৪০ জন নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে লা মেরিডিয়ানের দুই মাসব্যাপী ফ্যাশন উৎসব

797

রূপশ্রী প্রতিবেদন

৬ মার্চ, ঢাকাঃ

করোনাকালীন সংকট মোকাবেলায় ৪০ জন নারী ফ্যাশন ডিজাইনার ও উদ্যোক্তাদের নিয়ে পাঁচতারকা হোটেল লা মেরিডিয়ান আয়োজন করেছে ফ্যাশন উৎসব ‘দ্য রয়েল বেঙ্গল অ্যাটেলিয়ার‘। এর মধ্য দিয়ে লা মেরিডিয়ানের নিচতলায় বিনামূল্যে নিজেদের পণ্য প্রদর্শনীর জন্য পপ আপ স্টোরের সুবিধা পাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। যেখানে পাওয়া যাচ্ছে বাংলাদেশে তৈরি, সব বয়সের জন্য এ সময়ের ট্রেন্ডি সব পোশাক । এই ফ্যাশন উৎসব পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে নিভৃতে কাজ করে চলা বাংলাদেশের মেধাবী সব পোশাক নকশাবিদ ও উদ্যোক্তাদের সৃজনজগৎকে।

গত বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় এই আয়োজনের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি রুবানা হক। উদ্যোক্তা, ডিজাইনারদের স্বাগত জানিয়ে রুবানা হক বলেন, ‘আপনারা কারও উপর নির্ভর করবেন না, নিজেই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। কেউ যদি আপনার পাশে নাও থাকে, তাতে কিছু যায় আসে না, এগিয়ে যেতে হবে।  এগিয়ে চলার চেষ্টার মধ্য দিয়েই সাফল্য  আসবে।’

গত ৪ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রদশর্নী চলবে ঈদুল ফিতরের আগের রাত পর্যন্ত (১৩ মে)। লা মেরিডিয়ানের দ্য রয়েল বেঙ্গল অ্যাটেলিয়ার আয়োজনে যুক্ত হয়েছেন ৪০ জন নারী উদ্যোক্তা, ডিজাইনার ও তাঁদের ব্র্যান্ড। এই তালিকায় রয়েছে সেলিনা নুসরত, জুবাইদা ফাইজা ক্লোদিং, সালমিনা রহমান কতুর, রুলমেকার শার্টস, লিল স্টার, জার, ভায়োলা, রাজ বাই নিঝু, সিমলি, চলসহ অন্যরা।

এ আয়োজন লা মেরিডিয়ানের সামাজিক দায়বদ্ধতারই অংশ। এই আয়োজন নিয়ে লা মেরিডিয়ান ঢাকার মহাব্যবস্থাপক কনস্ট্যান্টিনোস এস গ্যাব্রিয়াল বলেন, ‘আমরা আন্তরিকভাবে অনুভব করেছি, বাংলাদেশের ফ্যাশনশিল্পকে সমর্থন করা উচিত। তাই আমরা আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত হয়েছি। লা মেরিডিয়ান ঢাকার পক্ষ থেকে এটি বাংলাদেশের ফ্যাশনশিল্পের জন্য উপহার। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক নারী দিবসকেও বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলবে এই আয়োজন। কারণ, এখানে অংশ গ্রহণকারীদের বড় একটি অংশ নারী উদ্যোক্তা।’

আয়োজন প্রসঙ্গে বেস্ট হোল্ডিংস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মুসলিম আলী আরিফ বলেন, ‘আমাদের সম্ভবনাময় এই ডিজাইনার, উদ্যোক্তরা করোনা মহামারির মধ্যে একটি সংকটময় পরিস্থিতিতে আছে। আমরা চেয়েছি আমাদের মাধ্যমে যেন তাদের পণ্য প্রদর্শনীর সুযোগ হয়। এটি অন্য আর দশটির মেলার মতো ৩-৪ দিনের কোনও আয়োজন নয়।  প্রায় টানা তিন মাস তারা আমাদের এখানে তাদের ডিজাইনকরা পোশাক প্রর্দশনের সুযোগ পাবেন। আমরা এজন্য কোনও চার্জ নিচ্ছি না।’

বিভিন্ন দেশে পপআপ স্টোর বা শপ জনপ্রিয় হলেও আমাদের দেশে এ ধারণা কিছুটা নতুন। প্রায় ৪০ জন ডিজাইনার ও উদ্যোক্তাকে পণ্য প্রর্দশনীর জন্য পপ আপ স্টোরের এই ব্যবস্থা বাংলাদেশে পপআপ স্টোরের ধারণাটিও জনপ্রিয় করে তুলতে সাহায্য করবে বলে ভাবছেন আয়োজকরা।

রূপশ্রী/ এম এস