দীর্ঘদিনের অবহেলার শিকার স্বাস্থ্য খাত: ডা. জুবাইদা রহমান

21
ঢাকা (বুধবার, ৬ মে): কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৫০ শয্যার আইসিইউ ইউনিটের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত দীর্ঘদিনের অবহেলার শিকার। সরকারি হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত চাপের মুখে। স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরুৎসাহিত আর সেবার বণ্টনও অসম। মানসম্মত চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার এখনো লাখো মানুষের কাছে প্রতিদিনের সংগ্রাম। গতকাল কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিটের পাশাপাশি প্যাথলজি প্যাভিলিয়ন ও গ্যাস্ট্রোলিভার সেন্টারেরও উদ্বোধন করেন ডা. জুবাইদা রহমান। এ সময় তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রোগীদের খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে ‘স্বাস্থ্যসেবার সমতা প্রতিষ্ঠায় ঢাকা-১৭ এর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন’ শীর্ষক আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি আরও বলেন, মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ মানুষকে নিজ পকেট থেকে দিতে হয়। ফলে অসুস্থতা এখনো দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি অঙ্গীকারের আলোকে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় আরও বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত প্রমুখ।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘কড়াইল, ভাসানটেক, সাততলার মানুষ এ শহরকে সচল রাখে। পোশাকশিল্প, নির্মাণ-সবখানে তাদের শ্রম। অথচ তারাই সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। আমাদের লক্ষ্য এসব এলাকার মানুষ যাতে আর চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।’ ঢাকা-১৭ এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে তিনি বলেন, ‘এ এলাকাগুলোর প্রায় ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ফার্মেসির ওপর নির্ভর করে। তারা অসুস্থ হওয়ার সুযোগ পায় না। কারণ অসুস্থতা মানেই আয় বন্ধ। আমরা চাই এ এলাকার কেউ আর চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না থাকুক। আমরা চাই নবজাতক থেকে বয়স্ক-সবাই যেন সহজে চিকিৎসা পায়। অন্তঃসত্ত্বা মায়েরা জটিল সমস্যার চিকিৎসাও দ্রুত পেতে পারেন। জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্স সেবা তাদের হাতের নাগালে থাকতে হবে।’ এ ক্ষেত্রে তিনি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অনেক মানুষ এখনো জানেন না, তাদের কাছেই এমন একটি হাসপাতাল আছে, যেখানে তারা সেবা পেতে পারেন। এ তথ্য তাদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আমরা আশাবাদী বিএনপি সরকারের আমলে একটি দ্রুত গুণগত পরিবর্তন আসবে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি মৌলিক সমতা প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রত্যেক নাগরিক যাতে সমানভাবে চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন সেটা নিশ্চিত করা হবে।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরকার সীমিত সম্পদের স্বচ্ছতা, সততা ও মানবিকতা দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে চিকিৎসা খাতে পরিবর্তন আনতে সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, কুর্মিটোলা হাসপাতালকে বিশেষায়িত হাসপাতাল করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করাই সরকারের চ্যালেঞ্জ।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন