নাদিয়া আফরীন খান
৭ জুলাই, ঢাকাঃ
সম্ভাবনাময় নারী পর্বতারোহী, রেশমা নাহার রত্না আজ শুক্রবার সকালে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।পর্বতারোহী, দৌড়বিদ এবং সাইক্লিস্ট রত্না প্রাত্যহিক অনুশীলন শেষে সাইকেলে বাড়ী ফেরার সময় মাইক্রোবাসের চাপায় মৃত্যুবরন করেন। আনুমানিক সকাল ৯টায় রাজধানীর সংসদ ভবনের পাশে চন্দিমা উদ্যান এলাকায় এই দূর্ঘটনা ঘটে। দূর্ঘটনার পরপরই গাড়িটি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এখনো ঘাতক গাড়ির হদিস মেলেনি।
রেশমা নাহার রত্না নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার ধোপাদহ গ্রামের কৃতি সন্তান মুক্তিযোদ্ধা বীর বিক্রম আফজাল হোসেন সিকদারের কন্যা।


রত্না পেশায় ধানমন্ডির আইয়ুব আলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষিকা পরিচয়ের বাইরে, দেশের নতুন প্রজন্মের নারী পর্বতারোহীদের মাঝে ছিলেন অন্যতম। তিনি ভারতে অবস্থিত নেহেরু মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট থেকে বেসিক এবং এডভান্সড মাউন্টেরিয়ারিং কোর্স সম্পন্ন করেন। গত বছরেই কোর্স শেষে লাদাখে ছয় হাজার মিটার পর্বত আরোহণে অভিযান চালান। সফলভাবে লাদাখের স্টক কাংরী পর্বতের শিখরে ছুঁয়েছেন তিনি। জয় করেছিলেন আফ্রিকার সর্বোচ্চ চূড়া কিলিমাঞ্জারো। স্বপ্ন দেখতেন একদিন এভারেস্টের শিখরে দাঁড়াবেন।
নিয়মিত ট্রেকিং ও পর্বতারোহণের পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে তিনি যুক্ত ছিলেন । বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নানা শিক্ষামূলক কার্যক্রমের সাথেও তিনি নিয়মিত কাজ করেছেন। দেশে- বিদেশে অংশগ্রহণ করেছেন একাধিক হাফ-ম্যারাথন প্রতিযোগিতায়। এবার ফুল-ম্যারাথনে অংশগ্রহণের জন্যেই নিয়মিত দৌড় অনুশীলন করছিলেন তিনি। প্রতিদিনের মত সকালের ২০ মিনিটের অনুশীলন শেষে হাতিরঝিল থেকে মিরপুরে বাসায় ফেরার সময় এই দূর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
এই মর্মান্তিক দূর্ঘটনায় রত্নাকে হারিয়ে দেশের পর্বতারোহী মহলে নেমেছে শোকের ছায়া। ঘাতকের উপযুক্ত বিচার ও শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন বন্ধুমহল ও সুশীল সমাজ। “নিরাপদ সড়ক আন্দোলন”-এ সোচ্চার রত্না নিজেই জীবন দিলেন খোদ রাজধানীর অনিরাপদ সড়কে।
রূপশ্রী/এমএস








