ঢাকা, রূপশ্রী ডেস্ক: ইরানের নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, “আমরা হিজাব আইনকে শ্রদ্ধা জানাব। কিন্তু নারীদের প্রতি কখনো বাড়াবাড়ি এবং অমানবিক আচরণ করা হবে না।” তাই প্রশ্ন উঠেছে ইরানের নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিজাব নীতি কী বদলাতে পারবেন?
গতকাল শুক্রবার ইরানের দ্বিতীয় দফা বা রান অফ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ১ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৪০৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ইসলামী বিপ্লবের অনুসারী ও পশ্চিমা আদর্শের বিরোধী হিসাবে পরিচিত কট্টরপন্থি নেতা সাঈদ জালিলিকে ২৮ লাখ ৪৬ হাজার ২২৪ ভোট পরাজিত করেন। নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন ইরানের সাবেক সংস্কারবাদী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি। এছাড়া ২০২২ সালে পুলিশ স্টেশনে মাহসা আমিনি নিহত হলে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানানোর দাবি জানিয়েছিলেন পেজেশকিয়ানে। তাই পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থন রয়েছে তার প্রতি।


বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মাসুদ পাজেশকিয়ান এমন একজন ব্যক্তি যাকে বিশ্বশক্তি স্বাগত জানাবে। তাদের আশা থাকবে, পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে ইরানের সঙ্গে পশ্চিমাদের যে উত্তেজনা চলছে সেটি সমাধানে তিনি শান্তিপূর্ণ পন্থা অবলম্বন করবেন।
এছাড়া পশ্চিমাদের সঙ্গে ২০১৫ সালে করা পারমাণবিক চুক্তিটিও পুনর্জীবিত করার অঙ্গিকারও করেছেন তিনি। ‘অখ্যাত’ এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ আরও বলেছেন, তিনি সামাজিক স্বাধীনতার পক্ষে এবং রাজনৈতিক একত্ববাদের বিরুদ্ধে কাজ করবেন।
ইরানে রয়েছে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা। ক্ষমতার মূল কেন্দ্রে রয়েছেন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা। পারমাণবিক কার্যক্রম ও মধ্যপ্রাচ্যে সশস্ত্র যোদ্ধাদের সহায়তা নিয়ে ইরানের যে নীতি রয়েছে সেটি বদলে ফেলার খুব বেশি ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। কারণ প্রধান ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি রাষ্ট্রের সব বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।
তবে প্রেসিডেন্ট চাইলে নীতি পরিবর্তনে প্রভাব রাখতে পারবেন। এছাড়া আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরাধিকারী নির্বাচনের বিষয়টিও খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করবেন তিনি।
চলতি বছরের মে মাসে এক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। তার আকস্মিক মৃত্যু হওয়ার পর দেশটিতে আগাম এই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দফা ভোটে কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় দ্বিতীয় দফা ভোটে জয় পেয়েছেন মাসুদ।
ইব্রাহিম রাইসি ছিলেন ইসলামী বিপ্লবের কট্টরপন্থি রাজনীতিবিদ। তার সময়ে হিজাব আইন বিধিভাবে পালিত হয়। এছাড়া যারা হিজাব ছাড়া বাইরে বের হতেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতা দেখানো হতো।
হিজাব নিয়ে নয়া প্রেসিডেন্টের অবস্থান
মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম ধাপে ভোট দিয়ে বলেছিলেন, “আমরা হিজাব আইনকে শ্রদ্ধা জানাব। কিন্তু নারীদের প্রতি কখনো বাড়াবাড়ি এবং অমানবিক আচরণ করা হবে না।”
৬৯ বছর বয়সী হার্ট বিশেষজ্ঞ মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, তিনি বাস্তবধর্মী একটি পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করবেন।
ধর্মীয় নেতার প্রতি আনুগত্যের প্রশ্ন
নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান টিভি ও সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে একাধিকবার বলেছেন, তিনি খামেনির নীতিগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন না। এছাড়া ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও শক্তিশালী নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার কোনো ইচ্ছাও তার নেই।
তবে মাসুদ ভোটারদের এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, নির্বাচনের আগে তিনি যেসব প্রতিশ্রতি দিয়েছেন; যদি সেগুলো পূরণ না করতে পারেন তাহলে রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। শুধু শুধু সময় নষ্ট করবেন না।







