রূপশ্রী ডেস্ক: শনিবার (২৬ জুন), ঢাকা: অভিবাসনপ্রত্যাশী ২৬৪ বাংলাদেশিকে ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার করেছে তিউনিসিয়ার নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড। লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে দেশটির উত্তর-পূর্বে এল কেটফ উপকূলে ডুবতে যাওয়া ভাসমান একটি কাঠের নৌকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। বাংলাদেশিদের সঙ্গে আরও তিন মিশরীয় নাগরিক রয়েছেন।
তিউনিসিয়ার ইন্টারন্যাশনাল অরগানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের (আইওএম) বরাত দিয়ে তিউনিসিয়ান নিউজ এজেন্সি টিএপি এ তথ্য জানিয়েছে।
তিউনিসিয়ার কোস্টগার্ড জানায়, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের উদ্ধার করে উপকূলে নিয়ে আসার পর আইওএম ও রেড ক্রিসেন্টের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে লিবিয়া বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাসে তিউনিসিয়ার জলসীমা থেকে এ নিয়ে ৪৮৫ জন ইউরোপগামী অভিবাসনপ্রত্যাশী বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হয়েছে।
আইওএম জানায়, উদ্ধার অভিবাসনপ্রত্যাশীদের তিউনিসিয়ার দ্বীপ জেরবার একটি হোটেলে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।
কোয়ারেন্টিন শেষে নিয়ম অনুযায়ী তাদের ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হবে। এরপর দেশে ফিরতে ইচ্ছুকদের আইএমওর ব্যবস্থাপনায় পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এর আগে গত ১৭ মে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে তিউনিসিয়ার জলসীমায় নৌকাডুবির ঘটনায় ৮১ জন বাংলাদেশির মধ্যে ৬৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করে দেশটির নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১৩ জন বাংলাদেশি। এই ঘটনার আগের দিন সাগর পাড়ি দেওয়ার সময় ডুবতে যাওয়া একটি নৌকা থেকে ৫২ জন এবং ২৭ ও ২৮ মে আরও ১৭৯ জন বাংলাদেশি উদ্ধার হয়।
লিবিয়া ও তিউনিসিয়া থেকে অভিবাসীদের ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান পয়েন্ট ইতালি। দেশটি অভিমুখী নৌকাগুলো লিবিয়া থেকে সরাসরি না গিয়ে প্রায়ই তিউনিসিয়া উপকূল হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে।
তিউশিয়ান ন্যাশনাল গার্ড জেনারেল অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের ৩১ মে পর্যন্ত তিউনিসিয়ার জলসীমায় ইতালিমুখী ৩০৮টি অবৈধ অভিবাসন অপারেশন ঠেকানো হয়। সে সময় উদ্ধার চার হাজার ৩৭৬ জনের মধ্যে দুই হাজার ৫৩১ জন বিদেশি রয়েছেন।
আইওএম আরও জানায়, জানুয়ারি থেকে এক হাজারেরও বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী লিবিয়া থেকে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টা করার সময় তিউনিসিয়ায় ধরা পড়ে। এ সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার সময় অন্তত ৭৬০ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে।
তথ্য সূত্র: ডেইলি স্টার
#
এনএফ/আরএইচ







