কিংবদন্তি সঙ্গীতজ্ঞ আলাউদ্দিন আলীর চির বিদায়

1103

রূপশ্রী প্রতিবেদন

১০ আগস্ট, ঢাকাঃ

হাজারো কালজয়ী গানের সুরস্রষ্টা কিংবদন্তি সঙ্গীতজ্ঞ আলাউদ্দিন আলী (১৯৫২২০২০) চলে গেলেন মায়ার সংসার ছেড়ে। তিনি গতকাল ৯ আগস্ট ৫টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

বাংলা গানের ভূবনে আলাউদ্দিন আলী একাধারে সুরকার, সংগীত পরিচালক, গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পী। তার মৃত্যুতে বাংলা গানের একটি যুগের পরিসমাপ্তি ঘটলো। দেশ বরেণ্য এই সুরকার ও সংগীত পরিচালক মোট ৮ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁর সুর করা অসংখ্য শ্রুতিমধুর গান বাংলা গানের ভাণ্ডারকে করে তুলেছে সমৃদ্ধ। বাংলা গানের ইতিহাসে এই সুর সম্রাটের অবদান অনস্বীকার্য ।

‘একবার যদি কেউ ভালোবাসতো / যে ছিল দৃষ্টির সীমানায় / প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ / ভালোবাসা যতো বড়ো, জীবন তত বড় নয় / দুঃখ ভালোবেসে প্রেমের খেলা খেলতে হয় / হয় যদি বদনাম হোক আরও / আছেন আমার মুক্তার, আছেন আমার বারিস্টার / সুখে থাকো ও আমার নন্দিনী / সূর্যোদয়ে তুমি, সূর্যাস্তেও তুমি / ভেঙেছে পিঞ্জর, মেলেছে ডানা / যেটুকু সময় তুমি থাকো কাছে / এমনও তো প্রেম হয়, চোখের জলে কথা কয় / সবাই বলে বয়স বাড়ে, আমি বলি কমে রে / আমায় গেঁথে দাও না মা গো / শত জনমের স্বপ্ন, তুমি আমার জীবনে এলে / কেউ কোনো দিন আমারে তো কথা দিল না / পারি না ভুলে যেতে, স্মৃতিরা মালা গেঁথে / জন্ম থেকে জ্বলছি মাগো / কী বা জাদু জানো / হায়রে কপাল মন্দ চোখ থাকিতে অন্ধ’ – এ রকম হাজারো কালজয়ী গানের সুরস্রষ্টা তিনি। তাঁর সৃষ্ট গানের সংখ্যা ৫ হাজারের বেশি। ১৯৭৮  সাল থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত তিনি টানা তিনবার  জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে পুরস্কৃত হয়ে সংগীত পরিচালক হিসেবে রেকর্ড গড়েছিলেন। যে রেকর্ড আজও কেউ ভাঙতে পারেনি।

দেশ বরেণ্য এই কিংবদন্তি গীতিকার ও সুরকার দীর্ঘদিন ধরেই ফুসফুসের প্রদাহ ও রক্তে সংক্রমণসহ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। ২০১৫ সালের জুন মাসে আলাউদ্দীন আলীর শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর থেকে তিনি কয়েক দফায় বিদেশেও চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে তিনি সেভাবে আর উঠে দাঁড়াতে পারেননি। ফিরতে পারেননি স্বাভাবিক জীবনে, সংগীতে। শনিবার ভোরে তাকে রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

গুণী এই মানুষের জন্ম  হয়েছিল ১৯৫২ সালের ২৪ ডিসেম্বর মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বাঁশবাড়ি গ্রামে। তার বাবা ওস্তাদ জাদব আলী। মায়ের নাম জোহরা খাতুন।

মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শেষ শয্যায় সমাহিত হয়েছেন বাংলা গানের ভুবনের উজ্জ্বলতম জ্যোতিষ্ক আলাউদ্দিন আলী। তাঁর মৃত্যুর খবরে শোক নেমে এসেছে দেশের সংগীতাঙ্গনে। আমরা তাঁর রূহের মাগফিরাত কামনা করি।

রূপশ্রী/এমএস