করোনা ও বন্যা থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর সাহায্য চেয়ে ঈদুল আজহা পালিত

772

রূপশ্রী প্রতিবেদন
শনিবার, ঢাকা: বাংলাদেশের মসজিদে মসজিদে আল্লাহর কাছে করোনা মহামারির গজব ও বন্যাসহ সব ধরনের দুর্যোগ ও বালা-মুছিবত থেকে মুক্তির জন্য সাহায্য চেয়ে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে এবার পালিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। দেশের বন্যা উপদ্রুত সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার মসজিদে পানি থাকায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের খোলা নৌকায় ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। একসাথে বন্যা ও করোনা মহামারীর মোকাবেলা করে এবার বাঙালী মুসলমানেরা উদযাপন করেছেন মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম এই ঈদ উৎসব। এরইমধ্যে মহান রব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য অনেক সামর্থ্যবানরা পশু কোরবানী করেছেন। এই ঈদে পশু কোরবানী করা হয় বলে একে কোরবানির ঈদও বলা হয়।
রাজধানীতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৭টায়। করোনা মহামারি বিস্তার রোধে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহসহ দেশের কোনো ঈদগাহ ও খোলা মাঠে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত ঈদুল আজহার বিশেষ ঈদ জামাতে নামাজ আদায় করেন। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রধান জামাতসহ ঈদের ছয়টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ষষ্ঠ ও সর্বশেষ জামাত অনুষ্ঠিত হয় বেলা সোয়া ১১টায়। মসজিদে প্রবেশ পথে বসানো হয়েছিল জীবাণুনাশক ¯েপ্র বুথ। অধিকাংশ মুসল্লি স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুখে মাস্ক পরলেও মসজিদের উত্তর পাশে ভিড়ের কারণে কিছু মুসল্লীদের স্বাভাবিক নিয়মে কাধে কাধে মিলিয়ে নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে। ভিড়ের কারণে মসজিদের দক্ষিন দিকের রাস্তায় দাঁড়িয়েও অনেক মুসল্লীকে ঈদের নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে। নামাজ শেষে আল্লাহর কাছে নিজেদের গুনাহর জন্য ক্ষমা চেয়ে মুসল্লীরা কান্নাকাটি করেন।

এসময় করোনা মহামারি, বন্যাসহ সব ধরনের বালা-মুছিবত থেকে মুক্তির জন্যও দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। একই সাথে দেশ জাতি ও জনগণের কল্যাণ ও বিশেষ করে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া করা হয়েছে। ঈদের নামাজ শেষে অনেককে মুখে মাস্ক পড়ে কোলাকুলি করে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা গেছে।
দেশের যেখানে যারা পেড়েছেন ঈদ জামাত থেকে ফিরে মহান রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পশু কোরবানী করেছেন। ইসলামের বিধান অনুযায়ী কোরবানীর গোস্ত তিনভাগ করে নিজেদের জন্য একভাগ রেখে আত্মীয়-পরিজন ও গরীব দুস্থদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া সুন্নাত। নিজের টাকায় কেনা গোস্ত সবার মাঝে বিলিয়ে দেয়ার মাধ্যমেই কোরবানী দাতারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য চেষ্টা করে থাকেন।
পবিত্র কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর আত্মত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এই ঈদুল আজহা। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তিনি নিজ পুত্র ঈমাইলকে (আ:) কোরবানী করতে উদ্যত হয়েছিলেন। তাঁর আন্তরিকতায় সন্তুষ্ট হয়ে মহান রাব্বুল আলামীন বেহেস্ত থেকে ফেরশতার মাধ্যমে দুম্বা পাঠিয়ে ইব্রাহীম (আ:) -এর কোরবানী বা আত্মত্যাগের ইচ্ছাকে কবুল করে নেন। এজন্য তিনি পেয়েছেন মুসলিম বিশ্বের জাতির পিতার মর্যাদা। হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নাত অনুসারেই এদিন পশু কোরবানি করা হয়ে থাকে। কোরবানীর পশুর চামড়া দান করে দেওয়া হয় মাদ্রাসার গরীব ছাত্রদের পড়াশোনার খরচ চালাতে ও এতিম খানার ব্যয় নির্বাহ করতে। তবে এবারও পশুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে খুবই কম দামে।
বিশ্ব্যাপী চলমান করোনা ও দেশে চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে এবারের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে পড়েছে। দেশে করোনায় আক্রান্ত হাজার হাজার মানুষ। অনেকে হারিয়েছেন তাদের প্রিয়জন। অনেকের স্বজন বাড়িতে বা হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন মৃত্যু যন্ত্রণায়। পাঁচমাস ধরে দেশে এক ধরনের লকডাউন চলমান থাকায় অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে পরাস্ত হয়েছে লক্ষ লক্ষ পরিবার। ফলে এবার অনেকেই পশু কুরবানি করতে পারেননি। তারপরও পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের উৎসবে শামিল হতে অনেকে ছুটে গেছেন গ্রামের বাড়ি। আত্মীয় পরিজনকে সাথে সামিল হয়েছেন পশু কোরবানীতে। মেতে উঠেছেন কোরবানীর গোস্ত বিতরণের কাজে। এছাড়া দেশের বন্যা উপদ্রুত অনেক জায়গায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বন্যাদুর্গত লোকজনের মাঝে ঈদ উপহার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছেন বলে জানা গেছে।
#
রূপশ্রী/এইচবি/ধর্ম/ইসলাম/ঈদ