কোটা সহিংসতায় নিহত ৬: বিজিবি মোতায়েন, এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা

319

রূপশ্রী প্রতিবেদন, ঢাকা: চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন আজ মঙ্গলবার সহিংসতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে ৬ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন কয়েকশ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্নস্থানে বিজিবি মোতায়েন কড়া হয়েছে।
এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় দেশের স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে ১৮ জুলাইয়ের এইচএসসি পরীক্ষাও স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও তাদের সব কলেজ বন্ধ ঘোষণা করেছে।
জানাযায়, মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দেশের বিভিন্ন স্থানে কোটাবিরোধীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মী ও পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘর্ষে রংপুরে একজন, চট্টগ্রামে তিন জন ও ঢাকায় দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শত শত তরুণ-তরুণী।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়া, রাজশাহী ও রংপুর জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) রাতে ইউজিসির সচিব ড. ফেরদৌস জামানের সই করা এ সংক্রান্ত একটি চিঠি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের পাঠানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় দেশের সব পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত মেডিকেল, টেক্সটাইল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও অন্যান্য কলেজসহ সব কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে আবাসিক হল ত্যাগের নির্দেশনা দিয়ে নিরাপদ আবাসস্থলে পাঠানোর নির্দেশনা প্রদান করা হলো।
এর আগে মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে সারা দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শ্রেণি কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা দেয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিদ্যালয় ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটসমূহের শ্রেণি কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

ছবি:পিআইডি