রূপশ্রী প্রতিবেদন, ঢাকা:
ছাত্র-জনতার অভূথ্যানের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে এখন ট্রাফিক পুলিশ নেই। তাদের অনুপস্থিতিতে সড়কের শৃংখলা ফেরাতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই ঢাকায় ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করছে। আর তাদের সহযোগিতা করছেন নগরবাসীও।শিক্ষার্থীদের এ কাজের প্রশংসা করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
বুধবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি শিক্ষার্থীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
গতকাল রাজধানীর সরকগুলোতে শিক্ষার্থীদের দল বেঁধে দেখা যায় সড়কের যান নিয়ন্ত্রণ করতে। সড়কের পাশে, মাঝ বরাবর দাঁড়িয়ে প্লেকার্ড ও লাঠি হাতে তারা গাড়ি চালকদের লেন মেনে যান চালানোর জন্য নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে শিক্ষার্থীদের একজন মো. মাহমুদ বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে সড়কে যান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করছি। আমাদের সঙ্গে স্কাউটের শিক্ষার্থীরাও যোগ দিয়েছে।
যতদিন পর্যন্ত ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন শুরু না করবে ততদিন পর্যন্ত আমরা এই দায়িত্ব পালন করব। ’ শিক্ষার্থীরা আরও জানায়, তারা রাত ১০টা পর্যন্ত যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের কাজ করবে। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ‘ট্রাফিক আইন মেনে চলুন’ ‘হেলমেট ব্যবহার করুন’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
শুধু যান চলাচল নিয়ন্ত্রণই নয়, এর পাশাপাশি সড়ক পরিষ্কারেও শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। আর শিক্ষার্থীদের এসব কাজের প্রশংসা করেন সাধারণ মানুষ। আশপাশের বিভিন্ন দোকান, রেস্টুরেন্ট থেকে শিক্ষার্থীদের কাজের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তাদের খাবার, পানি এবং জুস দিতে দেখা যায় অনেকস্থানে। তবে শিক্ষার্থীরা অনেকস্থানে প্রয়োজনীয় পানি নিজেরাই সংগ্রহ করে সড়কে সেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
রাজধানীর বিভিন্নস্থানে শিক্ষার্থীদের ঝাড়ু ও বেলচা হাতে জমে থাকা রাস্তার ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার ও সাদা রং দিয়ে দেওয়াল লিখন মুছে ফেলতে দেখা যায়। তাদের একজন মারিয়া তাবাসসুম বলেন, ‘সড়কে যান চলাচলের পাশাপাশি আন্দোলন চলাকালীন সময়ে সড়কের ওপর পড়ে থাকা ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করছি। মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে সড়কে চলাচল করতে পারেন। ’
‘যে শিক্ষার্থীরা কয়দিন আগে আন্দোলন করে আওয়ামী লীগ সরকারকে গদি থেকে নামিয়েছে, আজ তারই সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে। রাস্তাঘাট পরিষ্কার করছে। নগরবাসী তাদের এই কাজের প্রশংসা করছেন অকুণ্ঠ চিত্তে ।







