স্বামীর সব সম্পত্তিতে ভাগ পাবেন হিন্দু বিধবারা : হাইকোর্ট

1361

রূপশ্রী প্রতিবেদন

ঢাকাঃ

বিগত ৮৩ বছর ধরে স্বামীর কৃষি জমিতে কোনো প্রাপ্য ছিল না হিন্দু বিধবাদের। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে এই অসঙ্গতি দূর করে হাইকোর্ট রায় দিয়েছে। এ রায়ের ফলে বাংলাদেশের হিন্দু বিধবারা স্বামীর কৃষি-অকৃষি সব সম্পত্তিতে ভাগ পাবেন। এ সংক্রান্ত একটি মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে এই রায় দেন হাইকোর্টের বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর একক বেঞ্চ। এ রায়ের ফলে হিন্দু নারীরা স্বামীর সম্পত্তিতে অধিকারের স্বীকৃতি পেলেও এখনো হিন্দু মেয়েরা পিতার সম্পত্তিতে  ভাগ পায় না।

১৯৯৬ সালে বিধবারা স্বামীর সব সম্পত্তির ভাগ পাওয়ার অধিকার রাখে না দাবি করে খুলনা কোর্টে মামলা করেন জনৈক এক নারীর দেবর জ্যোতিন্দ্রনাথ মন্ডল। বিচারিক আদালত ওই মামলার রায়ে বলেন, বিধবারা স্বামীর অ-কৃষি জমিতে অধিকার রাখলেও কৃষি জমির অধিকার রাখেন না। এরপর সে রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা হয়। অবশেষে উভয়পক্ষের দীর্ঘ শুনানি এবং বিশেষজ্ঞ আইনজীবীদের মতামত নিয়ে হাইকোর্ট তার রায়ে বললেন, হিন্দু বিধবা নারীরা অ-কৃষি জমির মতো স্বামীর কৃষি জমির মালিক হবেন। মামলা সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উজ্জ্বল ভৌমিক এই মামলার এমিকাস কিউরি হিসেবে আদালতকে সহায়তা করেন। আইনজীবী উজ্জ্বল ভৌমিক পরে সাংবাদিকদের জানান, ১৯৪৭ সালে ইন্ডিয়ান ফেডারেল কোর্টের এ সংক্রান্ত এক মামলার রায়ে কৃষিজমিতে অংশীদারিত্ব হারায় হিন্দু বিধবা নারীরা, যা পরবর্তীকালে ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশের আইনে সংযুক্ত করা হয়। তবে হাইকোর্টের এ রায়ের ফলে ৮৩ বছর পর স্বামীর সম্পত্তিতে অধিকার ফিরে পেলেন হিন্দু বিধবা নারীরা।

বিবাদীর (গৌরী দাসী) আইনজীবী সৈয়দ নাফিউল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, এত দিন স্বামীর রেখে যাওয়া বসত ভিটায় (অকৃষি জমি) হিন্দু বিধবা নারীর অধিকার ছিল, যা তিনি ভোগ-দখল করতে পারতেন। এই রায়ের মাধ্যমে কৃষি-অকৃষি সম্পত্তিতে বিধবা নারীর অংশীদারত্বের অধিকার নিশ্চিত হলো।

হিন্দু পরিবারের কন্যা ও স্ত্রীর সম্পত্তির অধিকারের বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজল দেবনাথ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রচলিত আইনে হিন্দু কন্যারা পিতার সম্পত্তিতে কোন ভাগ পায় না। বিধবা স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তি আমৃত্যু ভোগ করতে পারেন; বিক্রয় করতে পারেন না। তাছাড়া, বিধবা স্ত্রী মারা গেলে সে সম্পত্তি ও হিন্দু বিধবা সম্পত্তি আইন অনুযায়ী স্বামীর উত্তারাধিকারীদের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়।

কাজল দেবনাথ জানান, হাইকোর্টের সর্বশেষ রায়ের ফলে নিম্ন আদালতের ভুল ব্যাখ্যা থেকে রক্ষা পেয়েছে বিধবা হিন্দু নারীরা। তবে, হিন্দু উত্তরাধিকার আইন ভারতে সংশোধন করা হলেও বাংলাদেশের হিন্দু নারীরা আগের মতোই বঞ্চিত থাকছে।

বাংলাদেশের সংবিধানে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে। নারী নীতিতেও বলা হয়েছে সমান অধিকারের কথা। কিন্তু সম্পত্তিতে এ দেশের হিন্দু নারীর উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠা পায়নি এতকাল। এ রায়ের ফলে হিন্দু নারীরা স্বামীর সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারের স্বীকৃতি পেলেও পিতার সম্পত্তিতে এখনো উত্তরাধিকার নেই তাদের।

রূপশ্রী/এম এস