বিজয় দিবস উপলক্ষে রঙীন আলোয় ঝলমল রাজধানী

738

রূপশ্রী প্রতিবেদক
রাতপোহালে মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এইদিন দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযুদ্ধ শেষে ঢাকায় আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী । বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। আজ বাংলাদেশের নব জন্মের ৫৩ বছরে।
বাঙালি জাতি গৌরবোজ্জ্বল এই দিনকে উদযাপনের জন্য ১৫ ডিসেম্বর রাতের রাজধানী ঢাকা সেজেসে অপরূপ সাজে। জাতীয় পতাকা বা লাল-সবুজের রঙে বহুতল ভবনের দেয়ালগুলো আলোঝলমল হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, জাতীয় সংসদ ভবন থেকে শুরু করে সুপ্রিপ কোর্ট ভবন, সচিবালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বেসরকারি ভবনগুলোয় রঙিন আলোয় ঝলমল করছে। বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সদর দফতর-কার্যালয়ের পাশাপাশি বাসা-বাড়িও সেজেছে উৎসবের সাজে। এরমধ্যে কোথাও আবার লাল-নীল আলোর মাঝে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশাল ছবি শোভা পাচ্ছে, কোথাও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি জ্বলমল করছে।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলোও সাজানো হয়েছে লাল-নীল ঝাড়বাতি দিয়ে।
আজ মহান বিজয় দিবস। যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর ভোরে ঢাকায় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন।বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকরা, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ ফুল দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।
দিনটিতে সরকারি ছুটি। সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলোকে জাতীয় পতাকা ও অন্যান্য পতাকায় সজ্জিত করা হবে। ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিভিন্ন বাহিনীর বাদক দল বাদ্য বাজাবেন।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাণী দিয়েছেন। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এদিন সংবাদপত্রগুলোয় প্রকাশ করা হবে বিশেষ ক্রোড়পত্র। এ ছাড়া ইলেকট্রনিক মিডিয়া মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচার করছে।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করবে।

কৃতজ্ঞতা: রাতের ঢাকার ছবি সাজ্জাদ হোসেন ও নাসির হোসেন