রূপশ্রী প্রতিবেদন
ঢাক: পারিবারিক দু:সময়ে দেশসেরা মার্শাল আর্ট–কন্যা সান্তনা রানী রায়কে ১০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মার্শাল আর্টের Ôতায়কোয়ানদো’ ফরমেটে ২০১২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর আটটি স্বর্ণপদক জিতে তিনি নিজেকে দেশসেরা প্রমাণ করেন। একইভাবে বিশতম বিশ্ব তায়কোয়নদো প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে জিতেছেন ব্রোঞ্জ পদক। শুধু তিনি একাই নন, এখন তার প্রশিক্ষিত অনেক ছাত্র–ছাত্রীও এরমধ্যে স্বর্ণপদক জয় করতে শুরু করেছেন। সাত্বনার দক্ষ প্রশিক্ষণ ও অনুপ্রেরণায় তার এক শিক্ষার্থী এরমধ্যে একটি স্বর্ণপদক এবং দুজন রৌপ্য ও ছয় শিক্ষার্থী ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে।

লালমনিরহাট জেলার আদিতমারীর সারপুকুর ইউনিয়নের হরিদাশ গ্রামের প্রান্তিক কৃষক সুভাষ রায়ের মেয়ে সাত্বনা রায়। তিনি ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেছেন। ঢাকার বারিধারায় ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্রীড়া শিক্ষকতার পাশাপাশি লালমনিরহাট সরকারি কলেজের ছাত্রীদের তায়কোয়ান্দো প্রশিক্ষণ দেন তিনি। নিজের এই উপার্জন দিয়ে দারিদ্র পীড়িত টানাটানির সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তিনি। এরইমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন মা ও ভাই। তাদের চিকিৎসা করাতে গিয়ে খুবই বিপদে পড়ে যান তিনি। তার পারিবারিক দু:সময়ে কথা সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
অতুলনীয় ক্রীড়া নৈপুণ্য এবং দেশে–বিদেশে সুনাম অর্জনকারী এই সফল ক্রিড়াবিদের দুদর্শার কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি গোচর হয়। তিনি এ বিষয়ে খোঁজ নেয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ১০ লাখ টাকার অনুদান মঞ্জুর করেন তিনি।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মার্শাল আর্ট–কন্যা সান্তনা রানী রায়ের হাতে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ১০ লাখ টাকার চেক তুলে দেন । এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. আখতার হোসেন।
কৃতজ্ঞতায় মুগ্ধ সাত্বনার চেক গ্রহণের পর সাংবাদিকদের বলেন, Ôআমি খুবই আনন্দিত যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার বিপদের সময় পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। গত মার্চ মাসে আমার পারিবারিক সমস্যার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমে জানতে পারেন। তিনি রাসেল স্যারকে আমার বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে বলেন। তিনি আমাকে ফোন করেন এবং তার সচিবালয়ের দপ্তরে আমাকে ডেকে নেন। পরবর্তীতে রাসেল স্যার আমার দুরাবস্থার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানান। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।’
এরআগে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, Ôআমাদের সৌভাগ্য যে আমরা এমন একজন ক্রীড়াবান্ধব প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি, যিনি সবসময় আমাদের অসহায় ক্রীড়াবিদদের সহযোগিতা করে থাকেন। খেলাধুলার উন্নয়নে আমরা যখনই যা চেয়েছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তা আমাদের দিয়েছেন।’তিনি আরও লেন, Ôঅতি সম্প্রতি তিনি করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ খেলোয়াড়দের সহায়তা করতে তিন কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। আমরা অচিরেই এ অর্থ দেশের তৃণমূল পর্যায়ের ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংগঠকদের হাতে তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছি।’
মার্শাল আর্ট–কন্যা সান্তনা রানী রায়কে সাতটি স্বর্ণপদক পেতে দীর্ঘ অধ্যবসায় ও অনুশীলনের মধ্য দিয়ে যেতে হযেচে। জানা যায়, তিনি ২০০৫ সাল থেকে মার্শাল আর্টের ওপর (কারাতেদো, তায়কোয়ান্দো) পর্যায়ক্রমে রংপুর, রাজশাহী ও ঢাকায় প্রশিক্ষণ নেন। ২০১১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট পান তিনি। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আইটিএফ তায়কোয়ান্দো চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম জাতীয়ভাবে রৌপ্যপদক জিতেন। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় দ্বিতীয় ফজিলাতুন্নেছা মুজিব আন্তর্জাতিক তায়কোয়ান্দো চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক লাভ করেন। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ২০১৪ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত সপ্তম এশিয়ান তায়কোয়ান্দো চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক পান। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় সপ্তম জাতীয় আইটিএফ তায়কোয়ান্দো চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক পান। এই প্রতিযোগিতায় সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়ায় তাকে আরও একটি স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় অগ্রণী ব্যাংক নবম জাতীয় তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতা এবং ২০১৮ সালের এক জানুয়ারি অগ্রণী ব্যাংক চতুর্থ বাংলাদেশ কাপ তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতায় সাত্বনা রানী দু’টি স্বর্ণপদক লাভ করেন। এরআগে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইংয়ে অনুষ্ঠিত ২০ তম ওয়ার্ল্ড তায়কোয়ান্দো চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ পদক পান সাত্বনা রায়।
রূপশ্রী/এইচআর







