উদযাপিত হচ্ছে কোরবানীর ঈদ

979

রূপশ্রী প্রতিবেদন

ঢাকা: যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভির্যের সাথে দেশব্যাপি উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। বন্যা ও করোনা মহামারীর মধ্যে এবার বাঙালী মুসলমানের জীবনে এসেছে মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম এই ঈদ উৎসব। মহান রব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এই ঈদে পশু করেবানী করা হয় বলে একে কোরবানির ঈদও বলা হয়। করোনা মহামারি বিস্তার রোধে এবার জাতীয় ঈদগাহসহ দেশের কোনো ঈদগাহে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি।স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাষ্ট্রপিত আবদুল হামিদ বঙ্গভবনের দরবার হলে ঈদুল আজহার ঈদের নামাজ আদায় করেন। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয় আজ শনিবার সকাল ৭টায়। এতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান। নামাজের আগে মসজিদে মাইক থেকে বারবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে জামাতে অংশ নিতে বলা হয়। মসজিদে প্রবেশ পথে বসানো হয় জীবাণুনাশক স্প্রেবুথ। মসজিদের দক্ষিন দিকের রাস্তায় দাঁড়িয়েও অনেককে ঈদ জামাতে অংশ নিতে দেখা গেছে। অধিকাংশ মুসল্লি স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুখে মাস্ক পরলেও অনেকের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব মানতে অনীহা দেখা গেছে। নামাজ শেষে আল্লাহর কাছে করোনা মহামারি, বন্যাসহ সব ধরনের বালা-মুছিবত থেকে মুক্তির জন্য দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। অনেককে মুখে মাস্ক পড়ে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ে জন্য কোলাকুলি করতেও দেখা গেছে।

এবার রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহসহ দেশের কোনো ঈদগাহ ও খোলা মাঠে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের ছয়টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ষষ্ঠ ও সর্বশেষ জামাত অনুষ্ঠিত হয় বেলা সোয়া ১১টায়। অনেকে ঘরে পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেছন।

ঈদ জামাত থেকে ফিরে সামর্থ্যবানরা পশু কোরবানী করে, মেতে উঠেছেন গোস্ত তৈরী ও ভাগ-বাটোয়ার কাজে। কোরবানীর গোস্ত তিনভাগ করে নিজেদের জন্য একভাগ রেখে আত্মীয়-পরিজন ও গরীব দুস্থদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া সুন্নাত। নিজের টাকায় কেনা গোস্ত সবার মাঝে বিলিয়ে দেয়ার মাধ্যমেই কোরবানী দাতারা মহান রব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য চেষ্টা করে থাকেন। এজন্য এই ঈদকে কোরবানির ঈদও বলা হয়।

পবিত্র কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর আত্মত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এই ঈদুল আজহা। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তিনি নিজ পুত্র ঈমাইলকে (আ:) কোরবানী করতে উদ্যত হয়েছিলেন। তাঁর আন্তরিকতায় সন্তুষ্ট হয়ে মহান রাব্বুল আলামীন বেহেস্ত থেকে ফেরশতার মাধ্যমে দুম্বা পাঠিয়ে ইব্রাহীম (আ:) -এর কোরবানী বা আত্মত্যাগের ইচ্ছাকে কবুল করে নেন। এজন্য তিনি পেয়েছেন মুসলিম বিশ্বের জাতির পিতার মর্যাদা। হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নাত অনুসারেই এদিন পশু কোরবানি করা হয়ে থাকে।

চলমান করোনা ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে এবারের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে পড়েছে। তারপরও পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের উৎসবে শামিল হতে অনেকে ছুটে গেছেন গ্রামের বাড়ি। আত্মীয় পরিজনকে সাথে সামিল হয়েছেন পশু কোরবানীতে। মেতে উঠেছেন কোরবানীর গোস্ত বিতরণের কাজে।

#

রূপশ্রী/এইচবি/ধর্ম/ইসলাম/ঈদ