সামিয়া রহমানের মানহানির মামলা সিআইডিকে তদন্ত করার নির্দেশ আদালতের

1028

রূপশ্রী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার ( ১ এপ্রিল), ঢাকা:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সামিয়া রহমানের মানহানির মামলাটি পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে আগামী ২০ মের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন। গত বুধবার সামির রহমান বাদী হয়ে ভুয়া ই-মেইলে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাইবার ট্রাইব্যুনালে এই মামলা করেন।
এরআগে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির প্রমাণ পাওয়া গেছে জানিয়ে সামিয়া রহমানকে শাস্তি দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। সম্প্রতি সহযোগী অধ্যাপক থেকে পদাবনতি ঘটিয়ে তাঁকে সহকারী অধ্যাপক করা হয়। তবে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ অস্বীকার করেন সামিয়া ।

সামিয়া রহমান আদালতে অভিযোগ করেন, শিকাগো জার্নালের যে ই-মেইলের ভিত্তিতে তাঁকে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে, তা ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর’। বাস্তবে শিকাগো জার্নালের পক্ষ থেকে অফিশিয়ালি তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর কোনো ই-মেইল পাঠানো হয়নি। অ্যালেক্স মার্টিন নামের কোনো ব্যক্তি শিকাগো জার্নালে কাজ করেন না। শিকাগো জার্নালের সম্পাদক ক্রেগ ওয়াকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন সামিয়া। তিনি বলেছেন, ‘ক্রেগ ওয়াকার জানিয়েছেন, অ্যালেক্স মার্টিন বলে কেউ কখনো শিকাগো জার্নালে ছিলেন না। কাজও করেননি। অ্যালেক্স মার্টিন একটি ভুয়া নাম।’
সামিয়া রহমান দাবি করেন, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ভুয়া ই-মেইল আইডি তৈরি করে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য দিয়ে মেইলটি করেছিলেন। আর যে ই-মেইলের ওপর ভিত্তি করে তাঁকে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়, সেই ই-মেইলের কোনো সফট কপি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে পাঠায়নি।
জানা যায়, ২০১৬ সালে সামিয়া রহমান এবং অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানের যৌথভাবে লেখা ‘আ নিউ ডাইমেনশন অব কলোনিয়ালিজম অ্যান্ড পপ কালচার: আ কেস স্টাডি অব দ্য কালচারাল ইমপেরিয়ালিজম’ শীর্ষক আট পৃষ্ঠার একটি নিবন্ধ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের নিজস্ব জার্নাল সোশ্যাল সায়েন্স রিভিউয়ে প্রকাশিত হয়। তখন অভিযোগ ওঠে, ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকোর ১৯৮২ সালে প্রকাশিত ‘দ্য সাবজেক্ট অ্যান্ড পাওয়ার’ শীর্ষক নিবন্ধ থেকে পাঁচ পৃষ্ঠার মতো হুবহু নকল করেছেন তাঁরা।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানায় ওই গ্রন্থের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো প্রেস। নিবন্ধটিতে ফুকো ছাড়াও ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন চিন্তক এডওয়ার্ড সাঈদের‘কালচার অ্যান্ড ইমপেরিয়ালিজম’ গ্রন্থের পাতার পর পাতা হুবহু কপি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগটি তদন্তে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরীন আহমাদকে প্রধান করে একটি কমিটি করে সিন্ডিকেট। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৯ সালে তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সামিয়া-মারজানের চৌর্যবৃত্তির অভিযোগটির সত্যতা মিলেছে। এরপর গত ২৮ জানুয়ারি একাডেমিক গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির দায়ে সামিয়া রহমান ও মাহফুজুল হক মারজানের পদাবনতি করে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।

সংবাদ সম্মেলন করে সামিয়া রহমান বলেন, তাঁকে ষড়যন্ত্র করে অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তাঁকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ন্যায়বিচার পাননি।

রূপশ্রী/এই জীবন/নারী/এইচবি