বিশ্ব মানবাধিকার দিবস আজ

508

রুপশ্রী প্রতিবেদন
ফিলিস্তিনে জাতিসংঘ সনদ লংঘনের উৎসবের মধ্যে এবার বিশ্ববাসীর সামনে এসেছে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস।
দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য—‘সবার জন্য মর্যাদা, স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার’।

কিন্তু ফিলিস্তিনি শিশু, নারী, পুরুষ কারো জন্য জাতিসংঘের এই স্লোগান প্রযোজ্য নয়। ফিলিস্তিনে জাতিসংঘ অসহায়। সেখানে ৬৩ দিন ধরে চলছে যুদ্ধ।সেই যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছ ১৮ হাজার মানুষ। যার অধিকাংশ নারী ও শিশু। প্রাণ হারিয়েছে জাতিসংঘ কর্মী, রেডক্রসের কর্মী, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, উদ্ধারকর্মী নির্বিশেষে সবাই। ধংস হয়েছে মসজিদ, গির্জা, জাতিসংঘ আশ্রয় কেন্দ্র, বাড়ি ঘর। ইসরাইলের বোমা বর্ষনে গোটা ফিলিস্তিন আজ ধংসস্তূপে পরিণত। সে যুদ্ধবন্ধে জাতিসংঘে উথাপিত বিপুল ভোটে পাশ হওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে আমরিকা। ফলে বিশ্ব মানবাধিকার পালিত হচ্ছে যেন শুভ শক্তির আগমনের প্রত্যাশায়।
বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন মানববন্ধন, আলোচনাসভাসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করছে। বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।
১৯৪৮ সালের এই দিন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়। পরে ১৯৫০ সালের ১০ ডিসেম্বর দিনটিকে জাতিসংঘ বিশ্ব মানবাধিকার দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই-সংগ্রাম করেছেন। তিনি বাংলাদেশের সংবিধানে সুনিপুণভাবে মানবাধিকারের বিষয়গুলো সন্নিবেশিত করেছিলেন। এই সাংবিধানিক অধিকার তথা মানবাধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের সব নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হতে সবার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মানুষের মৌলিক অধিকার ও চাহিদা নিশ্চিতের পাশাপাশি সবার নিরাপত্তা বিধান, স্বাধীনতা ও মর্যাদা সমুন্নত রাখাই মানবাধিকার।
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, ‘পঁচাত্তরের পনেরো আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পর এদেশে মানবাধিকার বলে আর কিছু ছিল না। খুনিদের যাতে কেউ বিচার করতে না পারে, সেজন্য দায়মুক্তি অধ্যাদেশে প্রণয়ন করে আমাদের স্বজনদের হত্যার বিচার চাওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর সেই কালো আইন বাতিল করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এরপর থেকে আমরা সবার মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচারের ব্যবস্থা করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উদ্যোগে ‘বিশ্ব মানবাধিকার দিবস’ পালন করা হচ্ছে জেনে তিনি আনন্দিত। এ উপলক্ষে তিনি বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে বিশ্বের শোষিত-নিপীড়িত মানুষের ন্যায়সংগত সংগ্রামের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।