রূপশ্রী ডেস্ক
মঙ্গলবার (১৯ মে), ঢাকা: পৃথিবীর সেরা শব্দ মা। এই মা নিজের জীবন তুচ্ছ করে সন্তানকে গড়ে তুলতে চান একজন সেরা মানুষ হিসেবে। সন্তানের শান্তি ও সুখেই মায়ের আনন্দ। চাই সে কুঁড়ে ঘরে থাক বা রাজ প্রাসাদে। সন্তান মানুষের মতো মানুষ হলে, মানুষের কল্যাণে সন্তান কাজ করছে, মানুষ খুশি হয়ে তার সন্তানের প্রশংসা করছে, দোয়া করছে-তখন মায়ের চেয়ে খুশি আর কেউ হয়না। আর সেই সন্তান যদি সমাজ বা রাষ্ট্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায় তখন সন্তান্তের সাফল্যে মা হন গর্বিত।
আজ আমরা রূপশ্রীর পাঠকদের এমন একজন সফল ও সম্ভ্রান্ত মায়ের গল্প বলবো। যিনি আজ রাজমাতার গৌরব অর্জন করেছেন। তিনি সন্তানকে এমন মানবিকভাবে গড়ে তুলেছেন যে, সেই ছেলে আজ দেশের গৌরব। এমনকি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে এই গৌরব বিশ্বের দেশে দেশে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে। সমগ্র বিশ্বের অবহেলিত, নিপীড়িত ও অসহায় মানুষের জন্য তিনি এখন আশার আলো হয়ে উঠেছেন।
তিনি বিশ্বের বৃহত্তম দেশ চীনের রাজমাতা ছি স্যিন। যার গর্ভে জন্ম নিয়েছেন আজকের আধুনিক চীনের সফল প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। যিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থেকেও মায়ের কথা সবসময় মনে রাখেন। আর একজন রাষ্ট্রপ্রধানের মা হিসেবে ছি স্যিন আশা করেন, সি চিন পিং রাষ্ট্র ও জনগণের দায়িত্ব পালন করবেন সুষ্ঠুভাবে।
রেডিও চীনের আন্তর্জাতিক সম্প্রচার কর্তৃপক্ষ বাংলা ভাষার শ্রোতা ও পাঠকদের জন্য এবিষয়ে তাদের অনলাইন সংস্করণে দু’টি ফটো ফিচার প্রকাশ করেছেন।
সেখানে বলা হয়েছে, ‘ছি স্যিন বহু বছর ধরে কঠোরভাবে সন্তানকে মানুষ করেছেন। এ জন্য তাকে পরিশ্রম করতে হয়েছে প্রচুর। অবস্থা যত কঠিন হোক না কেন, ছি স্যিনের প্রথম কাজ ছিল সন্তানের শিক্ষাদান।’
ছেলের কর্মময় ব্যস্ত জীবন সম্পর্কে সেখানে মায়ের অনুভূতি তুলে ধরা হয়েছে, এভাবে, ‘সি চিন পিং কাজের জন্য প্রায় সময়ই বাড়ি ফিরতে পারেন না। কিন্তু তাঁর মা ছি স্যিন কোনো নালিশ করেন না।’ তিনি শুধু ছেলেকে বলেন, ‘তুমি শুধুমাত্র নিজের কাজ ভালভাবে করলে তা বাবা-মায়ের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ পাওয়া। যতক্ষণ তুমি নিজের কাজটি ভালভাবে করবে, ততক্ষণ মা ও বাবার কাছে এটি সর্বশ্রেষ্ঠ ধার্মিকতা।’
২০১৫ সালে চীনের বসন্ত উৎসবের এক অনুষ্ঠানে মাতৃভক্ত চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এর সম্মানে চীনের প্রাচীনকালের থাং রাজবংশের কবি মেং জিয়াও’র একটি কবিতাটি পাঠ করা হয়। যেখানে বলা হয়েছে,
“উদার মায়ের হাতের সুতা
বুনে চলেন ছেলের জন্য পোশাক
খুব সাবধানে তিনি জামা সেলাই করেন…”
মায়ের কথা মেনে চলেন সি চিন পিং
রাষ্ট্র পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত থেকেও চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং মায়ের কথা কখনো ভুলেন নি|মেনে চলেন মায়ের কথা| মাতৃভক্ত চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের অফিসে কয়েকটি পারিবারিক ছবি দেখে সেটার প্রমাণও পাওয়া যায়।
এর মধ্যে একটি ছবিতে তিনি তাঁর মায়ের হাত ধরে হাঁটছেন। ছবিটি অসংখ্য মানুষকে মুগ্ধ করেছে। এই ছবিসহ অফিসে রাখা ছবিগুলো সাক্ষ্য দেয়, তিনি মায়ের কথা কখনো ভুলে যাননি। এ বিষয়ে চীনের সম্প্রচার কর্তৃপক্ষ চীনের রাষ্ট্রপতির অনুভূতি তুলে ধরেছেন এভাবে,
‘সি চিন পিং বলেন, বাবা-মা’র উচিত সন্তানকে ছোটবেলা থেকে ভালো নৈতিক শিক্ষা দেওয়া। তাদের সুন্দর মন গড়ে তোলা ও স্বাস্থ্যকর বৃদ্ধি নিশ্চিত করা উচিত। (যাদের) বড় হয়ে দেশ ও জনগণের জন্য উপকারী ব্যক্তি হতে হবে।’
‘এ ধরণের পরিবারে সি চিন পিংয়ের মতো সফল ও ভাল মানুষ গড়ে তোলা সম্ভব।’
সি চিন পিং আরো বলেন, ‘মা তাঁকে বলেছিলেন, যতক্ষণ তুমি নিজের কাজটি ভালভাবে করবে, ততক্ষণ মা ও বাবার কাছে এটি সর্বশ্রেষ্ঠ ধার্মিকতা।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার দেশ-প্রশাসনের ধারণা আসলে জনগণের সেবা করা এবং নিজের দায়িত্ব পালন করা। এটি কখনো পরিবর্তন হবে না।’
চীনের আন্তর্জাতিক সম্প্রচার কর্তৃপক্ষ লেখার সমাপনী টেনেছেন, ‘সি চিন পিং নিজের বাবা-মার মতো জনগণকে ভালবাসেন’ বাক্যের মাধ্যমে।
রূপ্রশী/এইচ







