ফ্রান্সের পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয় পেয়েছে রাশিয়ার মিত্র লে পেনের দল

497

ঢাকা, রূপশ্রী ডেস্ক: ফ্রান্সের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রথম রাউন্ডে জয় পেয়েছে মেরিন লে পেনের ন্যাশনাল র‍্যালি পার্টি। দলটি রাশিয়ার মিত্র বা প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে মার্কিন মিত্র প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর জোটের।
ফ্রান্সে এই প্রথম কট্টর ডানপন্থী একটি দল হয়েও নির্বাচনে সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ লাভ করেছে ন্যাশনাল র‍্যালি পার্টি।

সোমবার (১ জুলাই) ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৩০ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৫৭৭টি আসনের মধ্যে ৭৬ জন সংসদ সদস্য প্রথম দফাতেই ৫০ শতাংশের বেশী ভোট পেয়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
এর মধ্যে রয়েছেন মারিন লা পেনের জোট থেকে ৩৯ জন, বাম জোট থেকে ৩২ জন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর জোট থেকে দু’জন, রক্ষণশীল এলআর থেকে একজন এবং অন্যান্য ডান দল থেকে দু’জন।
যারা প্রথম দফায় ৫০ ভাগ ভোট পাননি আগামী ৭ জুলাই দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে তারা অংশ নিবেন। এদিন ৫০১টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
গত ৯ জুন ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভরাডুবির পর ফ্রান্সের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ বা ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ভেঙে দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। রবিবার (৩০ জুন) প্রথম দফায় ফ্রান্সের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির মোট ৫৭৭টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।


সোমবার (১ জুলাই) সকালে ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে। এতে দেখা যায় প্রথম দফায় ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন ৭৬ জন সংসদ সদস্য। এসব প্রার্থী প্রদত্ত ভোটের ৫০ শতাংশের বেশি পেয়েছেন বলে তাদের আর দ্বিতীয় দফায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে না।

ন্যাশনাল ব়্যালির বিজয়ে মার্কিন মিত্রদের উদ্বেগ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গঠিত কর্তৃত্ববাদী ‘ভিসি রেজিম’র পর ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো কট্টর ডান আদর্শের কোনও দল ভোটের ফলাফলে প্রথম স্থানে উঠে এসেছে। এর মধ্য দিয়ে আগামী ৭ জুলাই প্যারিসের ক্ষমতা ন্যাশনাল ব়্যালির হাতে যাওয়া সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিশ্বব্যাপী মার্কিন মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কারণ ফ্রান্স জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের একটি। আরএন ক্ষমতায় এলে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ফ্রান্সের অবস্থানে ব্যাপক পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। দলটি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।


এর আগে নির্বাচনে অর্থ যোগাড়ে রাশিয়ান ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলেন মারিন লা পেন। এই ঘটনাও তার রাশিয়া সংশ্লিষ্টতাকে আরও পরিষ্কার করে তুলেছে। ক্রেমলিনের সঙ্গে আরএনের এই ঘনিষ্ঠতা কিয়েভের জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ। এই যুদ্ধে এখন ইউক্রেনের সবচেয়ে কাছের মিত্রদের একটি প্যারিস।
এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর আগাম নির্বাচনের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত ‘বুমেরাং’ হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকবিরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। ম্যাক্রোঁর শরিকদের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং জোটের বড় শরিকদের কারও সাথে আলাপ না করেই পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার মতো আত্নঘাতী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, প্রথম দফায় ২৯ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছে মারিন লা পেনের নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থী ন্যাশনাল ব়্যালি (আরএন)। জোটসঙ্গী রক্ষণশীল রিপাবলিকান দলের একটি অংশের ভোট যোগ করলে কট্টর ডান জোটের মোট প্রাপ্ত ভোট দাঁড়ায় ৩৩ দশমিক ১৫ শতাংশে।
অন্যদিকে, ২৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে নতুন বাম জোট নিউ পপুলার ফ্রন্ট (এনএফপি)। তবে নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সমর্থিত ‘টুগেদার’ জোটের। তারা ২০ দশমিক শূন্য চার শতাংশ ভোট পেয়েছে। রিপাবলিকান (এলআর) দলের যে অংশটি একক নির্বাচন করেছে তারা পেয়েছে ৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ ভোট।
যেসব প্রার্থী প্রথম দফা নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যার অন্তত ১২ দশমিক পাঁচ শতাংশ ভোট পাবেন, তারা ৭ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় দফায় লড়ার সুযোগ পাবেন।
সূত্র: সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’ ও অনলাইন