ্রিক ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করতেন: স্পিকার

988

রূপশ্রী প্রতিবেদন

২৪ মার্চ, ঢাকাঃ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার সার্বিক পরিকল্পনা, গৃহিত কার্যক্রম ও তার বাস্তবায়নের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে বাংলাদেশের নারীর সমঅধিকার ও ক্ষমতায়ন। নারী-পুরুষের সমঅধিকার, নারীর ক্ষমতায়ন ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সব পরিকল্পনা হাতে নিয়েই জাতির জনক নবগঠিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ভিত্তি রচনা করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু নারীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে জোর দিয়েছিলেন। তার সুগভীর প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার কারণে রাষ্ট্র ও গণজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পুরুষের সঙ্গে নারীর অধিকার সুপ্রশস্ত হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সামগ্রিক নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করতেন বলে মন্তব্য করেছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেন, আজ নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশকে সমগ্র বিশ্বে রোল মডেল করে তুলেছে। বাংলাদেশের নারীরা প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতার স্বাক্ষর রাখছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন নারী। ডাক্তার, বৈজ্ঞানিক, পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, রাজনীতি থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের দৃশ্যমান উপস্থিতি রয়েছে।

১৯৭২ সালের সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ বিশ্লেষণ করে স্পিকার বলেন, সংবিধানের ২৮(২) অনুচ্ছেদে নারীর ক্ষমতায়নের ‘শক্ত ভীত’ রচিত হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ‘সুগভীর প্রজ্ঞা ও দুরদর্শীতার কারণে’ রাষ্ট্র ও গণজীবনের কোনো ক্ষেত্রে নারীর প্রতি বৈষম্য করার সুযোগ থাকেনি।

বাহাত্তরের সংবিধানের প্রসঙ্গ টেনে স্পিকার বলেন, ১৯৭২ এর সংবিধানে নারীদের জন্য ১৫টি সংরক্ষিত আসন দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় বর্তমানে একাদশ জাতীয় সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে।

বিশ্বের অনেক দেশেই আজ পর্যন্ত এই ধরনের বিধান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

আরো বলেন, “১৯৬৭ সালে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা ছিল বঙ্গবন্ধুর এক অনন্য অবদান। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মূলধারার রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে মহিলা আওয়ামী লীগ।”

স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নির্যাতিত নারীদের আশ্রয় ও পুনর্বাসনের জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ব্যাপক কার্যক্রম নিয়েছিলেন, তা অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন স্পিকার।

“যখন এইসব নারীদের যথাযথ সম্মান দেখাতে সমাজ ব্যর্থ হয়,  তখন বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, তাদের পিতার জায়গায় শেখ মুজিবুর রহমান লিখতে হবে এবং তাদের ঠিকানা হবে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর। নির্যাতিত নারীদের পুনর্বাসনের জন্য ১৯৭২ সালেই বঙ্গবন্ধু গঠন করেন নারী পুনর্বাসন বোর্ড। নির্যাতিতদের তালিকা তৈরি করে ওই বোর্ড।

“নির্যাতিত নারীদেরকে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আজ থেকে পাক বাহিনীর নির্যাতনে মহিলারা সাধারণ মহিলা নয়, তোমরা বীরাঙ্গনা। তোমরা আমাদের মা’।”

বঙ্গবন্ধুর মত তার স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবও যে বীরাঙ্গনাদের বিয়ের ব্যবস্থা নিয়েছিলেন, সে কথাও স্পিকার বলেন।

সরকারের প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের পুনর্বাসনে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। গ্রামীণ নারীদের কৃষি কাজে উদ্বুদ্ধ করার জন্য সাভারে ৩৩ বিঘা জমির ওপর চালু করা হয় কৃষিকাজ নির্ভর কর্মসূচি। বঙ্গবন্ধু নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিতের ওপরেই অধিক গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, নারীর নিজস্ব আয় পরিবারে তাদের সম্মান বৃদ্ধি করে।

“নারীকে তার স্থান দিতে হবে এমন উপলব্ধির কথা বঙ্গবন্ধু বার বার প্রকাশ করেছেন। বঙ্গবন্ধুর জীবন দর্শনের গভীরে নারী-পুরুষের সমতা ও সাম্যের সত্য প্রতিথ রয়েছে, তারই প্রমাণ দেয়।”

বঙ্গবন্ধুর লেখা গ্রন্থ ‘আমার দেখা নয়াচীন’ থেকে উদ্ধৃত করে স্পিকার বলেন, “বিয়েতে যৌতুক প্রথা কখনও কাম্য নয়। যে ছেলে এভাবে অর্থ চাইবে, তাকে কোনো মেয়ের বিবাহ করা উচিত না।”

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষ্যে ‘মুজিব চিরন্তন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ১০ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার সপ্তম দিনের অনুষ্ঠান সাজানো হয় ‘নারীমুক্তি, সাম্য ও স্বাধীনতা’ থিম সামনে রেখে। সপ্তম দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে স্পিকার এসব কথা বলেন।

রূপশ্রী/ টি আর