ভেজাল প্রসাধনীর ভিড়ে আসল চেনাই দায়

964

রূপশ্রী ডেস্ক

শুক্রবার (১৫ মে) ঢাকা: দেশি-বিদেশি বিখ্যাত সব ব্র্যান্ডের প্রসাধনীর মোড়ক নকল করে তা বাজারজাত করা হচ্ছে বাংলাদেশে। চীন, মালয়শিয়া, সিঙ্গাপুর থেকে বৈধ-অবৈধ দুই পথেই আসছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আসল ও নকল টিউব/কৌটা ও বাহারি মোড়ক। তারপর ঢাকায় এসব মোড়কের আদলে তৈরী ও মুদ্রণ হচ্ছে ভেজাল প্রসাধনী। বিক্রি হচ্ছে আসল দামে। পুরান ঢাকা, যাত্রাবাড়ি, কেরাণীগঞ্জ, উত্তরাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠেছে এসব ভেজাল আর নকল পণ্যের কারখানা। বিক্রি হচ্ছে ফুটপাত থেকে নামি দামী মার্কেটেও। অথচ এসব নকল পণ্য ব্যবহারে স্বাস্থ্যের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।

কসমেটিকস দোকানগুলোতে রকমারি এসব বিদেশি পণ্যের সমারোহে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। বিশ্বের সব নামকরা ব্র্যান্ডের প্রসাধনসামগ্রী থরে থরে সাজানো। মোড়ক দেখে কারও বোঝার সাধ্য নেই কোনটি আসল আর কোনটি নকল। হাত বাড়ালেই মিলছে নকল আর ভেজাল প্রসাধনী। কী নেই নকলের তালিকায়?

যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যানটিন প্রো-ভি শ্যাম্পু, গার্নিয়ার, হেড অ্যান্ড শোল্ডার, ল’রেল, রেভলন ও প্যানটিন, নিভিয়া লোশন, লাক্স লোশন, মাস্ক লোশন, অ্যাকুয়ামেরিন লোশন, ফেড আউট ক্রিম, ডাভ সাবান, ইমপেরিয়াল সাবান; সুগন্ধির মধ্যে হুগো, ফেরারি, পয়জন, রয়েল, হ্যাভক, কোবরা। কিংবা অলিভ অয়েল, কিওকারপিন, আমলা, ভ্যাসিলিন হেয়ার টনিক, জিলেট ফোম, আফটার সেভ লোশন, জনসন, প্যানটিন প্রোভি ও হারবাল অ্যাসেনশিয়াল লোশন।

অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট দফতরের অসাধু কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় নকল ও ভেজাল পণ্যের বড় সিন্ডিকেট কাজ করে যাচ্ছে বছরের পর বছর। এতে প্রতি বছর শত শত কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। এসব পণ্য পরীক্ষা করে দেখা গেছে, নকল পণ্যে যেসব কেমিক্যাল ব্যবহার হয় তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও টিভি চ্যানেলের অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু রাজধানীর পুরান ঢাকা, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, সাভার, কেরানীগঞ্জ, উত্তরা, গাজীপুর জেলার টঙ্গীসহ আশপাশের এলাকায় নকল প্রসাধনসামগ্রী তৈরির তিন শতাধিক কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় গোপনে ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশিয়ে ভেজাল ও নকল প্রসাধনী বানানো হয়। এসব কারখানা থেকে বিভিন্ন হাত ঘুরে নকল প্রসাধনী চলে যাচ্ছে দেশের বড় সুপারশপ, বিপণিবিতানসহ মফস্বল শহরে।

জানা যায়, বড় বড় শপিংমল ও বিপনী বিতানে এসব ভেজাল ও নকল প্রসাধনী বিক্রির সময় বিদেশ থেকে এসব পন্য আমদানির কাগজপত্র দেখিয়েই অসাধু ব্যবসায়ীদের এজেন্টরা এসব পণ্য সরবরাহ করে। সরকারের বিভিন্ন অভিযানের সময় দেখা যায় এসব কাগজপত্র ভুয়া ও জাল। এতে বড় বড় শপিং মলের ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্থ হতে হচ্ছে। বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরে অসাধু ব্যবসায়ীদের এজেন্ট আছে।

বিএসটিআইয়ের অভিযানে দেখা যায়, নকল প্রসাধনীতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর  রাসায়নিক ‘মারকিউরি’ অতিরিক্ত পরিমাণে ব্যবহার করা হয়। এর সঙ্গে অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিকও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এসব রাসায়নিক ব্যবহারে মানবদেহের ফুসফসে ও চামড়ায় মারাত্মক ক্ষতি হয়। এক বছর বা তার বেশি সময় নকল ও ভেজাল প্রসাধনী ব্যবহারে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

#

রূপশ্রী/এইচ