করোনা আক্রান্ত নারীর ফুটফুটে পুত্রসন্তান

1029

রূপ্রশ্রী প্রতিবেদন

মঙ্গলবার (১২ মে), ঢাকা: পুলিশের সহযোগিতায় এক হতদরিদ্র পরিবারের করোনা আক্রান্ত এক অন্তঃসত্ত্বা নারী এক ফুটফুটে এক পুত্রসন্তানের মা হয়েছেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে শিশুটির  জন্মের পর মা ও নবজাতককে বাসায় পাঠানো হয়েছে। শিশুটি সুস্থ আছে। শিশুর মা আগের চেয়ে ভালো আছে। জ্বর নেই বর্তমানে। সাতদিন পর নবজাতকের করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হবে। এসময়ের মধ্যে শিশুকে মা তার বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। কারণ মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ায় এমন কোনও প্রমাণ মেলেনি এখনও। তবে নবজাতকের মুখে বা গায়ে মায়ের চুম্বন দেওয়া থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বংশাল থানা পুলিশ সূত্রে এ তথ্য পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন ফকির সাংবাদিকদের বলেন, কামরুন্নাহারকে গত ৬ মে করোনাভাইরাস পরীক্ষা ও গাইনি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য নিয়েছিলাম। এরপর থেকে করোনাভাইরাস আক্রান্ত অন্তঃসত্ত্বা নারী কামরুন্নাহারের স্বামী মো. জাহিদুর রহমানের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। সেখানে চিকিৎসা শেষ আমরা তাকে বাসায় রেখেছিলাম। ১১ মে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জাহিদুর রহমান আমাকে ফোন করে তার স্ত্রীর প্রসব ব্যথা ওঠার কথা জানান। তিনি আরও জানান, স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে যোগাযোগ করেও কোনও অ্যাম্বুলেন্স জোগাড় করতে পারেননি। এরপর আমরা তাকে সুরক্ষা দিয়ে আমাদের গাড়িতে করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে কামরুন্নাহার পুত্রসন্তান জন্ম দেন। নবজাতক সুস্থ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাদের বংশালে কসাইটুলীর বাসায় নিয়ে আসা হয়েছে।

মা করোনা আক্রান্ত হলেও নবজাতককে মায়ের কাছ থেকে আলাদা না করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এ বিষয়ে ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি, ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ (আইইডিসিআর)-এর অন্যতম উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভূমিষ্ঠ হওয়া নবজাতককে মায়ের সঙ্গেই রাখতে হবে। মায়ের উষ্ণতা ও স্পর্শ নবজাতকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাই আলাদা করার দরকার নেই। তবে মাকে আলিঙ্গন ও বুকের দুধ দেওয়ার সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। করোনা আক্রান্ত মা তার নবজাতককে মুখে, চোখে চুমু খাবেন না, বুকের দুধ দেওয়ার সময় মা আগে মাস্ক পরে নেবেন এবং নবজাতকের মুখে পাতলা কাপড় দিয়ে নেবেন। সতর্ক হয়ে হাঁচি কাশি দেবেন।’

তিনি আরো বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো গবেষণা করে দেখেছে, সংক্রামক রোগে আক্রান্ত মায়েদের থেকে সন্তানদের আলাদা করে রাখলে যতটা লাভ তার চেয়ে ক্ষতি বেশি। তাই নবজাতককে তার মায়ের সঙ্গেই রাখার পরামর্শ দিয়েছেন এসব সংস্থার বিশেষজ্ঞরা।

ইউনিসেফ বাংলাদেশ তাদের ওয়েবসাইটে বলেছে, ‘করোনাভাইরাস আতঙ্কে মায়ের দুধ খাওয়ানো বা মায়ের ত্বকের স্পর্শ (ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার) থেকে শিশুকে বঞ্চিত করা যাবে না। এমনকি মা কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হলেও কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে শিশুর সংস্পর্শে আসতে পারবেন।

শিশুকে স্পর্শ করার আগে এবং শিশুকে দুধ খাওয়ানোর আগে ও পরে ভালো করে সাবান ও পানি দিয়ে (অন্তত বিশ সেকেন্ড), অথবা অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ডরাব দিয়ে হাত পরিষ্কার করে নিতে হবে তাকে। সবসময় মাস্ক পরতে হবে, বিশেষত শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর সময়। শ্বাস-প্রশ্বাস বিষয়ক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। আর পরিবারের অন্য সদস্যদের যেসব জায়গা আক্রান্ত মায়ের সংস্পর্শে এসেছে সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করতে হবে।’

হাসপাতাল থেকে করোনা আক্রান্ত ওই মা ও তার শিশুকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে পুলিশ| চিকিৎসকরা নিয়ম-কানুন বলে দিয়েছেন। আমরা সেগুলো অনুসরণ করছি। হাসপাতালে অনেক করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী থাকায় চিকিৎসককে অনুরোধ করে তাদের বাসায় নিয়ে এসেছি। চিকিৎসক আমাদের সোমবার সন্ধ্যায় ছাড়পত্র দিয়েছেন।’

কামরুন্নাহারের স্বামী জাহিদুর রহমান একটি কাগজের দোকানে চাকরি করেন। তাদের ছয় বছর বয়সী আরেকটি পুত্রসন্তান রয়েছে। তাদের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে।