টিউশনি করে জিপিএ-৫ পেল তহুরা

712

দিয়া ফারহাত

১২ জুলাই, ঢাকাঃ

“ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়” “পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি” এই প্রবাদগুলি আবারো প্রমাণ করে দেখালো চা বিক্রেতার মেয়ে সারাবান তহুরা। বরিশালের মেয়ে তহুরা এবছর এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। পরিবারের আর্থিক অস্বচ্ছলতায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তার পড়াশোনা। কিন্ত তহুরা হার মানেনি। পড়াশোনার প্রতি অদম্য ইচ্ছায় সে শুরু করে টিউশনি। এভাবে টিউশনি করেই এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সে জিপিএ-৫ পেয়েছে।

তহুরা বরিশালের গৌরনদী উপজেলার উত্তর বিজয়পুর গ্রামের বাসিন্দা। সে সরকারি গৌরনদী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এস এস সি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তার বাবা রফিকুল ইসলাম (৫০) । বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি একটা সময় সৌদি আরবে ছিলেন। সেখান থেকে উপার্জিত অর্থে বেশ চলছিল সংসার। কিন্তু ২০১৫ সালে দেশে ফেরার পরই সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। ওপেন হার্ট সার্জারি চিকিৎসার খরচ মেটাতে ভিটেমাটি সব বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে যান। এখন চা বিক্রি করে কোনোমতে বেঁচে আছেন।

অর্থাভাবে ২০১৭ সালে মেয়ের লেখাপড়া বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন রফিকুল। তবে তহুরার ইচ্ছাশক্তি ছিল প্রবল।  তহুরা টিউশনি করে পড়াশোনা করার ইচ্ছা ব্যক্ত করে। পরে মেয়ের ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মানেন। আবার স্কুলে যেতে শুরু করে সে। এভাবে লেখাপড়া করেই তহুরা জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পায়। এতে তার মনোবল আরও বেড়ে যায়। দিনে ছাত্র পড়িয়ে, রাতে নিজের পড়াশোনা করেছে তহুরা। ঠিকমতো বইখাতা কিনতে পারেনি। সহপাঠীদের কাছ থেকে বই এনে নোট তৈরি করেছে। মাঝেমধ্যে না খেয়েই স্কুলে যেতে হয়েছে তাকে। তবে এসব কষ্টই সে ভুলে গেছে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার আনন্দে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. অলি উল্লাহ বলেন, সারাবান তহুরা খুবই মেধাবী। তাকে পৃষ্ঠপোষকতা দিলে ভবিষ্যতে অনেক ভালো করতে পারবে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

রূপশ্রী/টিআর