নয়া মন্ত্রিসভায় ৭ নারীসহ ৭২ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর শপথ

376

ঢাকা, রূপশ্রী ডেস্ক: রবিবার রাতে শপথ নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর শপথ নেন সাত নারীসহ নয়া মন্ত্রিসভার ৭২ সদস্য। এরমধ্যে দুই জন নারীসহ পূর্ণমন্ত্রী ৩০ জন, পাঁচজন জন নারীসহ ৩৬ জন প্রতিমন্ত্রী ও পাঁচ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ২৭২ আসনে না জেতার কারণেই এনডিএ জোটের মন্ত্রিসভার কলেবর বড় হয়ে ৭২ এ পৌঁছেছে। এজন্য এনডিএ শরিকদের
পাঁচজন পূর্ণমন্ত্রী এবং ছয়জন প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হয়েছে বিজেপিকে। তারপরও, অজিত পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপিসহ ৬ শরিক দলের কেউ মন্ত্রীত্ব পায়নি। আবার পঞ্জাবের শরিক আরপিআই লোকসভায় কোন আসন না পেলেও রাজনৈতিক বিবেচনায় পেয়েছে মন্ত্রীত্ব।
রবিবার (৯ জুন) শপথ নেওয়া ৩০ জন পূর্ণমন্ত্রীর মধ্যে বিজেপির ২৫ জন। এদের মধ্যে তামিলনাড়ুর নির্মলা সীতারামন ও ঝাড়খণ্ডের অন্নপূর্ণা দেবী নারীমন্ত্রী। বিজেপির অন্য মন্ত্রীরা হলেন গুজরাট থেকে নির্বাচিত রাজ্যসভা সাংসদ এস জয়শঙ্কর, হিমাচল প্রদেশের নেতা ও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডা, রাজস্থানের অশ্বিনী বৈষ্ণো, পাঞ্জাবের হরদীপ সিংহ পুরী।
এছাড়া লোকসভা সাংসদদের মধ্যে গুজরাটের অমিত শাহ, উত্তরপ্রদেশের রাজনাথ সিংহ, মনসুখ মাণ্ডবীয়, সিআর পাটিল, মহারাষ্ট্রের নিতিন গডকড়ী, পীযূষ গয়াল, আসামের সর্বানন্দ সোনোয়াল, কর্নাটকের প্রহ্লাদ জোশী, হরিয়ানার মনোহরলাল খট্টর, ওড়িশায় ধর্মেন্দ্র প্রধান, জুয়েল ওরাওঁ, মধ্যপ্রদেশের বীরেন্দ্র কুমার, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, শিবরাজ সিংহ চৌহান, রাজস্থানের ভূপেন্দ্র যাদব, গজেন্দ্র সিংহ শেখাওয়াত, বিহারের গিরিরাজ সিংহ ও তেলঙ্গানার জি কিষাণ রেড্ডি।
বিজেপির শরিক দলের পাঁচ পূর্ণমন্ত্রীর তালিকায় রয়েছেন তেলুগু দেশম পার্টির (টিডিপি) কিঞ্জারাপু রামমোহন নায়ডু, জনতা দল ইউনাইটেডের (জেডিইউ) রাজীবরঞ্জন (লল্লন) সিংহ, জনতা দল সেকুলারের (জেডিএস) এইচডি কুমারস্বামী, লোক জনশক্তি পার্টি রামবিলাসের (এলজেপি) চিরাগ পাসোয়ান, হিন্দুস্থান আওয়াম মোর্চার (হাম) জিতনরাম মাঝিঁ রয়েছেন।
এছাড়া শরিক দলের ছয়জন প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে শিবসেনার প্রতাপরাও যাদব, রাষ্ট্রীয় লোকদলের (আরএলডি) জয়ন্ত চৌধুরী, রিপাবলিকান পার্টি অব ইন্ডিয়া অঠওয়ালের (আরপিআই-এ) রামদাস অঠওয়ালে, জেডিইউর রামনাথ ঠাকুর, আপনা দলের (সোনেলাল) অনুপ্রিয়া পটেল ও টিডিপির চন্দ্রশেখর পেম্মাসানি।
বিজেপি থেকে প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন ৩৫ জন। পশ্চিমবঙ্গের শান্তনু ঠাকুর, সুকান্ত মজুমদার ছাড়া তালিকায় রয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের জিতেন্দ্র সিংহ, রাজস্থানের অর্জুন রাম মেঘওয়াল, ভগীরথ চৌধরি, মহারাষ্ট্রের মুরলীধর মোহল, উত্তরপ্রদেশের জিতিন প্রসাদ, পঙ্কজ চৌধরি, এসপি সিংহ বঘেল, কীর্তিবর্ধন সিংহ, বিএল বর্মা, কমলেশ পাসোয়ান, গোয়ার শ্রীপদ নায়েক, দিল্লির হর্ষ মলহোত্র, অন্ধ্রপ্রদেশের ভূপতিরাজু শ্রীনিবাস বর্মা, ছত্তীসগঢ়ের তোখন শাহু, হরিয়ানার কৃষ্ণপাল গুজ্জর, রাও ইন্দ্রজিৎ সিংহ, অসমের পবিত্র মার্গেরিটা, বিহারের নিত্যানন্দ রাই ও সতীশচন্দ্র দুবে।এছাড়া বিজেপির প্রতিমন্ত্রীদের তালিকায় আরো আছেন কর্নাটকের ভি সোমান্না, শোভা কারান্ডলাজে, কেরলের সুরেশ গোপী, তামিলনাড়ুর এল মুরুগান, উত্তরাখণ্ডের অজয় টামটা, মহারাষ্ট্রের রক্ষা খড়সে, তেলঙ্গানার বান্দি সঞ্জয় কুমার, ঝাড়খণ্ডের সঞ্জয় শেঠ, মধ্যপ্রদেশের দুর্গাদাস উইকে ও সাবিত্রী ঠাকুর, গুজরাতের নিমুবেন বাহ্মনিয়ার নাম রয়েছে। পাঞ্জাবের রভনীত সিংহ বিট্টু ও কেরলের জর্জ কুরিয়েন সংসদের কোনও কক্ষের সদস্য না হয়েও মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেয়েছেন।

সাত নারী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কারা?
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিপরিষদে জায়গা পেয়েছেন সাত নারী। এর আগের মন্ত্রিপরিষদে ১০ জন নারী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। অর্থাৎ এবার মোদির মন্ত্রিপরিষদে নারীর সংখ্যা কমেছে। সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি, প্রতিমন্ত্রী ভারতী পাওয়ার, সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতি, দর্শনা জারদোশ, মীনাক্ষী লেখি ও প্রতিমা ভৌমিক এবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি।

বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের এবার যেসব নারী স্থান পেয়েছেন, ভারতীয় গণমাধ্যম ও সোস্যাল মিডিয়ার সৌজন্যে এখানে তাদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হলো।

নির্মলা সীতারমণ
রাজ্যসভার সদস্য নির্মলা সীতারমণ আগের সরকারে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে যে দুজন নারী জায়গা পেয়েছেন, তাঁদেরই একজন সীতারমণ। তিনি মন্ত্রিপরিষদে তৃতীয়বার ঠাঁই পেলেন।

অন্নপূর্ণা দেবী (বিজেপি)
ঝাড়খন্ডের নেত্রী অন্নপূর্ণা দেবী এবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে স্থান পাওয়া দ্বিতীয় নারী। ঝাড়খন্ড রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির পক্ষে সমর্থন আদায়ে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অন্নপূর্ণা আগে আরজিডির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। ঝাড়খন্ড ও অবিভক্ত বিহারে রাজ্যপর্যায়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

সাবিত্রী ঠাকুর (বিজেপি)
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ৪৬ বছর বয়সী সাবিত্রী ঠাকুর। মধ্যপ্রদেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর এই নেত্রী ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ধার আসন থেকে জয়ী হয়েছেন। এর আগে ২০১৯ সালের নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন। তবে তখন তিনি মনোনয়ন পাননি।

 

Screenshot

নিমুবেন বামভানিয়া (বিজেপি)
গুজরাটে বিজেপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হওয়া তিন নারীর একজন নিমুবেন বামভানিয়া। গতকাল তাঁকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। ভাবনগর আসনে আম আদমি পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বী উমেশ মাকওয়ানাকে ৪ লাখ ৫৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন ৫৭ বছর বয়সী এই নারী। সাবেক এই শিক্ষক ২০০৯-১০ ও ২০১৫-১৮—এ দুই মেয়াদে ভাবনগরের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৩ থেকে ২০২১ সালের মধ্যবর্তী সময়ে বিজেপির নারী মোর্চা রাজ্যের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।

রক্ষা খারসে (বিজেপি)
সাবেক বিজেপি নেতা এবং মহারাষ্ট্রের তিনবারের এমপি একনাথ খারসের পুত্রবধূ রক্ষা খারসে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। ২০১৩ সালে স্বামী নিখিল মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচনে এনসিপি নেতা মনীশ জৈনর কাছে সামান্য ব্যবধানে হারার পর আত্মহত্যা করেন। এরপর ২০১৪ সালে রাভিরে মনীশ জৈনর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হন রক্ষা খারসে। ২০১৯ সালে তিনি আবারও নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এনসিপি প্রার্থী শ্রীরাম পাতিলের বিরুদ্ধে ২ লাখ ৭২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।

শোভা কারান্দলাজে (বিজেপি)
ধর্মীয় চরমপন্থার কঠোর সমালোচক শোভা কারান্দলাজে এবারও মোদির মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। আগের সরকারে কেন্দ্রীয় কৃষিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা এই নেত্রী তিনবারের লোকসভা সদস্য। শোভা এবার লোকসভা নির্বাচনে বেঙ্গালুরু নর্থ আসনে কংগ্রেস নেতা রাজিব গৌদাকে পরাজিত করেছেন। শোভা বেঙ্গালুরুর প্রথম নারী এমপি।

অনুপ্রিয়া প্যাটেল (আপনা দল)

অনুপ্রিয়া প্যাটেল আবারও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদে ফিরেছেন। কুর্মি সম্প্রদায়ের এই নেত্রী প্রয়াত নেতা ও আপনা দলের প্রতিষ্ঠাতা সোনিলাল প্যাটেলের মেয়ে। অনুপ্রিয়া আগের সরকারে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সমাজবাদী পার্টির নেতা রমেশ চাঁদ বিন্দকে উত্তর প্রদেশের মির্জাপুর আসনে পরাজিত করেছেন।