বিজয়ের মাসে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেলেন আরও ৬১ বীরাঙ্গনা

892

রূপশ্রী প্রতিবেদনঃ

বিজয়ের এই মাসে সরকার একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অবদান ও আত্মত্যাগের জন্য আরও ৬১ জন বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়ে তাদের নামের তালিকা প্রকাশ করেছে। সর্বশেষ এই অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৪০০ বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা পেয়েছেন। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৭০তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বীরাঙ্গনারা এ স্বীকৃতি পেলেন।

স্বীকৃত বীরাঙ্গনাদের প্রত্যেকে মাসিক ১২ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। এ ছাড়া, তাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিদের জন্য সরকারি চাকরিতে বিশেষ কোটা সুবিধা থাকবে।

সারা দেশের ৬১ জন নারী মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে কিশোরগঞ্জে ১ জন, মৌলভীবাজারে ১ জন, নাটোরে ১২ জন, পিরোজপুরে ১ জন, ময়মনসিংহে ১ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১ জন, বগুড়ায় ১ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ২ জন, পটুয়াখালীতে ১৫ জন, সাতক্ষীরায় ১ জন, খাগড়াছড়িতে ১ জন, মাদারীপুরে ১ জন, বরগুনায় ২ জন, ফরিদপুরে ১ জন, বরিশালে ১ জন, কুষ্টিয়ায় ২ জন, সিলেটে ১৩ জন, গোপালগঞ্জে ২ জন ও খুলনায় ১ জন নারী মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন।

ড. এম হাসানের নেতৃত্বে ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস অ্যান্ড ফাইন্ডিং কমিটি জানায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় কমপক্ষে এক লাখ ৬২ হাজার নারী ধর্ষণের শিকার হন এবং এক লাখ ৩১ হাজার হিন্দু নারী নিখোঁজ হন। কমিটির তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হিন্দু নারীদের পাকিস্তান সেনারা ধর্ষণের পর হত্যা করে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি আদেশের পর বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। গত সোমবার (১৪ ডিসেম্বর)মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে এ সকল তথ্য জানায় । এর আগে গত ২৯ অক্টোবর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামসসহ অন্য সহযোগীদের হাতে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতিত বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্তির জন্য আবেদন আহ্বান করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। নিজ নিজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন জমা দিতে বলা হয়।

রূপশ্রী/ এম এস