ঘূর্ণিঝড় রিমাল তাণ্ডবে নিহত ১০: ক্ষতিগ্রস্থ ৩৭ লাখ ৫৮ হাজার মানুষ

286

রুপশ্রী প্রতিবেদন, ঢাকা: দেশের দীর্ঘস্থায়ী ঘূর্ণিঝড় রিমাল তাণ্ডবে বিভিন্ন জেলায় এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে দুই শিশুসহ ১০ জন।সরকারি হিসাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৩৭ লাখ ৫৮ হাজার মানুষ।
ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছাসে ভেঙেছে বাঁধ, ডুবে গেছে ফসলি জমি, ভেসে গেছে ঘেরের মাছ, গৃহপালিত পশু, বাড়ির আসবাব, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট।
গতকাল রাত ৮টায় প্রবল শক্তি নিয়ে ঘূর্ণিঝড় রিমাল বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানে।

প্রবল শক্তি নিয়ে গতকাল আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় রিমাল। জলোচ্ছ্বাসে বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। সন্ধ্যা ৬টার পরই ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রভাগ উপকূলে আঘাত হানে। এসময় মোংলাসহ সমদ্র ও নদী বন্দরগুলোতে জারিছিল ১০ নং মহাবিপদ সংকেত। আঘাত করার সময় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার, যা ঝোড়ো হাওয়া আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছিল। একইসঙ্গে জোয়ারের পানি বেড়ে জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে বাগেরহাট, পটুয়াখালী, বরগুনা, খুলনা, সাতক্ষীরা, কক্সবাজারসহ উপকূলীয় জেলাগুলো। এরপর ঘূর্ণিঝড়টি ৮ ঘণ্টার সময় নিয়ে উপকূল অতিক্রম করে। তবে এবারও ঘূর্ণিঝড়ের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে সুন্দরবন।

এদিকে মোংলার বাসিন্দা নৌকার মাঝি শাহ আলম রয়টার্সকে বলেছেন, তিনি গত কয়েক দশকের মধ্যে এত দীর্ঘ ঘূর্ণিঝড় আর দেখেননি। সাধারণত ঝড় কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। কিন্তু এই ঝড় গত রাত থেকে চলছে। আমি জানি না এটা কখন শেষ হবে।’’

আজ দুপুরে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে ঘূর্ণিঝড় রিমাল বৃষ্টি ঝরিয়ে দুর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর বিস্তার লাভ করেছে। ফলে রাজধানীসহ দেশের সব বিভাগেই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। নিম্নচাপে প্রভাব মঙ্গলবারও (২৮ মে) থাকতে পারে।

আজ সোমবার (২৭ মে) বিকেলে ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান জানিয়েছেন ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে ১ লাখ ৫০ হাজার ৪৭৫ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে দেশের বিভিন্ন জেলায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। তাদের মধ্যে দুইজন নারী ও আটজন পুরুষ। তারা হলেন খুলনার লালচাঁদ মোড়ল, বরিশালের জালাল সিকদার, মো. মোকলেছ ও লোকমান হোসেন, সাতক্ষীরার শওকত মোড়ল, পটুয়াখালীর মো. শরীফ, ভোলার জাহাঙ্গীর, মাইশা ও মনেজা খাতুন এবং চট্টগ্রামের সাইফুল ইসলাম হৃদয়।

দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের আগেই ৮ লাখ মানুষকে উপকূলের ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছ। দুর্যোগকবলিত মানুষের সাহায্যে আমরা ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের অনুকূলে ছয় কোটি ৮৫ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে। যার মধ্যে ১৫টি জেলায় জি আর (ক্যাশ) তিন কোটি ৮৫ লাখ নগদ টাকা, পাঁচ হাজার ৫০০ টন চাল, পাঁচ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য কেনার জন্য এক কোটি ৫০ লাখ ও গোখাদ্য কেনার জন্য এক কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে।