ঈদ বাজারে দাম কমেনি গরম মসলার

1167

রূপশ্রী ডেস্ক

শনিবার (২৩ মে) ঢাকা: পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মসলার দাম কমানো ঘোসণা দেয়া হলেও বাজারে তা কার্যকর হয়নি। রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে কোথাও মসলার দাম কমেনি। এমনকি দোকানে টানানো তালিকার দামের সাথেও  মিল নেই বিক্রির দামে। অথচ গত ১৩ মে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ওবায়দুল আজমের সঙ্গে বৈঠকের পর গরম মসলার দাম ১০ থেকে ২৫ শতাংশ কমানোর ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতি। এ বৈঠকের পর বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ও বাণিজ্যসচিব মো. জাফর উদ্দীনের সঙ্গেও আলাদা বৈঠক করে গরমমসলা ব্যবসায়ী সমিতি। এসময় পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মতো গরম মসলার মূল্য স্থিতিশীল রাখার বিষয়ে তারা একমত পোষণ করেন।

শনিবার রাজধানীর কাওরান বাজার ব্যবসায়ীরা জানান, বাংলাদেশ পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতি যে দাম ঘোষণা করেছে, বেধে দেয়া সেই দামের সর্বোচ্চ দর থেকে বাজারে নূন্যতম ২০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪০ টাকা বেশি দামেনা বেচা চলছে। এ বিষয়ে ব্যবসায়ী এক কথা বেশি দামে মসলা কেনা পড়েছে বলে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

কাওরান বাজারে শনিবার দেখা যায় জিরা (ভারত) প্রতি কেজি ৩৬০ থেকে ৪২০ টাকা, দারুচিনি (চীন) কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, দারুচিনি (ভিয়েতনাম) কেজি ৪৫০ থেকে ৪৭০ টাকা, লবঙ্গ কেজি ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা, এলাচি কেজি ৩ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার টাকা, গোলমরিচ (সাদা) ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা এবং গোলমরিচ (কালো) ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা দরে কেনাবেচা হচ্ছে।

গত ১৩ মে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতি গরম মসলার মূল্য তালিকা ঘোষণা করেছে। তাতে বলা হয়েছিল, এখন থেকে খুচরা বাজারে জিরা (ভারত) প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকা, দারুচিনি (চীন) কেজি ৩১০ থেকে ৩৩০ টাকা, দারুচিনি (ভিয়েতনাম) কেজি ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকা, লবঙ্গ কেজি ৬৮০ থেকে ৭২০ টাকা, এলাচি কেজি ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা, গোলমরিচ (সাদা) ৫৫০ থেকে ৫৮০ টাকা এবং গোলমরিচ (কালো) ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকা দরে কেনাবেচা হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. এনায়েত উল্লাহ বলেন, কেউই আমাদের নির্ধারিত দামের চাইতে বেশি নেয়ার কথা না। যদি কারো মসলা আগের মজুদ থেকে থাকে তাহলে সে ক্ষেত্রে সে হয়তো কিছুটা দাম বাড়তি নিতে পারে। তবে খুচরা ব্যবসয়ীরা প্রফিট মার্জিন কিছুটা বেশি করে। সেক্ষেত্রে খুচরা ব্যবসায়ীরা মসলার দাম কিছুটা বাড়তি নিতে পারে। তিনি জানান, ঘোষণা দেয়ার সরকার আমাদেরকে বাধ্য করেনি। আমরা বুঝেশুনে মসলার দাম দিয়েছি।  তিনি দাবি করেন, প্রতিটি মসলার দামই গত বছরের চেয়ে এবছর অনেকটাই কম। আমাদের সমিতির সদস্য প্রতিটি ব্যবসায়ী সমিতির বেঁধে দেয়া দামেই মসলা বিক্রি করছে এবং পরবর্তী ঘোষণা  না দেয়া পর্যন্ত দাম বাড়ার সুযোগ নেই। ক্রেতাদের প্রশ্ন হলো, তাহলে যেসব দোকানদার বাড়তি দাম নিচ্ছেন, তারা কারা?

রূপশ্রী/এইচ