রূপশ্রী প্রতিবেদন
ঢাকা (মঙ্গলবার, ৫ মে): সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে মব সৃষ্টি করে পিটিয়ে হত্যা করা ট্রাকচালক হান্নান শেখের দুই বছর বয়সী শিশু মুসলিমার পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসাবে শিশুটির দাদা মো. শাহিদ শেখ ও দাদি নার্গিস বেগমের হাতে নগদ ২০ হাজার টাকা, ১০ হাজার টাকা সমমূল্যের চাল, ডাল, শিশুখাদ্য, গুঁড়া দুধ, সুজি ও আটাসহ বিভিন্ন শুকনো খাবার এবং শিশুটির হাতে খেলনা তুলে দেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান। এসময় উপজেলার সাতৈর গ্রামে নিহত হান্নান শেখের বাড়িতে তিনি প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেন। তিনি জানান, মুসলিমার সার্বিক পরিস্থিতি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে লিখিত নোটও পাঠানো হয়েছে। পরিবার শিশুটিকে এতিমখানায় দিতে রাজি না হওয়ায় দাদা-দাদির কাছে রেখেই তার ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করার সব ব্যবস্থা সরকার গ্রহণ করা হবে। ইউএনও আরো জানান, সাতৈর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাফিউল আলম মিন্টুকে প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল সরবরাহের কার্ড করে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসকও ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সহায়তা করবেন বলে জানান তিনি।
জানা যায়, ফরিদপুরের ফরিদপুরের নগরকান্দায় ১ মে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ বিলনালিয়া নতুন হাট এলাকায় ধাওয়া খেয়ে দুর্ঘটনার শিকার ট্রাকচালক হান্নান শেখ (৩০)। এরআগে ট্রাক নিয়ে তালমা বাজারে যাওয়ার পথে সালথা উপজেলার রসুলপুর বাজারে ব্যাটারিচালিত একটি অটোভ্যানের সঙ্গে ধাক্কা লাগে ট্রাকের। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধা উপেক্ষা করে হান্নান ট্রাক নিয়ে চলে যান। তখন অজ্ঞাতনামা জনৈক মোটরসাইকেল আরোহী ট্রাকের পেছন ধাওয়া করেন এবং ফেসবুক লাইভে এসে তিনি ট্রাক থামাতে জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এসময় লাইভে গুজব ছড়ানো হয়, ট্রাকটি বেপরোয়া গতিতে চালিয়ে ২০-৩০ জন মানুষকে মেরে ফেলেছে বলে গুজব ছাড়ানো হয়।
হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের : ফরিদপুরের নগরকান্দায় গুজব ছড়িয়ে ট্রাকচালক মো. হান্নান শেখকে (৩০) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে তার বাবা মো. শাহিদ শেখ। সোমবার রাতে নগরকান্দা থানায় দায়ের করা মামলায় অজ্ঞাতনামা ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহার অনুসারে, ১ মে রাত ৮টার দিকে হান্নান ট্রাক নিয়ে তালমা বাজারে যাচ্ছিলেন। পথে সালথা উপজেলার রসুলপুর বাজারে ব্যাটারিচালিত একটি অটোভ্যানের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধা উপেক্ষা করে হান্নান ট্রাক চালিয়ে চলে যান। সে সময় অজ্ঞাতনামা মোটরসাইকেল আরোহী ট্রাকের পেছন ধাওয়া করেন এবং ফেসবুক লাইভে এসে ট্রাক থামাতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। লাইভে গুজব ছড়ানো হয়, ট্রাকটি বেপরোয়া গতিতে চালিয়ে ২০-৩০ জন মানুষকে মেরে ফেলেছে, উল্লেখ করা হয়েছে এজাহারে।
এতে আরও বলা হয়, রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ বিলনালিয়া নতুন হাট এলাকায় ‘মুন্সী ষ্টোর নামে’ একটি দোকানের ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং রাস্তার পাশের গাছের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। সে সময় অজ্ঞাতনামা ১০০-১৫০ জন ট্রাকটিকে ধাওয়া করছিল। তারা হান্নান, তার সহযোগী আল আমিন মোল্লা (৩২) ও নাঈম শেখকে (২৬) ট্রাক থেকে নামিয়ে লাঠি, লোহার রড ও দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। পরবর্তীতে পুলিশ গুরুতর আহত তিনজনকে চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক হান্নানকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রসুল সামদানী আজাদ
বলেন, ‘গুজব রটনাকারী মোটরসাইকেল আরোহী ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত করছে। আশা করছি, দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।







