রূপশ্রী প্রতিবেদন
রবিবার (৩১ মে) ঢাকা: মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেশের এগারটি শিক্ষা বোর্ড থেকে গড়ে ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এবার পাসের হার কিছুটা বেড়েছে। গত বছর গড় পাসের হার ছিল ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ। এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ২০ লাখ ৪০ হাজার ২৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয় । যার মধ্যে ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৫২৩ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮ শিক্ষার্থী। এবারও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে আছে মেয়েরা। এবার মেয়েদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭০ হাজার ১৪৪ জন। আর ছেলেদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৫ হাজার ৭৫৪ জন। গত বছরও মেয়েরা এগিয়ে ছিলো।
রবিবার বেলা ১১টার দিকে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট থেকে ফেসবুক লাইভে ফলাফলের এসব বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। এরআগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এসএসসি ও সমমানের ফলাফল প্রকাশের ঘোষণা দেন। এ সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল উপস্থিত ছিলেন ।
দেশের করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার এসএসিস বা সমমানের ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভিড় ছিল না শিক্ষার্থীদের। তাই ছিল না শিক্ষার্থীদের দৃশ্যমান কোন উচ্ছাস। এবার শিক্ষার্থীরা তিন উপায়ে ফলাফল জানতে পেরেছেন। প্রি-রেজিস্ট্রেশন, এসএমএস ও বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে । কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফলাফল পাবে না আজ। তবে কাল ১ জুন বেলা ১২টা থেকে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা ইআইআইএন নম্বর ব্যবহার করে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল সংগ্রহ করতে পারবেন।চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।বিগত কয়েক বছর ধরে পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হলেও এবার করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে তা সম্ভব হয়নি।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, গত বারের তুলনায় এ বছর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৫ হাজার ৫৯৪ জন। এবার পেয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮ শিক্ষার্থী। গত বছর মেয়েদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫৩ হাজার ৪৮৪ জন। আর ছেলেদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫২ হাজার ১১০ জন।
এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৮২ দশমিক ৮৭ ভাগ । এরমধ্যে এসএসসিতে পাসের হার ৮২.৮৭ ভাগ। দাখিলে ৮২.৫১ ভাগ এবং কারিগরিতে ৭২.৭০ ভাগ। সার্বিক ফলাফলে দেখা গেছে, পাসের হারের দিক থেকে শীর্ষে আছে রাজশাহী বোর্ড। আর ঢাকা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তবে ফলাফলের দিক থেকে সবচেয়ে নিচে রয়েছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার। মাত্র ৭২ দশমিক ৭০ ভাগ।
ফলাফলে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৮২.৩৪ শতাংশ, রাজশাহী বোর্ডে ৯০.৩৭ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৮৫.২২ শতাংশ, যশোর বোর্ডে ৮৭.৩১ শতাংশ, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৮৪.৭৫ শতাংশ, বরিশাল বোর্ডে ৭৯.৭০ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে ৭৮.৭৯ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ডে ৮২.৭৩ শতাংশ, ময়মনসিংহ বোর্ডে ৮০.১৩ শতাংশ। এছাড়া, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাস করেছে ৮২.৫১ শতাংশ ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাস করেছে ৭২.৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী।
এদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে দুই লাখ ৭৬ হাজার ৮১৫ জনের মধ্যে ২ লাখ ২৮ হাজার ৪১০ জন পাস করেছে। পাসের হার ৮২.৫১ ভাগ। এছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার সবচেয়ে কম। এই বোর্ডে এক লাখ ৩১ হাজার ৯০৫ জনের মধ্যে ৯৫ হাজার ৮৯৫ জন পরীক্ষার্থী পাস করেছে। এই বোর্ডে পাসের হার ৭২ দশমিক ৭০ ভাগ।
জিপিএ-৫ :সারা দেশে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮ জন। এর মধ্যে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৬ হাজার ৪৭ জন। চট্টগ্রাম বোর্ডে ৯ হাজার ৮ জন, ময়মনসিংহ বোর্ডে ৭৪৩৪ জন, বরিশাল বোর্ডে ৪ হাজার ৪৮৩ জন, যশোর বোর্ডে ১৩ হাজার ৭৬৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। কুমিল্লা বোর্ডে ১০ হাজার ২৪৫ জন । রাজশাহী বোর্ডে ২৬ হাজার ১৬৭ জন। সিলেট বোর্ডে ৪ হাজার ২৬৩ জন । দিনাজপুর বোর্ডে ১২ হাজার ৮৬ জন। মাদ্রাসায় ৭ হাজার ৫১৬ জন, কারিগরিতে ৪ হাজার ৮৮৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
১০৪ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি :মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় ১০৪ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কেউই পাস করেনি। গত বছর কেউ পাস করেনি এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১০৭টি। তবে শতভাগ পাস করেছে এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এবার বেড়েছে। গত বছর শতভাগ পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল দুই হাজার ৫৮৩ টি। এবছর তা বেড়ে হয়েছে তিন হাজার ২৩টি।
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এবার বিভিন্ন দিক থেকে গতবারের তুলনায় ইতিবাচক ফলাফল হয়েছে। এবার এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ পাস করেছে এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গত বছরের চেয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৩টি। গত বছর যা ছিল দুই হাজার ৫৮৩টি।
এসময় করোনাভাইরাসের কারণে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় এবারের এসএসসি ফলাফল প্রকাশে ডাক বিভাগের বিশেষ সহযোগিতা নেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, গণপরিবহন বন্ধ থাকায় পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র পরিবহনের জন্য ডাকবিভাগের সহযোগিতা নেওয়া হয়।এছাড়া প্রধান পরীক্ষকের নিরীক্ষিত ওএমআর শিটগুলোও ডাক বিভাগ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডে পৌঁছে দিয়েছে। এর ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়।
রূপশ্রী/তাইয়্যেবা







