করোনা রোগীর প্রতি ঘৃণা বিদ্বেষ প্রতিরোধেও কাজ করেছে হাঙ্গার প্রজেক্টের স্বেচ্ছাসেবীরা

726

রূপশ্রী প্রতিবদেন

৫ জুলাই, ঢাকা: বাংলাদেশে কর্মরত আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছসেবী সংগঠন ‘দি হাঙ্গার প্রজেক্টে’র স্বেচ্ছসেবীরা করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় কাজ করতে গিয়ে করোনা রোগীর প্রতি ঘৃণা বিদ্বেষ প্রতিরোধেও কাজ করেছে। এ বিষয়ে যশোর অঞ্চলের স্বেচ্ছাব্রতীরা তাদের কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, যশোর অঞ্চলে শুরুতে তারা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে করোনা নিয়ন্ত্রণ ও প্রশমন কমিটি গঠন করেন। তারপর জনগণের মধ্যে করোনার ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মাস্ক পরা, হাত ধোয়া, করোনার লক্ষণ ও উপসর্গ সম্পর্কে এলাকাবাসীকে জানানো হয়। তৃতীয় ধাপে কোভিড-১৯ ব্যস্থাপনা কার্যক্রমের অংশ হিসাবে আইসোলেশন সহযোগিতা, টেলিমেডিসিন, রোগীর প্রতি ঘৃণা বিদ্বেষ প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়।  শেষ ধাপে অভাব ও সমস্যাগ্রস্থদের সহায়তা করা হয়।

গতকাল শনিবার দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর উদ্যোগে ‘করোনাভাইরাস সহনশীল গ্রাম: তৃণমূলের স্বেচ্ছাব্রতীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা’ শীর্ষক অনলাইন সংলাপ অনুষ্ঠানে এভাবেই নিজেদের সাফল্য তুলে ধরেন তারা। ভারতের কেরালা মডেলে যশোরের তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের স্বেচ্ছাসেবীরা। সংলাপে যশোর অঞ্চলের স্বেচ্ছাব্রতীরা তাদের কাজের অভিজ্ঞতা তুলের ধরেন। তারা জানান, যশোর জেলায় ৫টি উপজেলার ১৯৯টি গ্রামে চার ধাপে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সংলাপটি পরিচালনা করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম মজুমদার। সংলাপে আরো অংশ নেন আইসিডিআর এর উপদেষ্টা জনাব ড. মুশতাক   হোসেন, হু-এর আঞ্চলিক পরিচালক ডা. মোজাহেরুল হক, অধ্যাপক রুবায়াত ফেরদৌস, এ¤পাওয়ার-এর প্রধান নির্বাহী মৃদুল  চৌধুরী ও জাগরীরি অন্যতম উদ্যোক্তা মহারুখ মহিউদ্দিন প্রমূখ।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ভারতের কেরালায় করোনা মোকাবিলায় সাফল্যের পিছনে একটা বড় কারণ হচ্ছে স্থানীয় সরকারের ভূমিকা এবং কমিউনিটি স¤পৃক্ততা। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে ১৯৯৬ সালে শুরু হওয়া ‘পিপলস প্ল্যানিং’ ক্যাম্পেইন বা স্থানীয় পর্যায়ে গণপরিকল্পনা প্রণয়নের আন্দোলন। সেখানে করোনাভাইরাস মহামারির শুরুতেই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রত্যেক ওয়ার্ডে নির্বাচিত সদস্যের নেতৃত্বে ‘রেপিড রেস্পন্ডার’ টিম গঠন করা হয়। সকল স্বাস্থ্যকর্মী, পঞ্চায়েত কর্মী ও স্বাস্থ্যখাতের সকল স্বেচ্ছাসেবীরা এই টিমের অংশ। এই টিমের সদস্যরা কমিউনিকেশনের অংশ হিসেবে তারা মানুষকে হাত ধোওয়া, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, মাস্ক পরা ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্পর্কে  সচেতন করেছে। বাংলাদেশেও দি হাঙ্গার প্রজেক্টের স্বেচ্ছাব্রতীরা কমিউনিটিকে স¤পৃক্ত করে বিভিন্ন কাজ করে চলেছেন।

আইসিডিআর এর উপদেষ্টা ড.  মুশতাক হোসেন বলেন, ভাইরাস এখন ঢাকার বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করে কমিউনিটি আইসোলেশন ব্যবস্থা করতে হবে। আইসোলেশনে থাকা রোগিদের খাবারের জন্য কেরালার মতো কমিউনিটি কিচেন ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

মৃদুল চৌধুরী বলেন, স্বেচ্ছাব্রতীদের এসব কার্যক্রম অন্ধকারের মধ্যে আশার আলো। তাদের বিভিন্ন কার্যক্রমের ডকুমেন্টেশন করে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। যাতে ব্যক্তি উদ্যোগে যারা এ ধরনের কাজ করছেন তারা আরো সংগঠিত হতে পারবেন।

অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক বলেন, কমিউনিটির সম্পৃক্ততা ছাড়া করোনা মোকাবিলা সম্ভব না। কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করে সঠিকভাবে কাজগুলো করতে হবে। তথ্য শধু প্রচার করলেই হবে না, সঠিক তথ্য প্রচার করতে হবে। যাদের মৃদু উপসর্গ আছে তাদের বাড়িতে আইসোলেশন, মাঝারি উপসর্গধারীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

স্বেচ্ছাব্রতীরা যশোর জেলার কার্যকক্রমের সাফল্য তুলে ধরে জানান, যশোর এ পর্যন্ত সচেতনতা সৃষ্টির আওতায় এসেছেন ৪ লক্ষ ৭৯ হাজার ৫৩৫ জন মানুষ। লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৬২৪টি, সাবান বিতরণ করা হয়েছে ৩৬ হাজার ৭১টি, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮৯৭টি এবং জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়েছে ৯২ হাজার ২৫১ লিটার। এছাড়া সর্বমোট ১ কোটি ৭ লক্ষ ৪৯ হাজার ৪৯০ টাকা নগদ ও দ্রব্যাদি আকারে স্বচ্ছল, প্রবাসী এবং বিত্তবানদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। অগ্রাধিকার তালিকা থেকে ১৯ হাজার ১৩৬টি অভাবগ্রস্থ ও কর্মহীন পরিবারে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সরকারি সহায়তায় আনা হয়েছে ২৭ হাজার ৩৫৯টি পরিবারকে।

#

রূপশ্রী/এইচআর