রাজাকার স্লোগানের জের:রণক্ষেত্র ঢাক বিশ্ববিদ্যালয় জরুরী বৈঠকে প্রভোস্ট কমিটি

316

রাজাকার শ্লোগান দেওয়ার পর সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ২৯৭ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার রাত ৯টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়াও অন্যান্য হাসপাতালেও কেউ কেউ চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার বেলা তিনটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের সামনে ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর ক্যাম্পাসের কয়েকটি জায়গায় আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগ হামলা চালায় বলেও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা পিছু হটলে তাঁদের ধরে ধরে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।


ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আহত ব্যক্তিদের অধিকাংশই আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে ছাত্রলীগেরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।

জরুরি বৈঠকে ঢাক বিশ্ববিদ্যালয় প্রভোস্ট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ হলে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিশ্চিত করাসহ পাঁচ দফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কমিটি। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘাত-সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার বিকেলে প্রভোস্ট কমিটির এক জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামাল।

পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রভোস্ট কমিটির সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
সভায় নেওয়া পাঁচটি সিদ্ধান্ত হলো—১. শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ হলে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করবেন। ২. প্রভোস্ট ও আবাসিক শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিকভাবে হলে অবস্থান করবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। ৩. হলগুলোতে কোনো বহিরাগত অবস্থান করতে পারবেন না। ৪. যেকোনো ধরনের গুজব ও অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান এবং ৫. সবাইকে নাশকতামূলক কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য বলা হয়েছে। কেউ নাশকতামূলক কাজে জড়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার জন্য এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। সভায় সহ–উপাচার্য (প্রশাসন) মুহাম্মদ সামাদ, সহ–উপাচার্য (শিক্ষা) সীতেশ চন্দ্র বাছার, কোষাধ্যক্ষ মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এবং বিভিন্ন হল ও হোস্টেলগুলোর প্রভোস্ট ও ওয়ার্ডেনরা উপস্থিত ছিলেন।

তথ্য ও ছবি সৌজন্য: প্রথম আলো