মকবুলা পারভীন
জুন নাকি বাংলাদেশে ভাইরাসের পিক টাইম ছিল! বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকদের মধ্যে কেউ কেউ বলছেন, গাণিতিক চার্ট অনুযায়ী এদেশে ভাইরাসটি এখন ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়বে।
এদিকে প্রতিদিন পত্রিকার একটা অংশে খবর থাকে যে, ‘উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু’। উপসর্গ তো এই – জ্বর, কাশি, সর্দি, গলা ব্যথা ইত্যাদি। এই উপসর্গ তো ইনফ্লুয়েঞ্জা, ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়াতেও দেখা দেয়। এই ভাইরাস আসার আগে ডাক্তাররা এর বিধানও দিতেন। এখন কোভিড-১৯ পরীক্ষার সনদ ছাড়া চিকিৎসাই নেই। আর পরীক্ষা করা তো মুখে বললেই হয়ে যায় না। সুযোগ সময় দুটোই লাগে। ঝামেলা তো আছেই। সে জন্যই বিনা চিকিৎসায় মানুষ মারা যাচ্ছে।
গত ২ জুলাই দৈনিক প্রথম আলো এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, দেশে করোনার সংক্রমণের লক্ষণ বা উপসর্গ নিয়ে ২৭ জুন পর্যন্ত মারা গেছেন দেড় হাজার মানুষ। সবশেষ সপ্তাহে এমন মৃত্যু হয়েছে ১৯৮ জনের। তার আগের সপ্তাহে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয় ২০৫ জনের।’
প্রশ্ন হলো, কিছু ক্ষেত্রে মৃতের নমুনা পরীক্ষার ফল পাওয়া যাচ্ছে নেগেটিভ। তাহলে তাদের মৃত্যুর কারণ কোন রোগ? নিউমোনিয়া? ব্রংকাইটিস না ইনফ্লুয়েঞ্জা?
বাংলাদেশ জল, জলা জংগল, সাপ, বিচ্ছু, মশা-মাছিরই দেশ ছিল একসময়। সর্দি-কাশি, জ্বর-জ্বালা, টনসিল ব্যথা, অন্ত্র, পরিপাকের অসুখ, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, ডেংগু, কালাজ্বর, নাবায় জর্জরিত দেশ। আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থায় এর কিছু উন্নতি লক্ষ্য করা গেলেও ছোঁয়াচে রোগ গুলো লুপ্ত হয়নি। যক্ষা আছে, কুষ্ঠ আছে, ডিপথেরিয়া আছে। পানি ও বায়ুবাহিত রোগ আছে। মানুষ যে খুব সাবধানে থাকে তা-ওনা। এসব রোগী অনায়াসে জন সমাগমে ঘুরে বেড়ায়।
কিন্তু ইনফ্লুয়েঞ্জা বা সার্সের মতই একটি রোগ বিশ্ব ঝাঁকিয়ে দিয়েছে।
এটা সহজে বেরিয়ে যাবে তা মনে করার কারণ নেই।
তাই, অতি সাবধানতা নিয়ে যতটুকু চলা যায়, এইভাবেই চলতে হবে হয়তো।
মকবুলা পারভীন, সাংবাদিক ও কথাশিল্পী
#
রূপশ্রী/এইচআর







