সারাদেশে শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত স্বল্প আয়ের মানুষ; ঢাকার তাপমাত্রা নামতে পারে ১১ ডিগ্রিতে

683

রূপশ্রী প্রতিবেদন

২০ ডিসেম্বর, ঢাকাঃ

সারা দেশে চলছে মৌসুমের প্রথম শৈত্যপ্রবাহ, বাড়তে শুরু করেছে শীতের তীব্রতা । ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, যশোর, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ চলছে, যা অব্যাহত থাকতে পারে  বলে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে। শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, চলতি শীত মৌসুমের প্রথম মৃদু ও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলছে, যা আগামী চার থেকে পাঁচ দিন স্থায়ী হতে পারে। ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে কোথাও কোথাও ঘন কুয়াশাও থাকতে পারে।

এদিকে পাল্লা দিয়ে নামতে শুরু করেছে ঢাকার তাপমাত্রাও। মাত্র ২৪ ঘণ্টায় শনিবার ঢাকার তাপমাত্রা কমেছে তিন ডিগ্রি। এদিন ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, তাপমাত্রা আরও কমে যেতে পারে। আগামী দুই-একদিন এ অবস্থা চলবে। এরপর থেকে আবার বাড়তে শুরু করবে তাপমাত্রা।

আন্তর্জাতিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ওয়েদার ফোরকাস্ট জানিয়েছে, রবিবার ভোরে ঢাকার তাপমাত্রা নেমে আসতে পারে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকেই দ্রুত নামতে শুরু করবে তাপমাত্রা।

আবহাওয়া অফিস জানায়,  উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং আশেপাশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত অবস্থান করছে। মৌসুমি লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। এছাড়া অন্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।

গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রংপুর বিভাগের রাজারহাটে ৬ দশমিক ৬ যা, গতকাল ছিল তেঁতুলিয়ায় ৯। এ হিসেবে তাপমাত্রা কমেছে প্রায় ৩ ডিগ্রি। রাজারহাট ছাড়াও ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেছে এমন এলাকাগুলো হচ্ছে টাঙ্গাইলে ৬ দশমিক ৮, সৈয়দপুরে ৭, চুয়াডাঙ্গা ও বদলগাছিতে ৭ দশমিক ৫, দিনাজপুর ও ঈশ্বরদীতে ৭ দশমিক ৬, তেঁতুলিয়ায় ৭ দশমিক ৮, রাজশাহী ও যশোরে ৮, শ্রীমঙ্গলে ৮ দশমিক ১, বগুড়া ও ডিমলায় ৮ দশমিক ৫, রংপুরে ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা।  এছাড়া ১০-এর নিচে আছে ফরিদপুর,  মাদারিপুর,  গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ,  নেত্রকোনা, তাড়াশ, কুমারখালি,  বরিশাল ও ভোলা। এছাড়া অন্য এলাকগুলোর তাপমাত্রাও কমে এখন ১৬ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই আছে।

এদিকে শৈত্যপ্রবাহ চলার কারণে কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল হাওয়ায় প্রচণ্ড শীতে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ বিশেষ করে দিন মজুর, নির্মাণ ও কৃষি শ্রমিকরা পড়েছে চরম বিপাকে। বস্তি এলাকায় খড়কুটো জ্বালিয়ে অনেককে শীত নিবারণ করতে দেখা গেছে। সকালে ও রাতে ঘন কুয়াশা থাকায় হেড লাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করেছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি দেশের সবচেয়ে উত্তরে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়াতে। সেদিন তেঁতুলিয়াতে ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।

বড় এলাকাজুড়ে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে এলে আবহাওয়াবিদরা তাকে বলেন মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। থার্মোমিটারের পারদ ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে এলে তাকে মাঝারি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে ধরা হয়।

রূপশ্রী/ এম এস